দিকপাল

প্রতিটি কবিতায় রয়েছে গভীর মানসিক রূপান্তর, স্রষ্টার প্রতি আত্মনিবেদন এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার সোজাসাপ্টা কিন্তু স্পর্শকাতর প্রকাশ।

আশেক ই খোদা’র একগুচ্ছ কবিতা


আশেক ই খোদা
আশেক ই খোদা কবি
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৫৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আশেক ই খোদা’র একগুচ্ছ কবিতা
কবি : আশেক ই খোদা

(০১)

ঝরাফুল

আমি এক ঝরাফুল ঝরেছি অকালে

অন্ধকার দেখি সদা কোথাও তাকালে।

অট্টালিকা ভেদ করে আসে না যে আলো

বেঁচে থাকা অমূলক ইচ্ছেটা ফুরালো।


(০২)

আমায় ডাকে

নদী আমায় ডাকে, সাথে সাগর

অনেক নাম ডাক আমার সাথে যশ, খ্যাতি

আজকের আমি পুরাই আবরণে অন্য এক মানুষ

প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি গন্ধময় অতীত ঢাকতে আমি দিশেহারা, খুবই অসহায়

আশ্রয় খুঁজে চলেছি কিন্তু মিলছেনা কোথাও

দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আমি বড্ডই ক্লান্ত

মাঝে মাঝে বেশ হীনমণ্যতায় ভুগি

কি কারণে এমন নষ্ট করেছি সেই বর্তমানকে

যা আজ আমার অতীত, আমার সামনে যাওয়ার পথে অন্তরায়।

একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়েছে সে,

আমি সামনে গিয়েও পিছু হটছি বারেবারে

হিসাবের খাতায় অনেক শূণ্যতা, ঋণাত্মক অবস্থান

বারেবারে আমায় ডাকছে সেই হিসাব মিলাতে।

(০৩)

নিজেকে বদলাই

পৃথিবী কাঁপছে আজ ভীত কত জন

চারিদিকে অমানিশা নেই যে আপন।

মানুষে মানে না তবু স্বাস্থ্যবিধি যত

নিকটাত্মীয় হারিয়ে হয় শোকাহত।

রিক্ত নিঃস্ব আছে বহু জোটে না খাবার

আক্রান্ত হলেই কেউ কাছে নেই আর।

হাসপাতালে চেম্বারে কত শত রোগী

এর মাঝে কেউ কেউ আছে অতি লোভী।

গরীবের ত্রাণ লুটে গড়ে অট্টালিকা

মানবতার বাণীতে লিখে দেয়ালিকা।

পাপাচারে লিপ্ত হয়ে বাড়িয়েছি ক্ষোভ

সামান্য টাকায় বলো দমেছে কি লোভ..?

অনেকে স্রষ্টার ভয়ে বদলেছে পথ

সুন্দর জীবনে ফিরে নিয়েছে শপথ।

থাকবে না মহামারি যত রোগবালাই

আসুন সবার আগে নিজে বদলাই।

(০৪)

অশ্রুকে বলেছি

অশ্রুকে বলেছি,

তুই আর ঝরিসনে অঝোর ধারায়

তোর এই ঝরা দেখে

অনেকেই আনমনে ঝরিয়ে দেয়

ক’ফোঁটা আমাকে ভালবেসে,

অধীর আগ্রহে জানতে চায় কারণ

অশ্রু তুই-ই বল

সব কথা কি সবাইকে বলা যায়..?

না, যায় না।

আপন মনে পোড়াতে হয় কষ্টের অনলে

তুই আমাকে হালকা করিস বটে,

ধুয়ে দিস হৃদয়ের গহীনে জমে থাকা কষ্টগুলো,

জানিস অশ্রু? আমার আনন্দেও কিন্তু তুই ঝরিস

পাওয়ার আনন্দ,

হারানোর বেদনা সব জায়গায় তুই

তোর অবস্থান আমি অনুভব করি অন্তরে

তুই আমাকে নিয়ে যাস অতীতে,

জাগিয়ে দিস সুপ্ত অবস্থায় থাকা কষ্টগুলোকে,

তখন  ক’ফোঁটা ঝরে যাস আনমনে,

তুই আমার পরম বন্ধু,

আমাকে হালকা করিস

অশ্রু তুই সবার পাশে থাকিস সব সময়,

কষ্টগুলো ধুয়ে দিস

পাওয়ার আনন্দেও তুই ঝরিস,

বন্ধু হয়ে থাকিস সব সময়।


(০৫)

তুমি ঘুমিয়ে গেলে

তুমি ঘুমিয়ে গেলে,

চাঁদ হারিয়ে যায় মেঘের গভীরে,

রাতের আলোয় নেমে আসে অন্ধকার।

মুখরিত পৃথিবী হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়

চারিদিকে শুনশান নীরবতা,

ঝিঁ ঝিঁ পোকারাও চুপ হয়ে যায়,

তোমার ঘুম ভাঙবে বলে,

প্রকৃতি অকৃপণ ভাবে বইয়ে দেয়।

ঠাণ্ডা সুশীতল বাতাস

তোমাকে ভালবেসে,

গভীর রাত ভোর হতে চায় না

সূর্য একটু দেরিতেই আলো দেয়

তোমার ঘুম ভাঙবে বলে,

আর আমি তাকিয়ে থাকি আনমনে

তোমার সেই মিষ্টি চেহারাখানি,

অবলোকন করি ঘুমিয়ে থাকা তোমার সৌন্দর্য।

(০৬)

শূন্যতা

শূন্য এই জীবন,

সময়ের হাত ধরে তবু হাঁটি,

কখনও হই বিচলিত,

অতীতের কষ্টের স্মৃতিগুলো,

দুমড়ে মুচড়ে একাকার করে ফেলে,

অর্ধমৃত একটা মানুষ আরও মরে, তবুও মরে না,

চোখের নোনাজলে বারেবারে ধুই,

মিছে কিছু স্বপ্ন ছুঁই,

এভাবে জীবন পার করে

ভাল আছি'র মিথ্যে অভিনয়ে।

(০৭)

স্রষ্টা

পথ খুলে দেয় স্রষ্টা

আমি কেবল হাঁটি

উপরে আকাশ ওই

পায়ের তলায় মাটি।

(০৮)

আস্থা

স্রষ্টায় আস্থা আমার

সম্মুখে পথ চলি

বেশ জটিল এই ভূবন

খুঁজে নেবে গলি।

(০৯)

বর্ণিল জীবন, রঙহীন জীবন

সম্ভাবনা থাকে সবখানে

তবু করে ভুল, হাতের পুতুল

সময় ও স্রোতের টানে।

(১০)

সময়ের কাঁটাটি

ঘোরে নিজ ঢঙ্গে

সুখ দুঃখ নিয়ত

মিশে তার সঙ্গে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


আশেক ই খোদা’র একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

(০১)

ঝরাফুল

আমি এক ঝরাফুল ঝরেছি অকালে

অন্ধকার দেখি সদা কোথাও তাকালে।

অট্টালিকা ভেদ করে আসে না যে আলো

বেঁচে থাকা অমূলক ইচ্ছেটা ফুরালো।


(০২)

আমায় ডাকে


নদী আমায় ডাকে, সাথে সাগর

অনেক নাম ডাক আমার সাথে যশ, খ্যাতি

আজকের আমি পুরাই আবরণে অন্য এক মানুষ

প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি গন্ধময় অতীত ঢাকতে আমি দিশেহারা, খুবই অসহায়

আশ্রয় খুঁজে চলেছি কিন্তু মিলছেনা কোথাও

দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আমি বড্ডই ক্লান্ত

মাঝে মাঝে বেশ হীনমণ্যতায় ভুগি

কি কারণে এমন নষ্ট করেছি সেই বর্তমানকে

যা আজ আমার অতীত, আমার সামনে যাওয়ার পথে অন্তরায়।


একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়েছে সে,

আমি সামনে গিয়েও পিছু হটছি বারেবারে

হিসাবের খাতায় অনেক শূণ্যতা, ঋণাত্মক অবস্থান

বারেবারে আমায় ডাকছে সেই হিসাব মিলাতে।


(০৩)

নিজেকে বদলাই


পৃথিবী কাঁপছে আজ ভীত কত জন

চারিদিকে অমানিশা নেই যে আপন।

মানুষে মানে না তবু স্বাস্থ্যবিধি যত

নিকটাত্মীয় হারিয়ে হয় শোকাহত।


রিক্ত নিঃস্ব আছে বহু জোটে না খাবার

আক্রান্ত হলেই কেউ কাছে নেই আর।

হাসপাতালে চেম্বারে কত শত রোগী

এর মাঝে কেউ কেউ আছে অতি লোভী।


গরীবের ত্রাণ লুটে গড়ে অট্টালিকা

মানবতার বাণীতে লিখে দেয়ালিকা।

পাপাচারে লিপ্ত হয়ে বাড়িয়েছি ক্ষোভ

সামান্য টাকায় বলো দমেছে কি লোভ..?


অনেকে স্রষ্টার ভয়ে বদলেছে পথ

সুন্দর জীবনে ফিরে নিয়েছে শপথ।

থাকবে না মহামারি যত রোগবালাই

আসুন সবার আগে নিজে বদলাই।


(০৪)

অশ্রুকে বলেছি


অশ্রুকে বলেছি,

তুই আর ঝরিসনে অঝোর ধারায়

তোর এই ঝরা দেখে

অনেকেই আনমনে ঝরিয়ে দেয়

ক’ফোঁটা আমাকে ভালবেসে,

অধীর আগ্রহে জানতে চায় কারণ

অশ্রু তুই-ই বল

সব কথা কি সবাইকে বলা যায়..?

না, যায় না।


আপন মনে পোড়াতে হয় কষ্টের অনলে

তুই আমাকে হালকা করিস বটে,

ধুয়ে দিস হৃদয়ের গহীনে জমে থাকা কষ্টগুলো,

জানিস অশ্রু? আমার আনন্দেও কিন্তু তুই ঝরিস

পাওয়ার আনন্দ,

হারানোর বেদনা সব জায়গায় তুই

তোর অবস্থান আমি অনুভব করি অন্তরে

তুই আমাকে নিয়ে যাস অতীতে,

জাগিয়ে দিস সুপ্ত অবস্থায় থাকা কষ্টগুলোকে,

তখন  ক’ফোঁটা ঝরে যাস আনমনে,

তুই আমার পরম বন্ধু,

আমাকে হালকা করিস

অশ্রু তুই সবার পাশে থাকিস সব সময়,

কষ্টগুলো ধুয়ে দিস

পাওয়ার আনন্দেও তুই ঝরিস,

বন্ধু হয়ে থাকিস সব সময়।


(০৫)

তুমি ঘুমিয়ে গেলে


তুমি ঘুমিয়ে গেলে,

চাঁদ হারিয়ে যায় মেঘের গভীরে,

রাতের আলোয় নেমে আসে অন্ধকার।


মুখরিত পৃথিবী হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়

চারিদিকে শুনশান নীরবতা,

ঝিঁ ঝিঁ পোকারাও চুপ হয়ে যায়,

তোমার ঘুম ভাঙবে বলে,

প্রকৃতি অকৃপণ ভাবে বইয়ে দেয়।


ঠাণ্ডা সুশীতল বাতাস

তোমাকে ভালবেসে,

গভীর রাত ভোর হতে চায় না

সূর্য একটু দেরিতেই আলো দেয়


তোমার ঘুম ভাঙবে বলে,

আর আমি তাকিয়ে থাকি আনমনে

তোমার সেই মিষ্টি চেহারাখানি,

অবলোকন করি ঘুমিয়ে থাকা তোমার সৌন্দর্য।


(০৬)

শূন্যতা


শূন্য এই জীবন,

সময়ের হাত ধরে তবু হাঁটি,

কখনও হই বিচলিত,

অতীতের কষ্টের স্মৃতিগুলো,

দুমড়ে মুচড়ে একাকার করে ফেলে,

অর্ধমৃত একটা মানুষ আরও মরে, তবুও মরে না,

চোখের নোনাজলে বারেবারে ধুই,

মিছে কিছু স্বপ্ন ছুঁই,

এভাবে জীবন পার করে

ভাল আছি'র মিথ্যে অভিনয়ে।


(০৭)

স্রষ্টা


পথ খুলে দেয় স্রষ্টা

আমি কেবল হাঁটি

উপরে আকাশ ওই

পায়ের তলায় মাটি।


(০৮)

আস্থা


স্রষ্টায় আস্থা আমার

সম্মুখে পথ চলি

বেশ জটিল এই ভূবন

খুঁজে নেবে গলি।


(০৯)

বর্ণিল জীবন, রঙহীন জীবন

সম্ভাবনা থাকে সবখানে

তবু করে ভুল, হাতের পুতুল

সময় ও স্রোতের টানে।


(১০)

সময়ের কাঁটাটি

ঘোরে নিজ ঢঙ্গে

সুখ দুঃখ নিয়ত

মিশে তার সঙ্গে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল