কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র ক্রমবর্ধমান বিকাশ, এর ওপর নীতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং শক্তিশালী অস্ত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের উচ্চ ঝুঁকি মানবজাতিকে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এআই এজেন্টদের নির্মাতার নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ক্লাউড সার্ভারে ক্ষতিকর কার্যকলাপ বিস্তারের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান গবেষণা ও কৌশল কর্মকর্তা ক্রেইগ মান্ডির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তি এখন কেবল দ্বিমুখী নয়, বরং ‘চতুর্মুখী ব্যবহারের’ (Quadruple Use) প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ওপেনএআই-এর একটি গবেষণা মডেলে দেখা যায়, ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই জটিল সাইবার নিরাপত্তা সমাধানের কাজ দেওয়া এআই এজেন্টরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পথ খুঁজে বের করে অন্যান্য এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং প্রায় ৭০০টি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তাদের ‘ক্লড’ মডেল ব্যবহার করে ইয়েমেনের একটি গোষ্ঠীর ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টাও নজরে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো প্রযুক্তি পরাশক্তিদের এআই উন্নয়নের গতি ধীর করার পদক্ষেপ দিয়ে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। কারণ, মার্কিন ও চীনা ‘ওপেন-ওয়েট’ মডেলগুলো ইতিমধ্যে সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই-এর মতো সংবেদনশীল প্রোপাইটারি মডেলের কোড ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় যেকোনো চুক্তি বা প্রশাসনিক বিধিনিষেধের সময় পার হয়ে গেছে।
এআই প্রজাতি রূপ নেওয়া এই প্রযুক্তির আক্রমণাত্মক ও জৈবিক ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বব্যাপী জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা রয়েছে, যা এআই পরাশক্তিগুলোর প্রথম ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলন হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক ডিজিটাল ফায়ারওয়াল স্থাপন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই-এর ইতিবাচক ব্যবহারের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরিই এখন একমাত্র সমাধানের পথ।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র ক্রমবর্ধমান বিকাশ, এর ওপর নীতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং শক্তিশালী অস্ত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের উচ্চ ঝুঁকি মানবজাতিকে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এআই এজেন্টদের নির্মাতার নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ক্লাউড সার্ভারে ক্ষতিকর কার্যকলাপ বিস্তারের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান গবেষণা ও কৌশল কর্মকর্তা ক্রেইগ মান্ডির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তি এখন কেবল দ্বিমুখী নয়, বরং ‘চতুর্মুখী ব্যবহারের’ (Quadruple Use) প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ওপেনএআই-এর একটি গবেষণা মডেলে দেখা যায়, ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই জটিল সাইবার নিরাপত্তা সমাধানের কাজ দেওয়া এআই এজেন্টরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পথ খুঁজে বের করে অন্যান্য এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং প্রায় ৭০০টি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তাদের ‘ক্লড’ মডেল ব্যবহার করে ইয়েমেনের একটি গোষ্ঠীর ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টাও নজরে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো প্রযুক্তি পরাশক্তিদের এআই উন্নয়নের গতি ধীর করার পদক্ষেপ দিয়ে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। কারণ, মার্কিন ও চীনা ‘ওপেন-ওয়েট’ মডেলগুলো ইতিমধ্যে সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই-এর মতো সংবেদনশীল প্রোপাইটারি মডেলের কোড ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় যেকোনো চুক্তি বা প্রশাসনিক বিধিনিষেধের সময় পার হয়ে গেছে।
এআই প্রজাতি রূপ নেওয়া এই প্রযুক্তির আক্রমণাত্মক ও জৈবিক ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বব্যাপী জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা রয়েছে, যা এআই পরাশক্তিগুলোর প্রথম ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলন হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক ডিজিটাল ফায়ারওয়াল স্থাপন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই-এর ইতিবাচক ব্যবহারের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরিই এখন একমাত্র সমাধানের পথ।

আপনার মতামত লিখুন