কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লিটন অঞ্চলে প্রলয়ংকরী দাবানলের প্রকোপে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স ক্রিক নামে পরিচিত এই দাবানলটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। আগুনের ভয়াবহতা ও এর বিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষ পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার লিটন গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে আগুনের সূত্রপাত হলেও মাত্র একদিনের ব্যবধানে তা প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা গ্রাস করে ফেলেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় লিটন ফার্স্ট নেশনের দুটি রিজার্ভ এলাকা ও আশপাশের ৬৩টি বসতবাড়ির বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত একশ সত্তরটি স্থাপনাকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এই দাবানলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে এক-এর দীর্ঘ একশ ষোল কিলোমিটার অংশ বস্টন বার থেকে অ্যাশক্রফট পর্যন্ত যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লিটনের মেয়র ডেনিস ও'কনর জানিয়েছেন, আগুনের শিখা পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ২০২১ সালের সেই ভয়াল দাবানলের দুঃসহ স্মৃতি এখনও টাটকা, ফলে নতুন এই পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে শনিবার সকালের দিকে বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কমে আসায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের কাজের গতি কিছুটা বেড়েছে।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য কামলুপস শহরে একটি জরুরি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সবাই নিরাপদে এলাকা ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে থম্পসন-নিকোলা আঞ্চলিক জেলার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। দাবানলের কবলে পড়ে অন্তত একশ বিরাশি জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া পুরো লিটন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিস বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৩০ জনেরও বেশি কর্মী, ৯টি হেলিকপ্টার এবং বিশেষ কাঠামো সুরক্ষা দলকে কাজে লাগিয়েছে। রাতভর নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগুনের বিস্তার রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে দাবানলের কারণ হিসেবে মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করা হচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩০ জুন ভয়াবহ এক দাবানলে লিটন এলাকা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই নতুন করে এই দাবানলের আঘাত স্থানীয় জনগণের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই সত্ত্বেও প্রকৃতি ও বাতাসের গতিবিধির ওপর এখন সবকিছু নির্ভর করছে।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লিটন অঞ্চলে প্রলয়ংকরী দাবানলের প্রকোপে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স ক্রিক নামে পরিচিত এই দাবানলটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। আগুনের ভয়াবহতা ও এর বিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষ পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার লিটন গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে আগুনের সূত্রপাত হলেও মাত্র একদিনের ব্যবধানে তা প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা গ্রাস করে ফেলেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় লিটন ফার্স্ট নেশনের দুটি রিজার্ভ এলাকা ও আশপাশের ৬৩টি বসতবাড়ির বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত একশ সত্তরটি স্থাপনাকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এই দাবানলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে এক-এর দীর্ঘ একশ ষোল কিলোমিটার অংশ বস্টন বার থেকে অ্যাশক্রফট পর্যন্ত যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লিটনের মেয়র ডেনিস ও'কনর জানিয়েছেন, আগুনের শিখা পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ২০২১ সালের সেই ভয়াল দাবানলের দুঃসহ স্মৃতি এখনও টাটকা, ফলে নতুন এই পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে শনিবার সকালের দিকে বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কমে আসায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের কাজের গতি কিছুটা বেড়েছে।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য কামলুপস শহরে একটি জরুরি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সবাই নিরাপদে এলাকা ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে থম্পসন-নিকোলা আঞ্চলিক জেলার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। দাবানলের কবলে পড়ে অন্তত একশ বিরাশি জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া পুরো লিটন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিস বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৩০ জনেরও বেশি কর্মী, ৯টি হেলিকপ্টার এবং বিশেষ কাঠামো সুরক্ষা দলকে কাজে লাগিয়েছে। রাতভর নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগুনের বিস্তার রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে দাবানলের কারণ হিসেবে মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করা হচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩০ জুন ভয়াবহ এক দাবানলে লিটন এলাকা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই নতুন করে এই দাবানলের আঘাত স্থানীয় জনগণের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই সত্ত্বেও প্রকৃতি ও বাতাসের গতিবিধির ওপর এখন সবকিছু নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন