দিকপাল

প্রশ্নফাঁস হলে সারা দেশের পরীক্ষা স্থগিত

অভিন্ন প্রশ্নে কাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ১১:৫৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিন্ন প্রশ্নে কাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

দেশজুড়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা. উচ্চমাধ্যমিক স্তরের এই চূড়ান্ত মূল্যায়নে এবার দেশের সবকটি শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন বা একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে. পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও সম্পূর্ণ প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার ৪৭২ জন বেশি. এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন পরীক্ষার্থী. আগামীকাল পরীক্ষার প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ‘বাংলা প্রথম পত্র’ বিষয়ের মাধ্যমে এই পরীক্ষা পর্ব শুরু হবে. পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা চলবে এবং পরবর্তী সময়ে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এবার সারাদেশে মোট ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বোর্ড কর্তৃপক্ষ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে. এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০টি কেন্দ্রই রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত. পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র ও খাতা সংরক্ষণ, পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহার এবং শৌচাগার তল্লাশিসহ মোট ৩৫টি সুনির্দিষ্ট ও কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারির কারণে এবার প্রশ্নফাঁসের বিন্দুমাত্র কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা নেই. সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে. তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, যদি কোনো কারণে কোথাও প্রশ্নফাঁসের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন প্রশ্নপত্রে সেই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

অন্য দিকে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অসদুপায় রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন. তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এবার কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে যদি নকল ধরা পড়ে, তবে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না; বরং নকলের সুযোগ দেওয়ার অপরাধে বা যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়। এবারের পরীক্ষায় যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নপত্র এবং কেন্দ্রগুলোতে ৩৫ দফার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তাই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোবাইল ফোন কেন্দ্রে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গুজব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের 'ভুয়া প্রশ্নপত্র' বা সাজেশনের পেছনে সময় নষ্ট না করে সম্পূর্ণ নিজেদের মেধার ওপর ভরসা রাখার জন্য শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদেরও কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে জমায়েত না হয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


অভিন্ন প্রশ্নে কাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা. উচ্চমাধ্যমিক স্তরের এই চূড়ান্ত মূল্যায়নে এবার দেশের সবকটি শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন বা একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে. পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও সম্পূর্ণ প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার ৪৭২ জন বেশি. এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন পরীক্ষার্থী. আগামীকাল পরীক্ষার প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ‘বাংলা প্রথম পত্র’ বিষয়ের মাধ্যমে এই পরীক্ষা পর্ব শুরু হবে. পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা চলবে এবং পরবর্তী সময়ে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এবার সারাদেশে মোট ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বোর্ড কর্তৃপক্ষ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে. এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০টি কেন্দ্রই রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত. পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র ও খাতা সংরক্ষণ, পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহার এবং শৌচাগার তল্লাশিসহ মোট ৩৫টি সুনির্দিষ্ট ও কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারির কারণে এবার প্রশ্নফাঁসের বিন্দুমাত্র কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা নেই. সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে. তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, যদি কোনো কারণে কোথাও প্রশ্নফাঁসের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন প্রশ্নপত্রে সেই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

অন্য দিকে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অসদুপায় রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন. তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এবার কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে যদি নকল ধরা পড়ে, তবে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না; বরং নকলের সুযোগ দেওয়ার অপরাধে বা যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়। এবারের পরীক্ষায় যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নপত্র এবং কেন্দ্রগুলোতে ৩৫ দফার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তাই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোবাইল ফোন কেন্দ্রে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গুজব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের 'ভুয়া প্রশ্নপত্র' বা সাজেশনের পেছনে সময় নষ্ট না করে সম্পূর্ণ নিজেদের মেধার ওপর ভরসা রাখার জন্য শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদেরও কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে জমায়েত না হয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করা উচিত।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল