ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেই রূপকথার জন্ম দিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দে। সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের সাথে একই গ্রুপে পড়েও সব চ্যালেঞ্জ টপকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোনোর এক নতুন রেকর্ড গড়েছে।
তবে গ্রুপ পর্বের রূপকথা শেষে এবার কেপ ভার্দের সামনে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পর্বতসম চ্যালেঞ্জ। আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটিকে ঘিরে এখন চরম রোমাঞ্চ কাজ করছে খোদ কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেসের মনে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিতে পারে এবং তা হবে তাদের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের সমতুল্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ (BBC)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস বলেন, “আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে। আমরা স্রেফ অংশ নিতে নয়, বরং জেতার জন্যই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের ওপর ফুটবল বিশ্বের প্রত্যাশার চাপ কম থাকে, কিন্তু দলের ভেতরের জয়ের ক্ষুধা থাকে প্রবল, তখন মাঠে যেকোনো অবিশ্বাস্য কিছুই ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব।”
২০২১ সাল থেকে কেপ ভার্দের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসা নেভেস আরও যোগ করেন, “নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আমাদের ১০০% বিশ্বাস ও ১০০% আশা আছে। আমরা আমাদের জাতীয় জার্সির মর্যাদা রাখতে মাঠের শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করব। কেপ ভার্দে যদি কোনোভাবে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিতে পারে, তাহলে ধরে নেব আমরা ওখানেই বিশ্বকাপ জিতে গেছি। কেপ ভার্দের পুরো ইতিহাস ও জাতির জন্য এটি হবে এক অবিশ্বাস্য এবং অমর অর্জন।”
অন্য দিকে, কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে আফ্রিকার ঘানার আলোচিত ও বিতর্কিত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসামও এক চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর দাবি, এই ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেবে এই পুঁচকে কেপ ভার্দে। এখন মাঠের লড়াইয়ে প্রেসিডেন্টের অটুট বিশ্বাস আর জাদুকরের এই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে পারে কিনা, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এখন সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের অপেক্ষায়।
ফুটবল বিশ্বকাপে এমন 'ডেভিড বনাম গোলিয়াথ' বা চুনোপুঁটির সাথে মহাশক্তির লড়াই-ই বিশ্বকাপের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একদিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা; অন্যদিকে বিশ্বকাপের আঙিনায় একদম নবাগত কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা বহুগুণ এগিয়ে থাকলেও, কেপ ভার্দের হারাবার কিছু নেই—আর এই ভয়হীন মানসিকতাই নকআউট পর্বে সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। মায়ামির মাঠে আলবিসেলেস্তেরা এই চাপ কীভাবে সামাল দেয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেই রূপকথার জন্ম দিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দে। সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের সাথে একই গ্রুপে পড়েও সব চ্যালেঞ্জ টপকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোনোর এক নতুন রেকর্ড গড়েছে।
তবে গ্রুপ পর্বের রূপকথা শেষে এবার কেপ ভার্দের সামনে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পর্বতসম চ্যালেঞ্জ। আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটিকে ঘিরে এখন চরম রোমাঞ্চ কাজ করছে খোদ কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেসের মনে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিতে পারে এবং তা হবে তাদের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের সমতুল্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ (BBC)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস বলেন, “আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে। আমরা স্রেফ অংশ নিতে নয়, বরং জেতার জন্যই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের ওপর ফুটবল বিশ্বের প্রত্যাশার চাপ কম থাকে, কিন্তু দলের ভেতরের জয়ের ক্ষুধা থাকে প্রবল, তখন মাঠে যেকোনো অবিশ্বাস্য কিছুই ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব।”
২০২১ সাল থেকে কেপ ভার্দের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসা নেভেস আরও যোগ করেন, “নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আমাদের ১০০% বিশ্বাস ও ১০০% আশা আছে। আমরা আমাদের জাতীয় জার্সির মর্যাদা রাখতে মাঠের শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করব। কেপ ভার্দে যদি কোনোভাবে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিতে পারে, তাহলে ধরে নেব আমরা ওখানেই বিশ্বকাপ জিতে গেছি। কেপ ভার্দের পুরো ইতিহাস ও জাতির জন্য এটি হবে এক অবিশ্বাস্য এবং অমর অর্জন।”
অন্য দিকে, কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে আফ্রিকার ঘানার আলোচিত ও বিতর্কিত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসামও এক চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর দাবি, এই ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেবে এই পুঁচকে কেপ ভার্দে। এখন মাঠের লড়াইয়ে প্রেসিডেন্টের অটুট বিশ্বাস আর জাদুকরের এই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে পারে কিনা, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এখন সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের অপেক্ষায়।
ফুটবল বিশ্বকাপে এমন 'ডেভিড বনাম গোলিয়াথ' বা চুনোপুঁটির সাথে মহাশক্তির লড়াই-ই বিশ্বকাপের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একদিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা; অন্যদিকে বিশ্বকাপের আঙিনায় একদম নবাগত কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা বহুগুণ এগিয়ে থাকলেও, কেপ ভার্দের হারাবার কিছু নেই—আর এই ভয়হীন মানসিকতাই নকআউট পর্বে সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। মায়ামির মাঠে আলবিসেলেস্তেরা এই চাপ কীভাবে সামাল দেয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

আপনার মতামত লিখুন