দিকপাল

জার্মানির কোলোন বিমানবন্দরে ৯০টির বেশি বিষধর সাপ ও বিপন্ন টিকটিকিসহ পাচারকারী আটক


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:৫০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জার্মানির কোলোন বিমানবন্দরে ৯০টির বেশি বিষধর সাপ ও বিপন্ন টিকটিকিসহ পাচারকারী আটক

জার্মানির কোলোন বন বিমানবন্দরে ৯০টিরও বেশি বিরল জ্যান্ত বিষধর সাপ ও বিপন্ন প্রজাতির টিকটিকি পাচারের চেষ্টার সময় এক মেক্সিকান নাগরিককে হাতেনাতে আটক করেছে দেশটির শুল্ক কর্তৃপক্ষ। মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে আসা ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শ্যাম্পু ও ক্রিমের বোতল, প্লাস্টিকের পাত্র এবং মোজার বলের ভেতরে এসব বন্যপ্রাণী অত্যন্ত নির্মমভাবে লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। 

জার্মানি শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পেশায় ফায়ারফাইটার ওই মেক্সিকান নাগরিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় গ্রিন চ্যানেলে বেশ ‘অস্বাভাবিক ও নার্ভাস’ আচরণ করছিলেন। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে প্রাথমিক ড্রাগ টেস্ট করা হলে ড্রাগ পজিটিভ (কোকেন) আসে। এরপর তার সঙ্গে থাকা স্যুটকেসে তল্লাশি চালানো হয়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যুটকেসে কোনো মাদক না পাওয়া গেলেও সেখান থেকে ভাইপার ও র‍্যাটলস্নেক সহ বেশ কিছু প্রজাতির মারাত্মক বিষধর সাপ এবং বিরল ইগুয়ানাসহ মোট ৩৭টি জ্যান্ত বিষধর সাপ ও ৫৫টি বিপন্ন টিকটিকি উদ্ধার করা হয়।

কোলোন কাস্টমস অফিসের মুখপাত্র জেনস আহল্যান্ড বলেন, "স্যুটকেসে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের সহকর্মীদের নিয়মিতই হয়। কিন্তু একবারে ৩৭টি জ্যান্ত বিষধর সাপ এবং ৫৫টি টিকটিকি পাচারের এমন ঘটনা আমাদের অভিজ্ঞতা আগে কখনও ঘটেনি।" 

আহল্যান্ড আরও জানান, প্রাণীগুলোকে অত্যন্ত 'অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়' প্যাক করে বহন করা হচ্ছিল। ফলে মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে দীর্ঘ ভ্রমণের পথে অক্সিজেনের অভাবে ও যন্ত্রণায় বেশ কিছু প্রাণীর মৃত্যু হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি দাবি করেন, এক ব্রাজিলীয় পরিচিতজনের প্ররোচনা ও অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলো নিজের স্যুটকেসে নিয়ে এসেছিলেন। তবে জার্মান কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের কোনো অনুমতি না দিয়ে সরাসরি ফেরত ইস্তাম্বুলে পাঠিয়ে দিয়েছে। আর জীবিত উদ্ধার হওয়া সাপ ও টিকটিকিগুলোকে নিরাপদ সুরক্ষার জন্য জার্মানির একটি বিশেষ ‘স্নেক ফার্ম’-এ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোলোন বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা নতুন নয়। এর প্রায় ছয় বছর আগেও একই বিমানবন্দরে খেলনা ও মিষ্টান্নের বাক্সের ভেতর থেকে মেক্সিকো থেকে আসা ২৬টি বিরল প্রজাতির সরীসৃপ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০টি মৃত ছিল।

জার্মান কাস্টমস সূত্রের তথ্যমতে, কেবল গত বছরই দেশজুড়ে ৫৬,৬০০টিরও বেশি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ বা প্রজাতি পাচারের ঘটনায় ১,৩০০টিরও বেশি বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা ঘটেছে।


সূত্র: বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


জার্মানির কোলোন বিমানবন্দরে ৯০টির বেশি বিষধর সাপ ও বিপন্ন টিকটিকিসহ পাচারকারী আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জার্মানির কোলোন বন বিমানবন্দরে ৯০টিরও বেশি বিরল জ্যান্ত বিষধর সাপ ও বিপন্ন প্রজাতির টিকটিকি পাচারের চেষ্টার সময় এক মেক্সিকান নাগরিককে হাতেনাতে আটক করেছে দেশটির শুল্ক কর্তৃপক্ষ। মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে আসা ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শ্যাম্পু ও ক্রিমের বোতল, প্লাস্টিকের পাত্র এবং মোজার বলের ভেতরে এসব বন্যপ্রাণী অত্যন্ত নির্মমভাবে লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। 

জার্মানি শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পেশায় ফায়ারফাইটার ওই মেক্সিকান নাগরিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় গ্রিন চ্যানেলে বেশ ‘অস্বাভাবিক ও নার্ভাস’ আচরণ করছিলেন। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে প্রাথমিক ড্রাগ টেস্ট করা হলে ড্রাগ পজিটিভ (কোকেন) আসে। এরপর তার সঙ্গে থাকা স্যুটকেসে তল্লাশি চালানো হয়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যুটকেসে কোনো মাদক না পাওয়া গেলেও সেখান থেকে ভাইপার ও র‍্যাটলস্নেক সহ বেশ কিছু প্রজাতির মারাত্মক বিষধর সাপ এবং বিরল ইগুয়ানাসহ মোট ৩৭টি জ্যান্ত বিষধর সাপ ও ৫৫টি বিপন্ন টিকটিকি উদ্ধার করা হয়।

কোলোন কাস্টমস অফিসের মুখপাত্র জেনস আহল্যান্ড বলেন, "স্যুটকেসে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের সহকর্মীদের নিয়মিতই হয়। কিন্তু একবারে ৩৭টি জ্যান্ত বিষধর সাপ এবং ৫৫টি টিকটিকি পাচারের এমন ঘটনা আমাদের অভিজ্ঞতা আগে কখনও ঘটেনি।" 

আহল্যান্ড আরও জানান, প্রাণীগুলোকে অত্যন্ত 'অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়' প্যাক করে বহন করা হচ্ছিল। ফলে মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে দীর্ঘ ভ্রমণের পথে অক্সিজেনের অভাবে ও যন্ত্রণায় বেশ কিছু প্রাণীর মৃত্যু হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি দাবি করেন, এক ব্রাজিলীয় পরিচিতজনের প্ররোচনা ও অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলো নিজের স্যুটকেসে নিয়ে এসেছিলেন। তবে জার্মান কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের কোনো অনুমতি না দিয়ে সরাসরি ফেরত ইস্তাম্বুলে পাঠিয়ে দিয়েছে। আর জীবিত উদ্ধার হওয়া সাপ ও টিকটিকিগুলোকে নিরাপদ সুরক্ষার জন্য জার্মানির একটি বিশেষ ‘স্নেক ফার্ম’-এ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোলোন বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা নতুন নয়। এর প্রায় ছয় বছর আগেও একই বিমানবন্দরে খেলনা ও মিষ্টান্নের বাক্সের ভেতর থেকে মেক্সিকো থেকে আসা ২৬টি বিরল প্রজাতির সরীসৃপ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০টি মৃত ছিল।

জার্মান কাস্টমস সূত্রের তথ্যমতে, কেবল গত বছরই দেশজুড়ে ৫৬,৬০০টিরও বেশি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ বা প্রজাতি পাচারের ঘটনায় ১,৩০০টিরও বেশি বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা ঘটেছে।


সূত্র: বিবিসি


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল