দিকপাল

২০২৮ সালের ‘পানি সংকট’ নিয়ে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান: কী হতে যাচ্ছে?


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ | ১২:১৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৮ সালের ‘পানি সংকট’ নিয়ে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান: কী হতে যাচ্ছে?

সিন্ধু নদের পানিবণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা এখন এক নতুন ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা যদি কোনোভাবে হুমকির মুখে পড়ে, তবে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। সাম্প্রতিক একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি পানি ইস্যুটিকে কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ বণ্টনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং একে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সিন্ধু অববাহিকার পানির ওপর পাকিস্তানের যে ন্যায্য অধিকার রয়েছে, তা ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো আভাস পাওয়া গেলে ইসলামাবাদ যেকোনো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত। জাতীয় অস্তিত্বের স্বার্থে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টিও পাকিস্তানের বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী মতপার্থক্য। কিছুদিন আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি. আর. পাটিল এমন এক মন্তব্য করেন যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ভারতের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহেলগামে সংঘটিত একটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। ওই হামলায় ছাব্বিশ জন প্রাণ হারানোর পর ভারত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের অজুহাতে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তিটি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সীমান্তপারের সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি পুনর্বহালের কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু নদ ব্যবস্থার পানির সিংহভাগ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। পাকিস্তানের অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি হলো এই নদীর পানি। তাই পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া বা বাধাগ্রস্ত হওয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত দেশটির কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করে আসছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। এই উত্তেজনার ফলে পানি ইস্যুটি এখন দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই সমস্যার কোনো কূটনৈতিক সমাধান দ্রুত খুঁজে বের করা না যায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেওয়া এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য কেবল অস্থিরতাই বাড়াচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য যথেষ্ট।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


২০২৮ সালের ‘পানি সংকট’ নিয়ে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান: কী হতে যাচ্ছে?

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

সিন্ধু নদের পানিবণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা এখন এক নতুন ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা যদি কোনোভাবে হুমকির মুখে পড়ে, তবে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। সাম্প্রতিক একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি পানি ইস্যুটিকে কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ বণ্টনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং একে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সিন্ধু অববাহিকার পানির ওপর পাকিস্তানের যে ন্যায্য অধিকার রয়েছে, তা ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো আভাস পাওয়া গেলে ইসলামাবাদ যেকোনো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত। জাতীয় অস্তিত্বের স্বার্থে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টিও পাকিস্তানের বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী মতপার্থক্য। কিছুদিন আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি. আর. পাটিল এমন এক মন্তব্য করেন যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ভারতের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহেলগামে সংঘটিত একটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। ওই হামলায় ছাব্বিশ জন প্রাণ হারানোর পর ভারত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের অজুহাতে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তিটি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সীমান্তপারের সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি পুনর্বহালের কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু নদ ব্যবস্থার পানির সিংহভাগ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। পাকিস্তানের অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি হলো এই নদীর পানি। তাই পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া বা বাধাগ্রস্ত হওয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত দেশটির কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করে আসছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। এই উত্তেজনার ফলে পানি ইস্যুটি এখন দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই সমস্যার কোনো কূটনৈতিক সমাধান দ্রুত খুঁজে বের করা না যায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেওয়া এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য কেবল অস্থিরতাই বাড়াচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য যথেষ্ট।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল