দিকপাল

ইন্দোনেশিয়ার বাটামে ডেটা সেন্টারের কারণে চরম পানির সংকট, খালি পাত্র হাতে শত শত মানুষের তীব্র বিক্ষোভ


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৩৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইন্দোনেশিয়ার বাটামে ডেটা সেন্টারের কারণে চরম পানির সংকট, খালি পাত্র হাতে শত শত মানুষের তীব্র বিক্ষোভ

ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি খাতের জন্য একের পর এক ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনার কারণে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বাসাবাড়িতে বিন্দুমাত্র খাবার পানি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রায় ৩০০ স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী সাধারণ বাসিন্দাদের রান্নাবান্না ও পানের পানির কল পুরোপুরি শুকিয়ে গেলেও ডেটা সেন্টারের বিশালাকার সার্ভার ও যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে 'পানি চাই, পানি চাই' স্লোগানে নংস্যা ডিজিটাল পার্কের ডেটা সেন্টার ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। বাকাউ সেরিপ গ্রামের বাসিন্দা দেউই সুসান্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টানা তিন মাস ধরে তাঁদের বাড়িতে এক ফোঁটা পানিও আসেনি। বর্তমানে চড়া দামে ট্যাংকারের পানি কিনে চলতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত। 



যদিও বাটামের মূল পানি সরবরাহকারী সংস্থা সরবরাহে উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত পানির ব্যবহারের সঙ্গে এ সংকটের সম্পর্ক নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, বাণিজ্য ও শিল্প খাত তদারককারী প্রতিষ্ঠান 'বিপি বাটাম' টানা খরাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বাসাবাড়ির পানি ডেটা সেন্টারে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের সাধারণ ডেটা সেন্টারে দৈনিক প্রায় তিন লাখ গ্যালন পানি প্রয়োজন হতে পারে, যা প্রায় এক হাজার পরিবারের দৈনিক পানির চাহিদার সমান। মালয়েশিয়ার তথ্য মতে, ৫০ মেগাওয়াটের একটি ডেটা সেন্টারে দৈনিক প্রায় ২,২০০ পরিবারের সমপরিমাণ পানি এবং ২২,০০০ বাড়ির সমপরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

       


প্রায় ১৩ লাখ মানুষের বাটাম দ্বীপটিতে প্রাকৃতিক বিশুদ্ধ পানির উৎস নেই বললেই চলে; দ্বীপটি মূলত বৃষ্টির পানি ধরে রাখা ছয়টি কৃত্রিম জলাধারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে নংস্যা জলাধারটির পানি আগামী এক মাসের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যেই বিনিয়োগ আকর্ষণে বাটামে ১০টি বিশাল ডেটা সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসব ডেটা সেন্টারের বিদ্যুতের চাহিদা ১,১০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দিয়ে প্রায় ১০ লাখ পরিবারকে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব। 

নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক আগুস হাসান সতর্ক করে বলেছেন, ডেটা সেন্টারের পানির স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ না করলে সাধারণ মানুষের বঞ্চনাবোধ থেকে অসন্তোষ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। কেবল বাটামেই নয়, বৈশ্বিক স্তরে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এসব মেগা ডেটা সেন্টার।

বিষয় : ইন্দোনেশিয়ার বাটামে ডেটা সেন্টারের কারণে চরম পানির সংকট, খালি পাত্র হাতে শত শত মানুষের তীব্র বিক্ষোভ

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


ইন্দোনেশিয়ার বাটামে ডেটা সেন্টারের কারণে চরম পানির সংকট, খালি পাত্র হাতে শত শত মানুষের তীব্র বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি খাতের জন্য একের পর এক ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনার কারণে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বাসাবাড়িতে বিন্দুমাত্র খাবার পানি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রায় ৩০০ স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী সাধারণ বাসিন্দাদের রান্নাবান্না ও পানের পানির কল পুরোপুরি শুকিয়ে গেলেও ডেটা সেন্টারের বিশালাকার সার্ভার ও যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে 'পানি চাই, পানি চাই' স্লোগানে নংস্যা ডিজিটাল পার্কের ডেটা সেন্টার ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। বাকাউ সেরিপ গ্রামের বাসিন্দা দেউই সুসান্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টানা তিন মাস ধরে তাঁদের বাড়িতে এক ফোঁটা পানিও আসেনি। বর্তমানে চড়া দামে ট্যাংকারের পানি কিনে চলতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত। 

যদিও বাটামের মূল পানি সরবরাহকারী সংস্থা সরবরাহে উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত পানির ব্যবহারের সঙ্গে এ সংকটের সম্পর্ক নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, বাণিজ্য ও শিল্প খাত তদারককারী প্রতিষ্ঠান 'বিপি বাটাম' টানা খরাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বাসাবাড়ির পানি ডেটা সেন্টারে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের সাধারণ ডেটা সেন্টারে দৈনিক প্রায় তিন লাখ গ্যালন পানি প্রয়োজন হতে পারে, যা প্রায় এক হাজার পরিবারের দৈনিক পানির চাহিদার সমান। মালয়েশিয়ার তথ্য মতে, ৫০ মেগাওয়াটের একটি ডেটা সেন্টারে দৈনিক প্রায় ২,২০০ পরিবারের সমপরিমাণ পানি এবং ২২,০০০ বাড়ির সমপরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

       


প্রায় ১৩ লাখ মানুষের বাটাম দ্বীপটিতে প্রাকৃতিক বিশুদ্ধ পানির উৎস নেই বললেই চলে; দ্বীপটি মূলত বৃষ্টির পানি ধরে রাখা ছয়টি কৃত্রিম জলাধারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে নংস্যা জলাধারটির পানি আগামী এক মাসের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যেই বিনিয়োগ আকর্ষণে বাটামে ১০টি বিশাল ডেটা সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসব ডেটা সেন্টারের বিদ্যুতের চাহিদা ১,১০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দিয়ে প্রায় ১০ লাখ পরিবারকে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব। 

নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক আগুস হাসান সতর্ক করে বলেছেন, ডেটা সেন্টারের পানির স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ না করলে সাধারণ মানুষের বঞ্চনাবোধ থেকে অসন্তোষ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। কেবল বাটামেই নয়, বৈশ্বিক স্তরে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এসব মেগা ডেটা সেন্টার।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল