নকআউট পর্বের শেষ-৩২-এর ম্যাচে ফুটবলবিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। সেনেগালের কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টি গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল বেলজিয়াম। অ্যারন ভিলা মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক ইউরি টিলেমানসের ১২৫ মিনিটের বিতর্কিত পেনাল্টি গোলে সেনেগালকে স্তব্ধ করে শেষ-১৬ নিশ্চিত করেছে রুডি গার্সিয়ার দল। শেষ-১৬-র লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র অথবা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় সেনেগাল। ২৫ মিনিটে সাদিও মানের ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের নেওয়া হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করে আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৫১ মিনিটে) ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাতের দূরপাল্লার পাস থেকে চমৎকার এক ভলিতে ব্যবধান ২-০ করেন ইসমাইলা সার।
ম্যাচ যখন পুরোপুরি সেনেগালের নিয়ন্ত্রণে, তখন বেলজিয়াম শিবিরের ভেতরেই উত্তেজনা ছড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের ড্রিংকস ব্রেকের সময় অধিনায়ক টিলেমানস ও উইঙ্গার লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডকে নিজেদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া করতে দেখা যায়, যা পরে লুকাকু এসে শান্ত করেন। তবে ম্যাচের আসল গল্প বদলে যায় ৮৬ মিনিটে, যখন থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ফ্লিকে গোল করে বেলজিয়ামের আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন বদলি নামা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু।
এর ঠিক তিন মিনিট পর (৮৯ মিনিটে) সেই ঝগড়া করা ট্রোসার্ডের ক্রসে সেনেগাল গোলরক্ষক ভুল করলে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডারে বল জালে জড়ান অধিনায়ক টিলেমানস। ২-২ ব্যবধানে সমতা আসায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের খেলা যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক ১২৫ মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা।
বক্সের ভেতর টিলেমানসকে স্লাইডিং ট্যাকল করেছিলেন সেনেগালের লামিন কামারা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) দীর্ঘ ৭ মিনিট ধরে রিপ্লে পরীক্ষা করে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির রায় দেন। তীব্র উত্তেজনার মুখেও ঠাণ্ডা মাথায় স্পট-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন টিলেমানস।
বেলজিয়ামের ‘সোনালী প্রজন্ম’ ট্রফি ছাড়াই একে একে বিদায় নিলেও দলের বাকি থাকা অভিজ্ঞ লুকাকু ও ডি ব্রুইনার সামনে এই জয় আরও একটি সুযোগ এনে দিল। অন্যদিকে, সেনেগালের জন্য এটি আরও একটি বড় আন্তর্জাতিক ট্র্যাজেডি। গত জানুয়ারিতে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শিরোপা হারানোর পর, বিশ্বকাপে বড় কিছুর স্বপ্ন নিয়ে আসা পাপে থিয়াউয়ের দল আরও একবার শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি ভাগ্যের শিকার হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিল।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
নকআউট পর্বের শেষ-৩২-এর ম্যাচে ফুটবলবিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। সেনেগালের কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টি গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল বেলজিয়াম। অ্যারন ভিলা মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক ইউরি টিলেমানসের ১২৫ মিনিটের বিতর্কিত পেনাল্টি গোলে সেনেগালকে স্তব্ধ করে শেষ-১৬ নিশ্চিত করেছে রুডি গার্সিয়ার দল। শেষ-১৬-র লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র অথবা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় সেনেগাল। ২৫ মিনিটে সাদিও মানের ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের নেওয়া হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করে আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৫১ মিনিটে) ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাতের দূরপাল্লার পাস থেকে চমৎকার এক ভলিতে ব্যবধান ২-০ করেন ইসমাইলা সার।
ম্যাচ যখন পুরোপুরি সেনেগালের নিয়ন্ত্রণে, তখন বেলজিয়াম শিবিরের ভেতরেই উত্তেজনা ছড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের ড্রিংকস ব্রেকের সময় অধিনায়ক টিলেমানস ও উইঙ্গার লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডকে নিজেদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া করতে দেখা যায়, যা পরে লুকাকু এসে শান্ত করেন। তবে ম্যাচের আসল গল্প বদলে যায় ৮৬ মিনিটে, যখন থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ফ্লিকে গোল করে বেলজিয়ামের আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন বদলি নামা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু।
এর ঠিক তিন মিনিট পর (৮৯ মিনিটে) সেই ঝগড়া করা ট্রোসার্ডের ক্রসে সেনেগাল গোলরক্ষক ভুল করলে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডারে বল জালে জড়ান অধিনায়ক টিলেমানস। ২-২ ব্যবধানে সমতা আসায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের খেলা যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক ১২৫ মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা।
বক্সের ভেতর টিলেমানসকে স্লাইডিং ট্যাকল করেছিলেন সেনেগালের লামিন কামারা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) দীর্ঘ ৭ মিনিট ধরে রিপ্লে পরীক্ষা করে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির রায় দেন। তীব্র উত্তেজনার মুখেও ঠাণ্ডা মাথায় স্পট-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন টিলেমানস।
বেলজিয়ামের ‘সোনালী প্রজন্ম’ ট্রফি ছাড়াই একে একে বিদায় নিলেও দলের বাকি থাকা অভিজ্ঞ লুকাকু ও ডি ব্রুইনার সামনে এই জয় আরও একটি সুযোগ এনে দিল। অন্যদিকে, সেনেগালের জন্য এটি আরও একটি বড় আন্তর্জাতিক ট্র্যাজেডি। গত জানুয়ারিতে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শিরোপা হারানোর পর, বিশ্বকাপে বড় কিছুর স্বপ্ন নিয়ে আসা পাপে থিয়াউয়ের দল আরও একবার শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি ভাগ্যের শিকার হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিল।

আপনার মতামত লিখুন