লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে এক অজানা প্রজাতির শামুকের উপদ্রব তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিনের আলোতে এদের উপস্থিতি তেমন বোঝা না গেলেও, সন্ধ্যা নামার পরপরই হাজার হাজার শামুক ঘরবাড়ি, দেয়াল, রাস্তাঘাট এবং গাছের পাতায় ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত বংশবিস্তারকারী এই শামুকের দল শাকসবজি ও ফলদ গাছের কচি ডালপালা খেয়ে সাবাড় করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে শামুকটির লালা থেকে অজানা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চর্মরোগের আশঙ্কায় দিন কাটছে ওই অঞ্চলের মানুষের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ এলাকার মনসা বাড়ি, দুর্গাবাড়ি, কালীবাড়ি ও ছিঠা ডাক্তার বাড়িসহ অন্তত ১০টি এলাকায় এই শামুকের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। অন্ধকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির নিচ ও ঝোপঝাড় থেকে বের হয়ে এগুলো ঘরের দেয়াল, গাছের কাণ্ড ও আঙিনায় বিচরণ শুরু করে।
সমসেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা দাস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাড়ির চারপাশ শামুকে ছেয়ে যায়। সকালে আবার এগুলো কোথাও লুকিয়ে পড়ে। আমাদের রোপণ করা সবজি গাছের কচি পাতা সব খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় ভয় বাচ্চাদের নিয়ে; কোন বিষাক্ত লালা শরীরে লেগে কী হয়, সেই আতঙ্কে ওদের বাইরে খেলতে দিতে পারছি না। প্রশাসন থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
ভুক্তভোগীরা জানান, এই শামুকের হাত থেকে বাঁচতে তারা লবণ, ছাই ও ঘরোয়া নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। অনেকে পলিথিনে ভরে এগুলো দূরে ফেলে দিচ্ছেন, কিন্তু পরদিনই আবার সমপরিমাণ শামুকের দেখা মিলছে। ফলে কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
এলাকাবাসীর ধারণা, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই এই বিশেষ প্রজাতির শামুকের উপদ্রব শুরু হয়, যা এর আগে কখনো এই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, এটি কৃষির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি প্রজাতি। ফসলের ক্ষতি রুখতে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে হাত দিয়ে শামুক সংগ্রহ করে ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ডিমের খোসা বা কাঠের গুঁড়ো গাছের চারপাশে ছিটিয়ে রাখলে শামুকের চলাচল ব্যাহত করা সম্ভব। এই উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়াতে এবং সমন্বিত উদ্যোগে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ উপায়ে দমন প্রক্রিয়া চালানোর আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে এক অজানা প্রজাতির শামুকের উপদ্রব তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিনের আলোতে এদের উপস্থিতি তেমন বোঝা না গেলেও, সন্ধ্যা নামার পরপরই হাজার হাজার শামুক ঘরবাড়ি, দেয়াল, রাস্তাঘাট এবং গাছের পাতায় ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত বংশবিস্তারকারী এই শামুকের দল শাকসবজি ও ফলদ গাছের কচি ডালপালা খেয়ে সাবাড় করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে শামুকটির লালা থেকে অজানা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চর্মরোগের আশঙ্কায় দিন কাটছে ওই অঞ্চলের মানুষের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ এলাকার মনসা বাড়ি, দুর্গাবাড়ি, কালীবাড়ি ও ছিঠা ডাক্তার বাড়িসহ অন্তত ১০টি এলাকায় এই শামুকের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। অন্ধকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির নিচ ও ঝোপঝাড় থেকে বের হয়ে এগুলো ঘরের দেয়াল, গাছের কাণ্ড ও আঙিনায় বিচরণ শুরু করে।
সমসেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা দাস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাড়ির চারপাশ শামুকে ছেয়ে যায়। সকালে আবার এগুলো কোথাও লুকিয়ে পড়ে। আমাদের রোপণ করা সবজি গাছের কচি পাতা সব খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় ভয় বাচ্চাদের নিয়ে; কোন বিষাক্ত লালা শরীরে লেগে কী হয়, সেই আতঙ্কে ওদের বাইরে খেলতে দিতে পারছি না। প্রশাসন থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
ভুক্তভোগীরা জানান, এই শামুকের হাত থেকে বাঁচতে তারা লবণ, ছাই ও ঘরোয়া নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। অনেকে পলিথিনে ভরে এগুলো দূরে ফেলে দিচ্ছেন, কিন্তু পরদিনই আবার সমপরিমাণ শামুকের দেখা মিলছে। ফলে কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
এলাকাবাসীর ধারণা, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই এই বিশেষ প্রজাতির শামুকের উপদ্রব শুরু হয়, যা এর আগে কখনো এই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, এটি কৃষির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি প্রজাতি। ফসলের ক্ষতি রুখতে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে হাত দিয়ে শামুক সংগ্রহ করে ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ডিমের খোসা বা কাঠের গুঁড়ো গাছের চারপাশে ছিটিয়ে রাখলে শামুকের চলাচল ব্যাহত করা সম্ভব। এই উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়াতে এবং সমন্বিত উদ্যোগে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ উপায়ে দমন প্রক্রিয়া চালানোর আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন