দিকপাল

এডেন সাগরে নৌকা ডুবে ১৫ শিশুসহ ১৩৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৪


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:৫৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এডেন সাগরে নৌকা ডুবে ১৫ শিশুসহ ১৩৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৪

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোজনকারী কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি নৌকা ডুবে অন্ততঃ ১৩৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৫টি শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ (আইওএম) রোববার (১১ অক্টোবর) এক শোকাবহ বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে। আইওএম জানায়, গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকাটি সাগরে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর জিবুতির কোস্টগার্ড বাহিনীর উদ্ধার তৎপরতায় এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা আইওএম-কে জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করে ইয়েমেন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশ করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তাঁরা। নিখোঁজদের খোঁজে কোস্টগার্ডের তল্লাশি অভিযান এখনো জারি রয়েছে।

আইওএম-এর জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইসাক এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইওএম-এর প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। কোইসাক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, “উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের মধ্যে কেবল জিবুতির সরকারি কর্তৃপক্ষ যাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন সম্পন্ন করেছে, সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যাটি তাদের নিয়েই ধরা হয়েছে। অভিবাসীরা নিজেরাও অনেককে দাফন করেছেন, যা চূড়ান্তভাবে যাচাইয়ের কাজ চলছে।”

অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের মুখেও বিপজ্জনক অভিবাসন:

জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি আফ্রিকান শৃঙ্গ (হর্ন অফ আফ্রিকা) অঞ্চল থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাড়ি জমানো হাজার হাজার ভাগ্যসন্ধানী মানুষের অন্যতম প্রধান রুট। তবে সামুদ্রিক ঝড় ও অপরিকল্পিত নৌযানের কারণে এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

অঞ্চলটিতে চলমান তীব্র বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা—যেমন ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ, হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষ এবং ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম সামরিক উত্তেজনা—কোনো কিছুই এই মরিয়া মানুষদের জীবনঝুঁকি নেওয়া থেকে আটকাতে পারছে না। আইওএম-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইথিওপিয়া থেকে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে প্রবেশ করেছেন। গত বছর এই একই রুটে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা চালান, যাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন সাগরে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান কিংবা নিখোঁজ হন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


এডেন সাগরে নৌকা ডুবে ১৫ শিশুসহ ১৩৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৪

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোজনকারী কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি নৌকা ডুবে অন্ততঃ ১৩৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৫টি শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ (আইওএম) রোববার (১১ অক্টোবর) এক শোকাবহ বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে। আইওএম জানায়, গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকাটি সাগরে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর জিবুতির কোস্টগার্ড বাহিনীর উদ্ধার তৎপরতায় এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা আইওএম-কে জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করে ইয়েমেন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশ করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তাঁরা। নিখোঁজদের খোঁজে কোস্টগার্ডের তল্লাশি অভিযান এখনো জারি রয়েছে।

আইওএম-এর জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইসাক এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইওএম-এর প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। কোইসাক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, “উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের মধ্যে কেবল জিবুতির সরকারি কর্তৃপক্ষ যাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন সম্পন্ন করেছে, সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যাটি তাদের নিয়েই ধরা হয়েছে। অভিবাসীরা নিজেরাও অনেককে দাফন করেছেন, যা চূড়ান্তভাবে যাচাইয়ের কাজ চলছে।”

অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের মুখেও বিপজ্জনক অভিবাসন:

জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি আফ্রিকান শৃঙ্গ (হর্ন অফ আফ্রিকা) অঞ্চল থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাড়ি জমানো হাজার হাজার ভাগ্যসন্ধানী মানুষের অন্যতম প্রধান রুট। তবে সামুদ্রিক ঝড় ও অপরিকল্পিত নৌযানের কারণে এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

অঞ্চলটিতে চলমান তীব্র বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা—যেমন ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ, হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষ এবং ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম সামরিক উত্তেজনা—কোনো কিছুই এই মরিয়া মানুষদের জীবনঝুঁকি নেওয়া থেকে আটকাতে পারছে না। আইওএম-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইথিওপিয়া থেকে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে প্রবেশ করেছেন। গত বছর এই একই রুটে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা চালান, যাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন সাগরে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান কিংবা নিখোঁজ হন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল