নামকাওয়াস্তে জুলাই পালন করলে হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম. তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ এখনো অধরাই রয়ে গেছে এবং আন্দোলনে নিহত ও আহত যোদ্ধারা এখনো পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাননি. এই সরকার আসার পর থেকে মাত্র দুটি মামলার রায় পাওয়া গেছে উল্লেখ করে বিচারকাজের ধীরগতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে দলটির নেতারা ঢাকার রায়েরবাজারে আন্দোলনে নিহতদের গণকবর জিয়ারত করেন. এরপর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দেন, আজ থেকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন দেশজুড়ে 'জুলাই' নিয়ে এনসিপির নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম চলবে।
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত কবরস্থানগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যথাযথভাবে সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জোর দাবি জানান. জুলাই জাদুঘর অবিলম্বে চালুর দাবি তুলে তিনি সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, "আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দেওয়া না হলে জনগণই তা নিজ দায়িত্বে খুলে দেবে. সরকারকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা জুলাইয়ের স্পিরিটের পক্ষে।"
বক্তব্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া আদালতের কারাদণ্ডের রায় নিয়েও কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক. তিনি মনে করেন, ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া কোনোভাবেই যথেষ্ট নয় এবং রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন. একই সাথে ট্রাইব্যুনাল ও সরকার যেন জুলাই সংক্রান্ত সকল মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করে, সেই দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন নাহিদ ইসলাম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের এই বক্তব্য অন্তর্বর্তী বা বর্তমান সরকারের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। আন্দোলনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের মনে বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং হাসানুল হক ইনুর মতো হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক নেতাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবিগুলো আগামী দিনগুলোতে রাজপথের রাজনীতিকে পুনরায় উত্তপ্ত করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
নামকাওয়াস্তে জুলাই পালন করলে হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম. তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ এখনো অধরাই রয়ে গেছে এবং আন্দোলনে নিহত ও আহত যোদ্ধারা এখনো পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাননি. এই সরকার আসার পর থেকে মাত্র দুটি মামলার রায় পাওয়া গেছে উল্লেখ করে বিচারকাজের ধীরগতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে দলটির নেতারা ঢাকার রায়েরবাজারে আন্দোলনে নিহতদের গণকবর জিয়ারত করেন. এরপর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দেন, আজ থেকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন দেশজুড়ে 'জুলাই' নিয়ে এনসিপির নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম চলবে।
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত কবরস্থানগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যথাযথভাবে সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জোর দাবি জানান. জুলাই জাদুঘর অবিলম্বে চালুর দাবি তুলে তিনি সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, "আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দেওয়া না হলে জনগণই তা নিজ দায়িত্বে খুলে দেবে. সরকারকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা জুলাইয়ের স্পিরিটের পক্ষে।"
বক্তব্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া আদালতের কারাদণ্ডের রায় নিয়েও কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক. তিনি মনে করেন, ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া কোনোভাবেই যথেষ্ট নয় এবং রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন. একই সাথে ট্রাইব্যুনাল ও সরকার যেন জুলাই সংক্রান্ত সকল মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করে, সেই দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন নাহিদ ইসলাম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের এই বক্তব্য অন্তর্বর্তী বা বর্তমান সরকারের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। আন্দোলনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের মনে বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং হাসানুল হক ইনুর মতো হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক নেতাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবিগুলো আগামী দিনগুলোতে রাজপথের রাজনীতিকে পুনরায় উত্তপ্ত করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন