তুরস্কের আঙ্কারায় সদ্য সমাপ্ত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের বিদায়ী উপহার হিসেবে তাজা গুলিসহ একটি করে ভিন্টেজ রিভলভার উপহার দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এরদোয়ানের এই নজিরবিহীন ও ব্যতিক্রমী উপহারের কারণে সম্মেলন শেষে নিজ দেশে ফিরে আইনি ও নিরাপত্তাজনিত এক অদ্ভুত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। মূলত তুরস্কের বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এরদোয়ান এই কৌশল বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব দেশের সরকারপ্রধানদের একই মডেলের রিভলভার উপহার দেওয়া হয়েছে, যার ওপর প্রত্যেকের নাম খোদাই করে লেখা রয়েছে। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কাঠের তৈরি একটি দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে বক্সে রিভলভারটি সাজানো রয়েছে যার নাম ‘গুমুশায়, আমাদের দেশে তৈরি প্রথম রিভলভার ঘরানার হ্যান্ডগান’। এই উপহারের বক্সে কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং ব্যবহারের উপযোগী তাজা গুলি এবং ক্লিনিং কিটও দেওয়া হয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপহারের বক্সে রিভলভারের সঙ্গে ৫০০ রাউন্ড তাজা গুলি ছিল।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন মারাত্মক ও লাইভ আগ্নেয়াস্ত্র উপহার পেয়ে নিজ দেশে ফেরার পর রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছেন ন্যাটোভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ভেভার আঙ্কারা থেকে দেশে নেমেই তাঁর লাগেজে হ্যান্ডগান ও গোলাবারুদ দেখে কিছুটা বিস্মিত হন এবং পরে তিনি নিয়মানুযায়ী ব্রাসেলস বিমানবন্দর পুলিশের কাছে এটি হস্তান্তর করেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরকির একজন সহকারী জানিয়েছেন, তাদের রিভলভারটি বর্তমানে ওয়ারশ বিমানবন্দরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় আছে এবং এটি একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আইনি জটিলতা এড়াতে তারা রিভলভারগুলো আঙ্কারায় নিজ নিজ দূতাবাসে রেখে এসেছেন। ডাচ সরকার তাদের রিভলভারটি স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং সুইডিশ সরকার এটি দেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আমদানি নথিপত্র তৈরির কাজ করছে। এছাড়া ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রিভলভারটি ইতিমধ্যেই ইতালির সরকারি ভবন ‘প্যালাজ্জো চিজি’-তে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন তাঁর রিভলভারটি একটি সামরিক জাদুঘরে অনুদান হিসেবে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তুরস্কের আধুনিক হ্যান্ডগান শিল্প মূলত সেমি-অটোমেটিক অস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, ১৯৯০-এর দশকে তুর্কি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এমকেই’ (MKE) কর্তৃক উৎপাদিত এই ‘গুমুশায় .৩৫৭ ম্যাগনাম’ সিক্স-শুটার রিভলভারটি বর্তমানে অস্ত্র সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত দুর্লভ ও কৌতূহলের বস্তু। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম মূল্যের পিস্তল এবং শটগান তৈরি করে ইউরোপের বেসামরিক অস্ত্রের বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তুর্কি অস্ত্র নির্মাতারা। এর মাধ্যমে তারা ইতালি ও বেলজিয়ামের মতো ঐতিহ্যবাহী ও ব্যয়বহুল স্পোর্টিং ও সার্ভিস উইপন ব্র্যান্ডগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জেনেভাভিত্তিক ‘স্মল আর্মস সার্ভে’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পরই তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তুরস্ক। এই পাঁচ বছরে দেশটি প্রায় ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) মার্কিন ডলারের ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানি করেছে।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
তুরস্কের আঙ্কারায় সদ্য সমাপ্ত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের বিদায়ী উপহার হিসেবে তাজা গুলিসহ একটি করে ভিন্টেজ রিভলভার উপহার দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এরদোয়ানের এই নজিরবিহীন ও ব্যতিক্রমী উপহারের কারণে সম্মেলন শেষে নিজ দেশে ফিরে আইনি ও নিরাপত্তাজনিত এক অদ্ভুত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। মূলত তুরস্কের বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এরদোয়ান এই কৌশল বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব দেশের সরকারপ্রধানদের একই মডেলের রিভলভার উপহার দেওয়া হয়েছে, যার ওপর প্রত্যেকের নাম খোদাই করে লেখা রয়েছে। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কাঠের তৈরি একটি দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে বক্সে রিভলভারটি সাজানো রয়েছে যার নাম ‘গুমুশায়, আমাদের দেশে তৈরি প্রথম রিভলভার ঘরানার হ্যান্ডগান’। এই উপহারের বক্সে কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং ব্যবহারের উপযোগী তাজা গুলি এবং ক্লিনিং কিটও দেওয়া হয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপহারের বক্সে রিভলভারের সঙ্গে ৫০০ রাউন্ড তাজা গুলি ছিল।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন মারাত্মক ও লাইভ আগ্নেয়াস্ত্র উপহার পেয়ে নিজ দেশে ফেরার পর রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছেন ন্যাটোভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ভেভার আঙ্কারা থেকে দেশে নেমেই তাঁর লাগেজে হ্যান্ডগান ও গোলাবারুদ দেখে কিছুটা বিস্মিত হন এবং পরে তিনি নিয়মানুযায়ী ব্রাসেলস বিমানবন্দর পুলিশের কাছে এটি হস্তান্তর করেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরকির একজন সহকারী জানিয়েছেন, তাদের রিভলভারটি বর্তমানে ওয়ারশ বিমানবন্দরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় আছে এবং এটি একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আইনি জটিলতা এড়াতে তারা রিভলভারগুলো আঙ্কারায় নিজ নিজ দূতাবাসে রেখে এসেছেন। ডাচ সরকার তাদের রিভলভারটি স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং সুইডিশ সরকার এটি দেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আমদানি নথিপত্র তৈরির কাজ করছে। এছাড়া ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রিভলভারটি ইতিমধ্যেই ইতালির সরকারি ভবন ‘প্যালাজ্জো চিজি’-তে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন তাঁর রিভলভারটি একটি সামরিক জাদুঘরে অনুদান হিসেবে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তুরস্কের আধুনিক হ্যান্ডগান শিল্প মূলত সেমি-অটোমেটিক অস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, ১৯৯০-এর দশকে তুর্কি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এমকেই’ (MKE) কর্তৃক উৎপাদিত এই ‘গুমুশায় .৩৫৭ ম্যাগনাম’ সিক্স-শুটার রিভলভারটি বর্তমানে অস্ত্র সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত দুর্লভ ও কৌতূহলের বস্তু। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম মূল্যের পিস্তল এবং শটগান তৈরি করে ইউরোপের বেসামরিক অস্ত্রের বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তুর্কি অস্ত্র নির্মাতারা। এর মাধ্যমে তারা ইতালি ও বেলজিয়ামের মতো ঐতিহ্যবাহী ও ব্যয়বহুল স্পোর্টিং ও সার্ভিস উইপন ব্র্যান্ডগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জেনেভাভিত্তিক ‘স্মল আর্মস সার্ভে’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পরই তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তুরস্ক। এই পাঁচ বছরে দেশটি প্রায় ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) মার্কিন ডলারের ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন