দিকপাল

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হচ্ছে সোয়াব ও পোশাক, আটক ১


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:০৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হচ্ছে সোয়াব ও পোশাক, আটক ১

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের সময় সংগৃহীত সোয়াবের নমুনা এবং তার পরিধেয় পোশাক ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিরও ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল ফারুক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্তে কোনো দিকই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগী কিশোরীর কক্সবাজারে যাতায়াত এবং সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে এক তরুণের সঙ্গে অবস্থানের বিষয়টিও ইতিমধ্যে পুলিশের অনুসন্ধানে শনাক্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারের ওই হোটেলে কিশোরীকে ডেকে নেওয়া তরুণকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, কিশোরীকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়ার অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। রাজু বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকার মনির আহমেদের ছেলে এবং তিনি ওই হোটেলের বয় হিসেবে কাজ করতেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, কুমিল্লা জেলা পুলিশের অনুরোধে তাকে আটক করার পর কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এর আগে মামলার আরেক আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া গত শনিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় ওই ছাত্রী। ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরে ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠালেও বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তা দেখতে পাননি।

পরবর্তীতে গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও তদন্তের ভিত্তিতে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিষয় : ফরেনসিক ডিএনএ

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হচ্ছে সোয়াব ও পোশাক, আটক ১

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের সময় সংগৃহীত সোয়াবের নমুনা এবং তার পরিধেয় পোশাক ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিরও ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল ফারুক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্তে কোনো দিকই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগী কিশোরীর কক্সবাজারে যাতায়াত এবং সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে এক তরুণের সঙ্গে অবস্থানের বিষয়টিও ইতিমধ্যে পুলিশের অনুসন্ধানে শনাক্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারের ওই হোটেলে কিশোরীকে ডেকে নেওয়া তরুণকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, কিশোরীকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়ার অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। রাজু বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকার মনির আহমেদের ছেলে এবং তিনি ওই হোটেলের বয় হিসেবে কাজ করতেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, কুমিল্লা জেলা পুলিশের অনুরোধে তাকে আটক করার পর কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মামলার আরেক আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া গত শনিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় ওই ছাত্রী। ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরে ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠালেও বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তা দেখতে পাননি।

পরবর্তীতে গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও তদন্তের ভিত্তিতে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল