চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ষাট হাজার ছয়শ বিয়াল্লিশ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় দশ শতাংশের বেশি। আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রায় বত্রিশ হাজার আটশ ছাপ্পান্ন কোটি টাকা বেশি রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় নির্বাহে এই অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।
রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তুলনা করলে এখনো বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে মে মাস পর্যন্ত চার লাখ বিয়াল্লিশ হাজার চুরাশি কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে প্রাপ্তি হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় একাশি দশমিক আট শতাংশ। অর্থাৎ, নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় প্রায় একাশি হাজার চারশ বিয়াল্লিশ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে গেছে। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আয়কর বিভাগ সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা প্রায় সাড়ে বারো শতাংশের কাছাকাছি। পাশাপাশি ভ্যাট বিভাগ দশ শতাংশ এবং কাস্টমস বিভাগ প্রায় আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সফল হয়েছে।
জুন মাসের প্রথম বিশ দিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন করে আরও প্রায় ঊনত্রিশ হাজার তিনশ এগারো কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এতে বিশ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ প্রায় তিন লাখ ঊননব্বই হাজার নয়শ তিপ্পান্ন কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই অংক গত পুরো অর্থবছরের মোট আদায়কৃত তিন লাখ সত্তর হাজার আটশ তেতাল্লিশ কোটি টাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যাশা, জুনের শেষ দশ দিনে আরও পঁচিশ হাজার কোটি টাকা আদায় সম্ভব হবে। এটি অর্জিত হলে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ চার লাখ পনেরো হাজার কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করবে, যা দেশের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড হবে। তবে লক্ষ্যের চেয়ে ঘাটতি থাকলেও আগের বছরের তুলনায় মোট রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় তেতাল্লিশ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের এই গতি বজায় রাখতে এবং কর ফাঁকি রোধ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের অধীনে তিনটি পৃথক শক্তিশালী দল বা টাস্কফোর্স গঠন করেছে। কর ফাঁকি শনাক্ত করার পাশাপাশি অডিট কার্যক্রম জোরদার করা, উৎসে কর আদায়ের তদারকি বৃদ্ধি এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও গতি আনার চেষ্টা চলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সরকারি ব্যয় মেটাতে তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ঘাটতি কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ষাট হাজার ছয়শ বিয়াল্লিশ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় দশ শতাংশের বেশি। আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রায় বত্রিশ হাজার আটশ ছাপ্পান্ন কোটি টাকা বেশি রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় নির্বাহে এই অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।
রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তুলনা করলে এখনো বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে মে মাস পর্যন্ত চার লাখ বিয়াল্লিশ হাজার চুরাশি কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে প্রাপ্তি হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় একাশি দশমিক আট শতাংশ। অর্থাৎ, নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় প্রায় একাশি হাজার চারশ বিয়াল্লিশ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে গেছে। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আয়কর বিভাগ সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা প্রায় সাড়ে বারো শতাংশের কাছাকাছি। পাশাপাশি ভ্যাট বিভাগ দশ শতাংশ এবং কাস্টমস বিভাগ প্রায় আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সফল হয়েছে।
জুন মাসের প্রথম বিশ দিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন করে আরও প্রায় ঊনত্রিশ হাজার তিনশ এগারো কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এতে বিশ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ প্রায় তিন লাখ ঊননব্বই হাজার নয়শ তিপ্পান্ন কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই অংক গত পুরো অর্থবছরের মোট আদায়কৃত তিন লাখ সত্তর হাজার আটশ তেতাল্লিশ কোটি টাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যাশা, জুনের শেষ দশ দিনে আরও পঁচিশ হাজার কোটি টাকা আদায় সম্ভব হবে। এটি অর্জিত হলে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ চার লাখ পনেরো হাজার কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করবে, যা দেশের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড হবে। তবে লক্ষ্যের চেয়ে ঘাটতি থাকলেও আগের বছরের তুলনায় মোট রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় তেতাল্লিশ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের এই গতি বজায় রাখতে এবং কর ফাঁকি রোধ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের অধীনে তিনটি পৃথক শক্তিশালী দল বা টাস্কফোর্স গঠন করেছে। কর ফাঁকি শনাক্ত করার পাশাপাশি অডিট কার্যক্রম জোরদার করা, উৎসে কর আদায়ের তদারকি বৃদ্ধি এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও গতি আনার চেষ্টা চলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সরকারি ব্যয় মেটাতে তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ঘাটতি কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

আপনার মতামত লিখুন