দিকপাল

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ও আমাদের জাতীয় সংহতির নতুন পথরেখা


সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ : শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:০২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ও আমাদের জাতীয় সংহতির নতুন পথরেখা

আজ ৭ নভেম্বর—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও দূরপ্রসারী তাৎপর্য বহনকারী দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের এক গভীর সংকটময় মুহূর্তে সংঘটিত হয়েছিল সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব। তাঁবেদারি অপশাসন, আধিপত্যবাদী চক্রান্ত এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সকল ষড়যন্ত্রকে পায়ে দলিত করে সেদিন আপামর জনসাধারণ ও দেশপ্রেমিক সিপাহিরা এক অনন্য ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হয়েছিল এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জাতির সংকট উত্তরণে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম।

দীর্ঘ চড়াই-উতрай পেরিয়ে আজকের দিনে এসে ৭ নভেম্বরের চেতনা নতুন মাত্রায় উপলব্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর এই দিবসের তাৎপর্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, তেমনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর উভয়েই প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ বা তাঁবেদারি শাসন মেনে নেবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বিনষ্ট করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা প্রতিহত করতে সিপাহি-জনতার মতো সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ সবসময়ই রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় আজ দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি এবং বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে শুরু করে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি, শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দেশব্যাপী আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটির মূল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আংশিক টোল ফ্রি সুবিধা এবং দেশের বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন জনজীবনে উৎসবমুখর ও সংহতির আবহ তৈরি করেছে।

তবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; ঐতিহাসিক এই দিনটি থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে অত্যন্ত সময়োপযোগীভাবে উল্লেখ করেছেন—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দুচোখই অন্ধ।’ সুতরাং, অতীতের ভুলত্রুটি ও ষড়যন্ত্র থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা এবং প্রকৃত গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিটি নাগরিককে আজ নতুন করে শপথ নিতে হবে। সিপাহি-জনতার ঐক্যের সেই শাশ্বত চেতনাই হোক আমাদের আগামী দিনের চলার পথের দিশারী।

বিষয় : ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ও আমাদের জাতীয় সংহতির নতুন পথরেখা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

আজ ৭ নভেম্বর—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও দূরপ্রসারী তাৎপর্য বহনকারী দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের এক গভীর সংকটময় মুহূর্তে সংঘটিত হয়েছিল সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব। তাঁবেদারি অপশাসন, আধিপত্যবাদী চক্রান্ত এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সকল ষড়যন্ত্রকে পায়ে দলিত করে সেদিন আপামর জনসাধারণ ও দেশপ্রেমিক সিপাহিরা এক অনন্য ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হয়েছিল এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জাতির সংকট উত্তরণে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম।

দীর্ঘ চড়াই-উতрай পেরিয়ে আজকের দিনে এসে ৭ নভেম্বরের চেতনা নতুন মাত্রায় উপলব্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর এই দিবসের তাৎপর্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, তেমনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর উভয়েই প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ বা তাঁবেদারি শাসন মেনে নেবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বিনষ্ট করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা প্রতিহত করতে সিপাহি-জনতার মতো সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ সবসময়ই রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় আজ দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি এবং বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে শুরু করে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি, শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দেশব্যাপী আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটির মূল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আংশিক টোল ফ্রি সুবিধা এবং দেশের বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন জনজীবনে উৎসবমুখর ও সংহতির আবহ তৈরি করেছে।

তবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; ঐতিহাসিক এই দিনটি থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে অত্যন্ত সময়োপযোগীভাবে উল্লেখ করেছেন—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দুচোখই অন্ধ।’ সুতরাং, অতীতের ভুলত্রুটি ও ষড়যন্ত্র থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা এবং প্রকৃত গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিটি নাগরিককে আজ নতুন করে শপথ নিতে হবে। সিপাহি-জনতার ঐক্যের সেই শাশ্বত চেতনাই হোক আমাদের আগামী দিনের চলার পথের দিশারী।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল