দিকপাল

দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলো পুলিশ: বিকল্প তিন স্থান নির্ধারণ


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:১০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলো পুলিশ: বিকল্প তিন স্থান নির্ধারণ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ রাজনৈতিক ও সামাজিক যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার স্বাক্ষরিত এক জরুরি দাপ্তরিক নির্দেশে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জারিকৃত লিখিত নির্দেশে যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ ও জনসভার জন্য বিকল্প হিসেবে দিল্লির তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানগুলো হলো— ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল এক আদেশের মাধ্যমে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও মিছিল-সমাবেশ আয়োজনের জন্য আনুষ্ঠানিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ১২ অক্টোবরের এই নতুন অধ্যাদেশের ফলে ২০২২ সালের সেই পুরনো আদেশটি কার্যকরভাবে বাতিল হয়ে গেল। পুলিশের নির্দেশে বলা হয়েছে, নতুন তিন স্থানে সভা-সমাবেশ আয়োজনের জন্য শিগগিরই নতুন ও সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি/SOP) জারি করা হবে। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আলোচিত তরুণ রাজনৈতিক জোট 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র জোরদার আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তর এলাকাটি পুনরায় ভারতীয় রাজনীতিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুনে এই যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন ব্যাপক সফলতা পায়।

পরবর্তীতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে পুলিশি কড়াকড়ির কারণে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়নি এবং সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে পুলিশ আটক করে। গতকাল রোববার ১ বছরের ‘শান্ত থাকার’ মুচলেকায় মুক্তি পান অভিজিৎ।

এরই মধ্যে রোববার সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নতুন করে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি চান। তবে সিজেপির দেওয়া সেই আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সরাসরি যন্তর মন্তরেই সকলপ্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করল দিল্লি পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলো পুলিশ: বিকল্প তিন স্থান নির্ধারণ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ রাজনৈতিক ও সামাজিক যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার স্বাক্ষরিত এক জরুরি দাপ্তরিক নির্দেশে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জারিকৃত লিখিত নির্দেশে যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ ও জনসভার জন্য বিকল্প হিসেবে দিল্লির তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানগুলো হলো— ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল এক আদেশের মাধ্যমে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও মিছিল-সমাবেশ আয়োজনের জন্য আনুষ্ঠানিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ১২ অক্টোবরের এই নতুন অধ্যাদেশের ফলে ২০২২ সালের সেই পুরনো আদেশটি কার্যকরভাবে বাতিল হয়ে গেল। পুলিশের নির্দেশে বলা হয়েছে, নতুন তিন স্থানে সভা-সমাবেশ আয়োজনের জন্য শিগগিরই নতুন ও সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি/SOP) জারি করা হবে। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আলোচিত তরুণ রাজনৈতিক জোট 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র জোরদার আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তর এলাকাটি পুনরায় ভারতীয় রাজনীতিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুনে এই যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন ব্যাপক সফলতা পায়।

পরবর্তীতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে পুলিশি কড়াকড়ির কারণে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়নি এবং সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে পুলিশ আটক করে। গতকাল রোববার ১ বছরের ‘শান্ত থাকার’ মুচলেকায় মুক্তি পান অভিজিৎ।

এরই মধ্যে রোববার সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নতুন করে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি চান। তবে সিজেপির দেওয়া সেই আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সরাসরি যন্তর মন্তরেই সকলপ্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করল দিল্লি পুলিশ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল