দিকপাল

ডে-কেয়ারে রোমহর্ষক শিশু নির্যাতন, কান্না থামাতে শিশুকে ঢোকানো হতো ওয়াশিং মেশিনে


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৩:২৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ডে-কেয়ারে রোমহর্ষক শিশু নির্যাতন, কান্না থামাতে শিশুকে ঢোকানো হতো ওয়াশিং মেশিনে
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে (ডে-কেয়ার) শিশুদের ওপর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভয়াবহ নির্যাতনের এক রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানকার আয়া বা কেয়ারগিভারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দুই বছর বয়সী অবুঝ শিশুদের কান্নাকাটি থামানোর জন্য তারা সচল ওয়াশিং মেশিনের ভেতর ঢুকিয়ে তীব্র গতিতে পানি ছিটাত এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকার বাথরুমে আটকে রাখত। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার জানান, বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপজেমিনির’ এই ডে-কেয়ার কেন্দ্রটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু নিবন্ধিত রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন শিশু আসত। এই কেন্দ্রে শিশুদের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে নির্যাতন চালানো হতো। এর আগেও কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি সুপারভাইজারকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া তো হয়ইনি, উল্টো সেই তথ্যফাঁসকারীকে (হুইসেলব্লোয়ার) চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছিল না।

তবে চলতি সপ্তাহে এক অভিযোগকারীর প্রকাশ করা বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর মাধ্যমে এই নির্মম নির্যাতনের অকাট্য সত্যতা প্রমাণিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেসব ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র দুই বছরের শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে বসিয়ে ওয়াটার জেট দিয়ে তীব্র গতিতে পানি স্প্রে করা হচ্ছে। অন্য কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের ভয়ার্ত অবস্থায় দীর্ঘ সময় অন্ধকার বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

তিলকেশ কুমার বলেন, যেসব আয়াদের ওপর শিশুদের পরম যত্নে রাখার দায়িত্ব ছিল, তারাই শিশুদের সামান্য কান্নাকাটি বা শব্দ করার কারণে এই অমানবিক নির্যাতন চালাত। শিশুদের মুখ বন্ধ করতে তারা ওয়াশিং মেশিন ও বাথরুমকে শাস্তির জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। চাইল্ড হেল্পলাইনের মাধ্যমে এই অভিযোগ ও ভিডিও হাতে পাওয়ার পরপরই দ্রুত বেঙ্গালুরু পুলিশ থানায় পাঁচ জন কেয়ারগিভারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগৃহীত সব ভিডিও প্রমাণ হিসেবে ‘কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের’ কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্যাপজেমিনি কর্তৃপক্ষ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


ডে-কেয়ারে রোমহর্ষক শিশু নির্যাতন, কান্না থামাতে শিশুকে ঢোকানো হতো ওয়াশিং মেশিনে

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে (ডে-কেয়ার) শিশুদের ওপর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভয়াবহ নির্যাতনের এক রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানকার আয়া বা কেয়ারগিভারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দুই বছর বয়সী অবুঝ শিশুদের কান্নাকাটি থামানোর জন্য তারা সচল ওয়াশিং মেশিনের ভেতর ঢুকিয়ে তীব্র গতিতে পানি ছিটাত এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকার বাথরুমে আটকে রাখত। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার জানান, বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপজেমিনির’ এই ডে-কেয়ার কেন্দ্রটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু নিবন্ধিত রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন শিশু আসত। এই কেন্দ্রে শিশুদের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে নির্যাতন চালানো হতো। এর আগেও কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি সুপারভাইজারকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া তো হয়ইনি, উল্টো সেই তথ্যফাঁসকারীকে (হুইসেলব্লোয়ার) চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছিল না।

তবে চলতি সপ্তাহে এক অভিযোগকারীর প্রকাশ করা বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর মাধ্যমে এই নির্মম নির্যাতনের অকাট্য সত্যতা প্রমাণিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেসব ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র দুই বছরের শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে বসিয়ে ওয়াটার জেট দিয়ে তীব্র গতিতে পানি স্প্রে করা হচ্ছে। অন্য কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের ভয়ার্ত অবস্থায় দীর্ঘ সময় অন্ধকার বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

তিলকেশ কুমার বলেন, যেসব আয়াদের ওপর শিশুদের পরম যত্নে রাখার দায়িত্ব ছিল, তারাই শিশুদের সামান্য কান্নাকাটি বা শব্দ করার কারণে এই অমানবিক নির্যাতন চালাত। শিশুদের মুখ বন্ধ করতে তারা ওয়াশিং মেশিন ও বাথরুমকে শাস্তির জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। চাইল্ড হেল্পলাইনের মাধ্যমে এই অভিযোগ ও ভিডিও হাতে পাওয়ার পরপরই দ্রুত বেঙ্গালুরু পুলিশ থানায় পাঁচ জন কেয়ারগিভারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগৃহীত সব ভিডিও প্রমাণ হিসেবে ‘কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের’ কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্যাপজেমিনি কর্তৃপক্ষ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল