যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরমাণু বিষয়ক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত আলোচনাটি অত্যন্ত জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসী জ্যেষ্ঠ ফেলো টমাস ওয়ারিক সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, এই আলোচনা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যেও সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক ইস্যুর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত অর্থনৈতিক সম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি। পারমাণবিক ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী ও টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে দুই পক্ষকেই তাদের প্রধান দাবিগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে হবে, যা কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুরূহ। টমাস ওয়ারিক উল্লেখ করেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করা বা এর মজুদ কমিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলে বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রয়োজন। ওয়াশিংটনের চাহিদা অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অন্তত এক হাজার বিদেশি পরিদর্শককে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরান এমন শর্ত মেনে নেবে কিনা, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।
আলোচনার আরেকটি বড় প্রতিবন্ধকতা হলো মার্কিন কংগ্রেসের অবস্থান। ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সিংহভাগই কংগ্রেসের মাধ্যমে অনুমোদিত, যা কেবল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব নয়। ফলে ওয়াশিংটনের পক্ষে তেহরানের চাহিদা অনুযায়ী সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আইনি ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। বর্তমান মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে ইরান নীতি নিয়ে যে কঠোর ও নেতিবাচক মনোভাব বিদ্যমান, তাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সার্বিক দিক বিবেচনায়, কারিগরি আলোচনার জটিলতা এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের কারণে এই আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। টমাস ওয়ারিকের মতে, এটি কেবল আলোচনার টেবিলের বিষয় নয়, বরং দশকের পর দশক ধরে চলে আসা অবিশ্বাস ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের লড়াই। ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পরও আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে উভয় দেশকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহজ হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এই আলোচনার মোড় পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরমাণু বিষয়ক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত আলোচনাটি অত্যন্ত জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসী জ্যেষ্ঠ ফেলো টমাস ওয়ারিক সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, এই আলোচনা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যেও সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক ইস্যুর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত অর্থনৈতিক সম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি। পারমাণবিক ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী ও টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে দুই পক্ষকেই তাদের প্রধান দাবিগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে হবে, যা কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুরূহ। টমাস ওয়ারিক উল্লেখ করেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করা বা এর মজুদ কমিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলে বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রয়োজন। ওয়াশিংটনের চাহিদা অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অন্তত এক হাজার বিদেশি পরিদর্শককে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরান এমন শর্ত মেনে নেবে কিনা, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।
আলোচনার আরেকটি বড় প্রতিবন্ধকতা হলো মার্কিন কংগ্রেসের অবস্থান। ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সিংহভাগই কংগ্রেসের মাধ্যমে অনুমোদিত, যা কেবল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব নয়। ফলে ওয়াশিংটনের পক্ষে তেহরানের চাহিদা অনুযায়ী সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আইনি ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। বর্তমান মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে ইরান নীতি নিয়ে যে কঠোর ও নেতিবাচক মনোভাব বিদ্যমান, তাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সার্বিক দিক বিবেচনায়, কারিগরি আলোচনার জটিলতা এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের কারণে এই আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। টমাস ওয়ারিকের মতে, এটি কেবল আলোচনার টেবিলের বিষয় নয়, বরং দশকের পর দশক ধরে চলে আসা অবিশ্বাস ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের লড়াই। ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পরও আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে উভয় দেশকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহজ হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এই আলোচনার মোড় পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ।

আপনার মতামত লিখুন