দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যেখানে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও একশ একুশ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি স্বাস্থ্য অভিযান ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু না হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গত দিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে ৪১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে সতেরো জন, ঢাকা বিভাগে দশ জন, খুলনা বিভাগে বারো জন এবং রাজশাহী বিভাগে আট জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের সবাই নিজ নিজ বিভাগের সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরের বাসিন্দা। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের চিত্রও বেশ হতাশাজনক। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সতেরো জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ষোল জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে একশ আট জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন, যা সংকটময় এই সময়ে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুর প্রভাব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পহেলা জানুয়ারি থেকে তেইশে জুন পর্যন্ত সারা দেশে মোট পাঁচ হাজার একশ ষাট জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, যা মোট আক্রান্তের বাষট্টি দশমিক পাঁচ শতাংশ। অন্যদিকে নারী আক্রান্তের হার সাইত্রিশ দশমিক পাঁচ শতাংশ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে দশটি প্রাণ। মৃতদের মাসভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই জন করে চার জন, মে মাসে এক জন এবং জুন মাসের প্রথম তেইশ দিনে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। গত বছর অর্থাৎ দুই হাজার পঁচিশ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, যেখানে মোট এক লাখ দুই হাজার আটশ একষট্টি জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়েছিল চারশ তেরো জনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গুর এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করতে হলে সাধারণ নাগরিকদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে নিজেদের বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, টায়ার বা পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যেখানে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও একশ একুশ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি স্বাস্থ্য অভিযান ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু না হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গত দিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে ৪১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে সতেরো জন, ঢাকা বিভাগে দশ জন, খুলনা বিভাগে বারো জন এবং রাজশাহী বিভাগে আট জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের সবাই নিজ নিজ বিভাগের সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরের বাসিন্দা। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের চিত্রও বেশ হতাশাজনক। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সতেরো জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ষোল জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে একশ আট জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন, যা সংকটময় এই সময়ে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুর প্রভাব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পহেলা জানুয়ারি থেকে তেইশে জুন পর্যন্ত সারা দেশে মোট পাঁচ হাজার একশ ষাট জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, যা মোট আক্রান্তের বাষট্টি দশমিক পাঁচ শতাংশ। অন্যদিকে নারী আক্রান্তের হার সাইত্রিশ দশমিক পাঁচ শতাংশ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে দশটি প্রাণ। মৃতদের মাসভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই জন করে চার জন, মে মাসে এক জন এবং জুন মাসের প্রথম তেইশ দিনে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। গত বছর অর্থাৎ দুই হাজার পঁচিশ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, যেখানে মোট এক লাখ দুই হাজার আটশ একষট্টি জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়েছিল চারশ তেরো জনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গুর এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করতে হলে সাধারণ নাগরিকদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে নিজেদের বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, টায়ার বা পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন