দিকপাল

দাদার চিঠি


শাহজাদী নাসরিন
শাহজাদী নাসরিন গল্পকার ও শিশুসাহিত্যিক
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:২৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দাদার চিঠি
শিশু-কিশোর গল্প

দাদা যে তার সব কৌশল বুঝতে পারে এটা তখনো জানত না তমাল। জেনেছে আরো পরে। কৌশলগুলো কিরকম তা বুঝতে হলে আগে দেখতে হবে, তমাল ছুটির সকালে কি করে।

এসময় তার গলার জোর বেড়ে যায়। কারণ দাদা বাড়িতে থাকে। লিভিং রুমের মেঝেতে বই-খাতা, স্কুল ব্যাগ ছড়ানো ছিটানো। সকালের রোদ জানালা গলে ঘরে প্রবেশ করতে গিয়ে পুরানো দিনের একরঙা সবুজ অক্সাইডের মেঝেতে গ্রিলের নকশার ছাপ ফেলে।

সেদিন সে পড়ছিল, ‘দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য।’ যদিও এত কঠিন কথার মানে সে বুঝতে পারে না। দুর্জন কি দূরে থাকে? পরিত্যাজ্য শব্দের মানেই বা কি? পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তার মন চলে যায় আগের বিকেলে খেলার মাঠে দেখা মেঘের কাছে। মনে মনে সে আঙ্গুল দিয়ে বাতাসে মেঘের ছবি আঁকে। আর ভাবে, খাতায় যদি আঁকতো তাহলে অনেকটা কুণ্ডলী পাকানো শামুকের খোলসের মতো দেখাতো। খাতা টেনে নিতেই দাদার পায়ের আওয়াজ শোনা যায়। 


বড়দা ঘরে প্রবেশ করতেই তড়িঘড়ি করে খাতা সরিয়ে রেখে আবার উচ্চস্বরে পড়তে শুরু করে সে। তারপর জিজ্ঞেস করে, ‘পরিত্যাজ্য মানে কি দাদা?’
তমাল এখন জানে তার রাগী দাদাকে কিভাবে ঠান্ডা রাখতে হয় । পড়া সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে দাদা ধৈর্য ধরে উত্তর দেয়। আর কিছুর জন্য সময় থাকুক বা না-থাকুক পড়ালেখার জন্য দাদার হাতে বিস্তর সময় আছে। আপাতত বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ পড়ুয়া হিসেবে সে সময়টা সেই পায়, যদিও শুধুমাত্র ছুটির দিনে।

বড় ভাইকে কেন দাদা বলে ডাকে তা সে জানেনা। দাদা তার চেয়ে বিশ বছরের বড় সেটা একটা কারণ হতে পারে। তমাল আর দাদা ছাড়া এ বাড়িতে থাকে মা, মেজ ভাই আর বোন বর্ণা। বর্ণা তার চেয়ে মাত্র দুই বছরের বড়।  ছয়মাস আগেও দুজন একসাথে প্রাইমারি স্কুলে যেতো। এ বছর সে হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।

অবশ্য দাদা থাকে বললে ভুল হবে। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলিতে সে বাড়িতে আসে।
বাবাকে তমাল দেখেনি। তার জন্মের পর পর বাবা মারা গেছেন। দাদা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো, আর এখনতো সেখানকার শিক্ষক। তমালদের একতলা পুরানো ধাঁচের বাড়িটা মফস্বল শহরে; দাদার কর্মস্থল থেকে মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের পথ।

এ বাড়ির সবচেয়ে রাগী সদস্য মেজভাই। তমালের সাথে ধমক ছাড়া সে কথা বলতে পারে না। বর্ণা বেশি রাগী না। তমালের মা সবচেয়ে মিষ্টি মানুষ। মেজ ভাইয়ের কাছে বকা খেয়ে খুব কষ্ট হলে সে এক দৌড়ে রান্নাঘরে যায়। মায়ের কোলে মাথা রেখে টুক্ করে বসে পড়ে। রান্নাঘর বেশ বড়; দুই দিকে খোলা জানালা। তবু সারাক্ষণ ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। মোড়ায় বসে মাটির চুলায় খড়ি ঠেলে মা রান্না করতে করতে তমালের গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। 

সে বাসার সবার চিঠি রিসিভ করে। চিঠি বলতে শুধু চিঠি না, চিঠি, কুরিয়ার সবকিছু। সবচেয়ে বেশি চিঠি আসে মেজ ভাইয়ের নামে। তারপর দাদার। বর্ণা আর তার নামে কোনোদিন একটা চিঠিও আসেনি। মনে মনে তারও ইচ্ছা হয় কেউ তাকে লিখুক। 

কলবেল বাজলে সে পড়া ফেলে এক দৌড়ে যায় দরজা খুলতে। ডেলিভারি ম্যানের কাছে থেকে মেজ ভাইয়ের পার্সেল রিসিভ করে। ফিরে এসে খামের কোণা ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনী দিয়ে পাকাতে পাকাতে দাদাকে জিজ্ঞেস করে, রশিদ স্যারের সাথে কি তোমার দেখা হয়েছে?

পেপার থেকে মুখ না তুলেই দাদা উত্তর দেয়, ‘কেন বল্ তো?’
-না, এমনি বললাম আরকি। স্যারের বয়স হয়ে যাচ্ছে তো। মাঝে মাঝে তোমার কথা মনে পড়ে।
এইটুকু বলে আস্তে করে তমাল সরে পড়ে। রশিদ স্যার দাদারও শিক্ষক ছিলেন; শুনেছে, খুব আদর করতেন।
কিন্তু তমালের বেলায় উনি ভীষণ রাগী।
হাফ ইয়ার্লিতে অংকে কম নম্বর পাওয়ায় স্যার বলেছেন, দাদা বাড়ি আসলে খবর দিতে। সেটা বলতে গিয়েও ঠিক সাহস হয় না; যদি দাদা মন খারাপ করে, পরের সপ্তাহে বাড়ি না আসে।

একমাস পর।
দুপুর বারোটায় স্কুল থেকে ফিরে গোসল-খাওয়া শেষ করে তমাল মন দিয়ে পড়ার চেষ্টা করছে। যথারীতি লিভিং রুমের মেঝেতে সব ছড়ানো ছিটনো।

বিগত চার শুক্র-শনিবার দাদা বাড়ি ফেরেনি। বেল বাজলেই সে দৌড়ে দরজা খুলতে যায়, কিন্তু দাদা আসেনা। তার একবার সন্দেহ হয়েছিল-না পড়ার বিষয়টা সে জেনে গেছে অথবা ক্লাস সিক্সের সবজান্তা রঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে খেলার কথাটা। পরে অবশ্য মায়ের কাছে শুনেছে, কি একটা সেমিনারে যোগ দিতে বিদেশে গেছে। 

অংক বাড়ির কাজ শেষ করে বিজ্ঞান বই হাতে নিতেই ক্রিং ক্রিং করে বেলের আওয়াজ। তমাল লাফ দিয়ে উঠে দরজা খুলে। ডাক পিয়নের হাতে থাকা খামে তার নাম ইংরেজিতে লেখা, ডানদিকে ওপরে সিল মারা বিদেশি স্ট্যাম্প। 

দরজা বন্ধ করে তমাল তার জীবনের প্রথম-পাওয়া চিঠিটা নিয়ে বসে। মাকে চিৎকার করে জানায়, ‘আমার চিঠি এসেছে মা।’
বর্ণার পড়ার টেবিলের ড্রয়ার খুলে ছোট কাঁচি বের করে সাবধানে খামের একপাশ কাটে। ভেতরে পাওয়া যায়, মুক্তার মতো সুন্দর গুটিগুটি অক্ষরে তমালকে লেখা দাদার চিঠি। চিঠির উপরে ডানে ছোট্ট করে লেখা পটসড্যাম, জার্মানি।
তারপর একটু নিচে বা পাশ থেকে মূল চিঠি শুরু।

প্রিয় তমাল,

গতকাল জার্মানির পটসড্যামে পৌঁছেছি। খুব ছোট্ট ছিমছাম এই শহর বার্লিন 
থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে সুন্দর একটা প্রাসাদ আছে, ফ্রেডরিক দ্য গ্রেটের। সেমিনার শেষ হলে ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে। 

তোমার কাজ হলো, এই শহর সম্পর্কে জেনে রাখা। লাইব্রেরিতে যেতে পারো তার জন্যে। অথবা মেজ'র কাছে থেকে কম্পিউটার ধার নিয়েও জানতে পারো। আমি বাড়ি ফিরলে কাজটা দেখতে চাইব। তোমার আর বর্ণার জন্য স্যুভেনির আনার চেষ্টা করবো। আম্মাকে বলো আমি ভালো ভাবে পৌঁছে গেছি। আর ব্যাথা হলে আম্মা যেন মলমটা অবশ্যই হাতে মাখেন। আমি ফিরলে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। 

আপাতত এটুকুই। ভালো থেকো। সবার খেয়াল রাখবে।

ইতি 
তোমার দাদা

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


দাদার চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দাদা যে তার সব কৌশল বুঝতে পারে এটা তখনো জানত না তমাল। জেনেছে আরো পরে। কৌশলগুলো কিরকম তা বুঝতে হলে আগে দেখতে হবে, তমাল ছুটির সকালে কি করে।

এসময় তার গলার জোর বেড়ে যায়। কারণ দাদা বাড়িতে থাকে। লিভিং রুমের মেঝেতে বই-খাতা, স্কুল ব্যাগ ছড়ানো ছিটানো। সকালের রোদ জানালা গলে ঘরে প্রবেশ করতে গিয়ে পুরানো দিনের একরঙা সবুজ অক্সাইডের মেঝেতে গ্রিলের নকশার ছাপ ফেলে।

সেদিন সে পড়ছিল, ‘দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য।’ যদিও এত কঠিন কথার মানে সে বুঝতে পারে না। দুর্জন কি দূরে থাকে? পরিত্যাজ্য শব্দের মানেই বা কি? পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তার মন চলে যায় আগের বিকেলে খেলার মাঠে দেখা মেঘের কাছে। মনে মনে সে আঙ্গুল দিয়ে বাতাসে মেঘের ছবি আঁকে। আর ভাবে, খাতায় যদি আঁকতো তাহলে অনেকটা কুণ্ডলী পাকানো শামুকের খোলসের মতো দেখাতো। খাতা টেনে নিতেই দাদার পায়ের আওয়াজ শোনা যায়। 


বড়দা ঘরে প্রবেশ করতেই তড়িঘড়ি করে খাতা সরিয়ে রেখে আবার উচ্চস্বরে পড়তে শুরু করে সে। তারপর জিজ্ঞেস করে, ‘পরিত্যাজ্য মানে কি দাদা?’
তমাল এখন জানে তার রাগী দাদাকে কিভাবে ঠান্ডা রাখতে হয় । পড়া সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে দাদা ধৈর্য ধরে উত্তর দেয়। আর কিছুর জন্য সময় থাকুক বা না-থাকুক পড়ালেখার জন্য দাদার হাতে বিস্তর সময় আছে। আপাতত বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ পড়ুয়া হিসেবে সে সময়টা সেই পায়, যদিও শুধুমাত্র ছুটির দিনে।

বড় ভাইকে কেন দাদা বলে ডাকে তা সে জানেনা। দাদা তার চেয়ে বিশ বছরের বড় সেটা একটা কারণ হতে পারে। তমাল আর দাদা ছাড়া এ বাড়িতে থাকে মা, মেজ ভাই আর বোন বর্ণা। বর্ণা তার চেয়ে মাত্র দুই বছরের বড়।  ছয়মাস আগেও দুজন একসাথে প্রাইমারি স্কুলে যেতো। এ বছর সে হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।

অবশ্য দাদা থাকে বললে ভুল হবে। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলিতে সে বাড়িতে আসে।
বাবাকে তমাল দেখেনি। তার জন্মের পর পর বাবা মারা গেছেন। দাদা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো, আর এখনতো সেখানকার শিক্ষক। তমালদের একতলা পুরানো ধাঁচের বাড়িটা মফস্বল শহরে; দাদার কর্মস্থল থেকে মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের পথ।

এ বাড়ির সবচেয়ে রাগী সদস্য মেজভাই। তমালের সাথে ধমক ছাড়া সে কথা বলতে পারে না। বর্ণা বেশি রাগী না। তমালের মা সবচেয়ে মিষ্টি মানুষ। মেজ ভাইয়ের কাছে বকা খেয়ে খুব কষ্ট হলে সে এক দৌড়ে রান্নাঘরে যায়। মায়ের কোলে মাথা রেখে টুক্ করে বসে পড়ে। রান্নাঘর বেশ বড়; দুই দিকে খোলা জানালা। তবু সারাক্ষণ ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। মোড়ায় বসে মাটির চুলায় খড়ি ঠেলে মা রান্না করতে করতে তমালের গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। 

সে বাসার সবার চিঠি রিসিভ করে। চিঠি বলতে শুধু চিঠি না, চিঠি, কুরিয়ার সবকিছু। সবচেয়ে বেশি চিঠি আসে মেজ ভাইয়ের নামে। তারপর দাদার। বর্ণা আর তার নামে কোনোদিন একটা চিঠিও আসেনি। মনে মনে তারও ইচ্ছা হয় কেউ তাকে লিখুক। 

কলবেল বাজলে সে পড়া ফেলে এক দৌড়ে যায় দরজা খুলতে। ডেলিভারি ম্যানের কাছে থেকে মেজ ভাইয়ের পার্সেল রিসিভ করে। ফিরে এসে খামের কোণা ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনী দিয়ে পাকাতে পাকাতে দাদাকে জিজ্ঞেস করে, রশিদ স্যারের সাথে কি তোমার দেখা হয়েছে?

পেপার থেকে মুখ না তুলেই দাদা উত্তর দেয়, ‘কেন বল্ তো?’
-না, এমনি বললাম আরকি। স্যারের বয়স হয়ে যাচ্ছে তো। মাঝে মাঝে তোমার কথা মনে পড়ে।
এইটুকু বলে আস্তে করে তমাল সরে পড়ে। রশিদ স্যার দাদারও শিক্ষক ছিলেন; শুনেছে, খুব আদর করতেন।
কিন্তু তমালের বেলায় উনি ভীষণ রাগী।
হাফ ইয়ার্লিতে অংকে কম নম্বর পাওয়ায় স্যার বলেছেন, দাদা বাড়ি আসলে খবর দিতে। সেটা বলতে গিয়েও ঠিক সাহস হয় না; যদি দাদা মন খারাপ করে, পরের সপ্তাহে বাড়ি না আসে।

একমাস পর।
দুপুর বারোটায় স্কুল থেকে ফিরে গোসল-খাওয়া শেষ করে তমাল মন দিয়ে পড়ার চেষ্টা করছে। যথারীতি লিভিং রুমের মেঝেতে সব ছড়ানো ছিটনো।

বিগত চার শুক্র-শনিবার দাদা বাড়ি ফেরেনি। বেল বাজলেই সে দৌড়ে দরজা খুলতে যায়, কিন্তু দাদা আসেনা। তার একবার সন্দেহ হয়েছিল-না পড়ার বিষয়টা সে জেনে গেছে অথবা ক্লাস সিক্সের সবজান্তা রঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে খেলার কথাটা। পরে অবশ্য মায়ের কাছে শুনেছে, কি একটা সেমিনারে যোগ দিতে বিদেশে গেছে। 

অংক বাড়ির কাজ শেষ করে বিজ্ঞান বই হাতে নিতেই ক্রিং ক্রিং করে বেলের আওয়াজ। তমাল লাফ দিয়ে উঠে দরজা খুলে। ডাক পিয়নের হাতে থাকা খামে তার নাম ইংরেজিতে লেখা, ডানদিকে ওপরে সিল মারা বিদেশি স্ট্যাম্প। 

দরজা বন্ধ করে তমাল তার জীবনের প্রথম-পাওয়া চিঠিটা নিয়ে বসে। মাকে চিৎকার করে জানায়, ‘আমার চিঠি এসেছে মা।’
বর্ণার পড়ার টেবিলের ড্রয়ার খুলে ছোট কাঁচি বের করে সাবধানে খামের একপাশ কাটে। ভেতরে পাওয়া যায়, মুক্তার মতো সুন্দর গুটিগুটি অক্ষরে তমালকে লেখা দাদার চিঠি। চিঠির উপরে ডানে ছোট্ট করে লেখা পটসড্যাম, জার্মানি।
তারপর একটু নিচে বা পাশ থেকে মূল চিঠি শুরু।

প্রিয় তমাল,

গতকাল জার্মানির পটসড্যামে পৌঁছেছি। খুব ছোট্ট ছিমছাম এই শহর বার্লিন 
থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে সুন্দর একটা প্রাসাদ আছে, ফ্রেডরিক দ্য গ্রেটের। সেমিনার শেষ হলে ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে। 

তোমার কাজ হলো, এই শহর সম্পর্কে জেনে রাখা। লাইব্রেরিতে যেতে পারো তার জন্যে। অথবা মেজ'র কাছে থেকে কম্পিউটার ধার নিয়েও জানতে পারো। আমি বাড়ি ফিরলে কাজটা দেখতে চাইব। তোমার আর বর্ণার জন্য স্যুভেনির আনার চেষ্টা করবো। আম্মাকে বলো আমি ভালো ভাবে পৌঁছে গেছি। আর ব্যাথা হলে আম্মা যেন মলমটা অবশ্যই হাতে মাখেন। আমি ফিরলে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। 

আপাতত এটুকুই। ভালো থেকো। সবার খেয়াল রাখবে।

ইতি 
তোমার দাদা


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল