পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন লাখ লাখ মানুষ। নাড়ির টানে আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শুরু হয়েছে এই চিরচেনা বাড়ি ফেরার পালা। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী অভিমুখী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পনেরো থেকে ত্রিশ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন সরজমিনে কমলাপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম পরিদর্শন করেন এবং অনলাইন টিকিট সংগ্রহ ও সামগ্রিক সেবার বিষয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রথম দিনে বড় কোনো ভোগান্তি না থাকায় যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও তারা ট্রেনের সেবার মান আরও বাড়ানোর দাবি জানান, যা ধাপে ধাপে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, এবার বড় ধরনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে গত ঈদুল ফিতরের মতো পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া কিংবা কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ঘাটতি মেটাতে ঈদের সময় পঁচাশটি মিটারগেজ ইঞ্জিন সার্বক্ষণিক সচল রাখার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেল পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে এবং টিকিট ছাড়া কেউ যাতে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী চাপের কারণে পঁচিশ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র্যাব, পুলিশ, আনসার ও এপিবিএন সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন এবং ছিনতাই ও পকেটমার ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীরা যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগের জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এদিকে সড়কপথে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ঈদের আগের তিনদিন এবং পরের তিনদিনসহ মোট সাত দিন অর্থাৎ পঁচিশে মে থেকে একত্রিশে মে পর্যন্ত মহাসড়কে সব ধরনের ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, পচনশীল দ্রব্য, পোশাক সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিশেষ মোবাইল নম্বরও চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরের পথে ঈদযাত্রার ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য কমাতে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ঈদের আগ মুহূর্তে অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাইওয়ে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ এই কড়া পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর মোড়ে নবনির্মিত একশো ষাট মিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ, যা রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথকে অনেক সহজ করবে এবং যানজট কমাবে বলে আশা করছেন সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
নৌপথের যাত্রীদের জন্য এবার বড় সুখবর এনেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। সদরঘাট টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দশ শতাংশ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে নদীপথে নতুন চারটি লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা ও সময়সূচি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য নামাজের জায়গা, অসুস্থ ও প্রবীণদের জন্য হুইলচেয়ার, ট্রলি সেবা এবং চিকিৎসকের বিশেষ দল দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে নৌপথ নিরাপদ রাখতে তেইশে মে থেকে দোসরা জুন পর্যন্ত দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সব ধরনের বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সদরঘাট থেকে ঈদের আগের পাঁচদিন এবং পরের পাঁচদিন যাত্রীবাহী নৌযানে ভারী মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকবে। পঁচিশ থেকে একত্রিশে মে পর্যন্ত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ফেরিতে পারাপার হতে পারবে না। নতুন করে শিমুলিয়া থেকে চাঁদপুর ও ঢাকা থেকে বসিলা হয়ে বরিশাল, মুলাদি, গলাচিপাসহ বেশ কয়েকটি নতুন নৌরুটে লঞ্চ চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নৌপথে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড এবং নৌপুলিশের বিশেষ হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন লাখ লাখ মানুষ। নাড়ির টানে আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শুরু হয়েছে এই চিরচেনা বাড়ি ফেরার পালা। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী অভিমুখী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পনেরো থেকে ত্রিশ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন সরজমিনে কমলাপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম পরিদর্শন করেন এবং অনলাইন টিকিট সংগ্রহ ও সামগ্রিক সেবার বিষয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রথম দিনে বড় কোনো ভোগান্তি না থাকায় যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও তারা ট্রেনের সেবার মান আরও বাড়ানোর দাবি জানান, যা ধাপে ধাপে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, এবার বড় ধরনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে গত ঈদুল ফিতরের মতো পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া কিংবা কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ঘাটতি মেটাতে ঈদের সময় পঁচাশটি মিটারগেজ ইঞ্জিন সার্বক্ষণিক সচল রাখার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেল পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে এবং টিকিট ছাড়া কেউ যাতে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী চাপের কারণে পঁচিশ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র্যাব, পুলিশ, আনসার ও এপিবিএন সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন এবং ছিনতাই ও পকেটমার ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীরা যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগের জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এদিকে সড়কপথে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ঈদের আগের তিনদিন এবং পরের তিনদিনসহ মোট সাত দিন অর্থাৎ পঁচিশে মে থেকে একত্রিশে মে পর্যন্ত মহাসড়কে সব ধরনের ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, পচনশীল দ্রব্য, পোশাক সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিশেষ মোবাইল নম্বরও চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরের পথে ঈদযাত্রার ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য কমাতে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ঈদের আগ মুহূর্তে অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাইওয়ে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ এই কড়া পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর মোড়ে নবনির্মিত একশো ষাট মিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ, যা রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথকে অনেক সহজ করবে এবং যানজট কমাবে বলে আশা করছেন সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
নৌপথের যাত্রীদের জন্য এবার বড় সুখবর এনেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। সদরঘাট টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দশ শতাংশ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে নদীপথে নতুন চারটি লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা ও সময়সূচি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য নামাজের জায়গা, অসুস্থ ও প্রবীণদের জন্য হুইলচেয়ার, ট্রলি সেবা এবং চিকিৎসকের বিশেষ দল দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে নৌপথ নিরাপদ রাখতে তেইশে মে থেকে দোসরা জুন পর্যন্ত দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সব ধরনের বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সদরঘাট থেকে ঈদের আগের পাঁচদিন এবং পরের পাঁচদিন যাত্রীবাহী নৌযানে ভারী মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকবে। পঁচিশ থেকে একত্রিশে মে পর্যন্ত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ফেরিতে পারাপার হতে পারবে না। নতুন করে শিমুলিয়া থেকে চাঁদপুর ও ঢাকা থেকে বসিলা হয়ে বরিশাল, মুলাদি, গলাচিপাসহ বেশ কয়েকটি নতুন নৌরুটে লঞ্চ চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নৌপথে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড এবং নৌপুলিশের বিশেষ হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন