দিকপাল

জুলাই থেকেই মিলতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই থেকেই মিলতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকেই নতুন পে-স্কেলের সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সামগ্রিক পে-স্কেলটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও, প্রথম ধাপেই মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে যোগ হতে পারে। চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে পারে অর্থ বিভাগ।

প্রাথমিকভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে তিন বছর ও দুই বছর মেয়াদি দুটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল। তিন বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে এবং তৃতীয় বছরে গিয়ে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল। তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, দুই ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতিতে (আইবিএএসপ্লাসপ্লাস) বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই জটিলতা এড়াতে তারা প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করার পক্ষে সুপারিশ করেছে। অবশ্য ভাতা ও অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে সামগ্রিক পে-স্কেলটি দুই ধাপেই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সবকিছুই এখন প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন মিললে জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা তার পরের সপ্তাহেই গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছু কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হতে পারে। সামগ্রিকভাবে এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের নতুন এই বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। অথচ এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। সেটি বিবেচনায় নিয়েই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ বরাদ্দটি ‘নেট পাবলিক সার্ভিস’ খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি অনুযায়ী এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে।

এর আগে ২০১৫ সালে দেশে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময়ও দুই ধাপে এটি বাস্তবায়ন করে সরকার। প্রথম বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে শুধু সংশোধিত মূল বেতন এবং এর পরের বছর ২০১৬ সালে সংশোধিত ভাতাগুলো কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


জুলাই থেকেই মিলতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকেই নতুন পে-স্কেলের সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সামগ্রিক পে-স্কেলটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও, প্রথম ধাপেই মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে যোগ হতে পারে। চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে পারে অর্থ বিভাগ।

প্রাথমিকভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে তিন বছর ও দুই বছর মেয়াদি দুটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল। তিন বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে এবং তৃতীয় বছরে গিয়ে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল। তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, দুই ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতিতে (আইবিএএসপ্লাসপ্লাস) বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই জটিলতা এড়াতে তারা প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করার পক্ষে সুপারিশ করেছে। অবশ্য ভাতা ও অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে সামগ্রিক পে-স্কেলটি দুই ধাপেই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সবকিছুই এখন প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন মিললে জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা তার পরের সপ্তাহেই গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছু কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হতে পারে। সামগ্রিকভাবে এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের নতুন এই বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। অথচ এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। সেটি বিবেচনায় নিয়েই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ বরাদ্দটি ‘নেট পাবলিক সার্ভিস’ খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি অনুযায়ী এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে।

এর আগে ২০১৫ সালে দেশে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময়ও দুই ধাপে এটি বাস্তবায়ন করে সরকার। প্রথম বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে শুধু সংশোধিত মূল বেতন এবং এর পরের বছর ২০১৬ সালে সংশোধিত ভাতাগুলো কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল