চট্টগ্রাম নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে টাইগারপাসের নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও টানাপোড়েনের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরদিনই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে হঠাৎ বদলি করায় নগরীর রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্দরে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা পূর্বে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তবে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, হত্যা ও জমি দখলসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে চলতি বছরের জুনে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা-পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ তাঁকে আটকের চেষ্টা করলে বিএনপি নেতা ও মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। দীর্ঘ সময় পুলিশের অবস্থানের পরও শেষ পর্যন্ত বগাকে গ্রেপ্তার ছাড়াই ফিরে যেতে হয়। ঘটনার বিষয়ে মেয়র দাবি করেন, বগা নয়; বরং একটি অভিযোগ নিয়ে তাঁর দুই ভাই নগর ভবনে এসেছিলেন।
অভিযানের পরদিন এক ব্রিফিংয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বগাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পক্ষে সাফাই গান এবং খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা ও বিএনপি কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। যদিও ওসি আবদুর রহিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বগাকে গ্রেপ্তারে পূর্বে পরিচালিত অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল।
এদিকে, নগর ভবনের এই অপ্রীতিকর ঘটনা এবং মেয়রের প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশের পরদিনই মাত্র ৪২ দিনের মাথায় খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে চট্টগ্রাম সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চে (সিটিএসবি) বদলি করা হয়। তাঁর জায়গায় আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ এই বদলি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এটিকে ‘রুটিন বদলি’ বলে দাবি করেছেন এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে রাজনৈতিক চাপের মুখে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার এই দ্রুত বদলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে টাইগারপাসের নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও টানাপোড়েনের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরদিনই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে হঠাৎ বদলি করায় নগরীর রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্দরে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা পূর্বে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তবে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, হত্যা ও জমি দখলসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে চলতি বছরের জুনে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা-পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ তাঁকে আটকের চেষ্টা করলে বিএনপি নেতা ও মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। দীর্ঘ সময় পুলিশের অবস্থানের পরও শেষ পর্যন্ত বগাকে গ্রেপ্তার ছাড়াই ফিরে যেতে হয়। ঘটনার বিষয়ে মেয়র দাবি করেন, বগা নয়; বরং একটি অভিযোগ নিয়ে তাঁর দুই ভাই নগর ভবনে এসেছিলেন।
অভিযানের পরদিন এক ব্রিফিংয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বগাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পক্ষে সাফাই গান এবং খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা ও বিএনপি কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। যদিও ওসি আবদুর রহিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বগাকে গ্রেপ্তারে পূর্বে পরিচালিত অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল।
এদিকে, নগর ভবনের এই অপ্রীতিকর ঘটনা এবং মেয়রের প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশের পরদিনই মাত্র ৪২ দিনের মাথায় খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে চট্টগ্রাম সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চে (সিটিএসবি) বদলি করা হয়। তাঁর জায়গায় আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ এই বদলি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এটিকে ‘রুটিন বদলি’ বলে দাবি করেছেন এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে রাজনৈতিক চাপের মুখে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার এই দ্রুত বদলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন