দিকপাল

ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথে বাধা


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | ১১:৩৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথে বাধা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ঋণখেলাপী হওয়ার কারণে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দেওয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। এর আগে হাইকোর্টের এক আদেশে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়লাভ করেন। তবে ঋণখেলাপের বিষয়টি সামনে এনে হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করেছিলেন ওই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে বিজয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। এরপর গত ৩১ মার্চ আনোয়ার সিদ্দিকী পৃথক আপিল দায়ের করেন, যা ২৮ এপ্রিল চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ এই রায় এলো।

মামলার অন্যতম পক্ষ জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী শিশির মনির রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আসলাম চৌধুরীর বিজয়ী হওয়ার ফলাফল এবং প্রার্থিতা পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল। তবে এই আসনে এখন নতুন করে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে কি না—তা আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি খেলাপি ঋণের দায়মুক্ত না হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তার প্রার্থিতা অবৈধ বলে গণ্য হয়। আসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে এই আইনি ধারাটি কঠোরভাবে বজায় রাখলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী বিজয়ী হলেও আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ স্থগিত ছিল। আজকের এই রায়ের পর ওই আসনের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমীকরণ এখন নতুন মোড় নিল।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথে বাধা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ঋণখেলাপী হওয়ার কারণে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দেওয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। এর আগে হাইকোর্টের এক আদেশে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়লাভ করেন। তবে ঋণখেলাপের বিষয়টি সামনে এনে হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করেছিলেন ওই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে বিজয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। এরপর গত ৩১ মার্চ আনোয়ার সিদ্দিকী পৃথক আপিল দায়ের করেন, যা ২৮ এপ্রিল চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ এই রায় এলো।

মামলার অন্যতম পক্ষ জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী শিশির মনির রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আসলাম চৌধুরীর বিজয়ী হওয়ার ফলাফল এবং প্রার্থিতা পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল। তবে এই আসনে এখন নতুন করে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে কি না—তা আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি খেলাপি ঋণের দায়মুক্ত না হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তার প্রার্থিতা অবৈধ বলে গণ্য হয়। আসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে এই আইনি ধারাটি কঠোরভাবে বজায় রাখলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী বিজয়ী হলেও আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ স্থগিত ছিল। আজকের এই রায়ের পর ওই আসনের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমীকরণ এখন নতুন মোড় নিল।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল