দিকপাল

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে বড় পরিবর্তনের পথে যুক্তরাজ্য?


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ | ০৪:১৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে বড় পরিবর্তনের পথে যুক্তরাজ্য?

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকর্মীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ জনমতের চাপে দলটি তাদের প্রথাগত অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অধিকতর কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টির অভাবনীয় উত্থান এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায়ের গুঞ্জন লেবার পার্টির অভ্যন্তরে এক অস্থির পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দলের সাধারণ সদস্যদের একটি বড় অংশ ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সরকার এখন নতুন করে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। মেডিকেল এইড ফর ফিলিস্তিনিয়ানস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির প্রায় আটাশি শতাংশ সদস্য ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় এবং আটাত্তর শতাংশ সদস্য দেশটিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে মত দিয়েছে। খোদ দলের ভেতরেই নেতৃত্বের ব্যর্থতার সমালোচনা শুরু হয়েছে; পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান এমিলি থর্নবেরিও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যারা আলোচনায় রয়েছেন, তাদের মধ্যে ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম সবার শীর্ষে। মেকারফিল্ডের সংসদ সদস্য জশ সিমন্সের পদত্যাগের পর একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য পার্লামেন্টে ফেরার এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের সম্ভাব্য নেতৃত্ব লেবার পার্টির পররাষ্ট্রনীতিতে এক জটিল সমীকরণ নিয়ে আসতে পারে। বার্নহাম ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষের সাথেই একধরনের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। গাজা যুদ্ধের শুরুতেই তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে আওয়াজ তুলেছিলেন এবং মানবিক সহায়তার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তবে একইসাথে তিনি ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টিও স্বীকার করেন। তার এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

ফিলিস্তিনপন্থি রাজনীতিক জারা সুলতানার মতো অনেকে বার্নহামকে সমালোচনা করে তাকে ইহুদিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে তারা বার্নহামের বয়কট আন্দোলনবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তবে অন্যদিকে এটিও সত্য যে, ২০১১ ও ২০১২ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্রিটিশ প্রচেষ্টাকে তিনি জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিম তীর সফর করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার এই পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বর্তমান লেবার সরকার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলে আংশিক অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত এবং পরবর্তীতে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, তা সাধারণ কর্মীদের মন ভরাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্বকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনেক বেশি সাহসী ও স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। লেবার পার্টির এই সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে বড় পরিবর্তনের পথে যুক্তরাজ্য?

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকর্মীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ জনমতের চাপে দলটি তাদের প্রথাগত অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অধিকতর কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টির অভাবনীয় উত্থান এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায়ের গুঞ্জন লেবার পার্টির অভ্যন্তরে এক অস্থির পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দলের সাধারণ সদস্যদের একটি বড় অংশ ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সরকার এখন নতুন করে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। মেডিকেল এইড ফর ফিলিস্তিনিয়ানস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির প্রায় আটাশি শতাংশ সদস্য ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় এবং আটাত্তর শতাংশ সদস্য দেশটিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে মত দিয়েছে। খোদ দলের ভেতরেই নেতৃত্বের ব্যর্থতার সমালোচনা শুরু হয়েছে; পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান এমিলি থর্নবেরিও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যারা আলোচনায় রয়েছেন, তাদের মধ্যে ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম সবার শীর্ষে। মেকারফিল্ডের সংসদ সদস্য জশ সিমন্সের পদত্যাগের পর একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য পার্লামেন্টে ফেরার এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের সম্ভাব্য নেতৃত্ব লেবার পার্টির পররাষ্ট্রনীতিতে এক জটিল সমীকরণ নিয়ে আসতে পারে। বার্নহাম ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষের সাথেই একধরনের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। গাজা যুদ্ধের শুরুতেই তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে আওয়াজ তুলেছিলেন এবং মানবিক সহায়তার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তবে একইসাথে তিনি ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টিও স্বীকার করেন। তার এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

ফিলিস্তিনপন্থি রাজনীতিক জারা সুলতানার মতো অনেকে বার্নহামকে সমালোচনা করে তাকে ইহুদিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে তারা বার্নহামের বয়কট আন্দোলনবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তবে অন্যদিকে এটিও সত্য যে, ২০১১ ও ২০১২ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্রিটিশ প্রচেষ্টাকে তিনি জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিম তীর সফর করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার এই পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বর্তমান লেবার সরকার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলে আংশিক অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত এবং পরবর্তীতে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, তা সাধারণ কর্মীদের মন ভরাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্বকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনেক বেশি সাহসী ও স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। লেবার পার্টির এই সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল