দিকপাল

করের হার না বাড়িয়ে ৫ বছরের ট্যাক্স কাঠামোর ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ | ০৯:১২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

করের হার না বাড়িয়ে ৫ বছরের ট্যাক্স কাঠামোর ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার

জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে করের হার না বাড়িয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাসেদ আল মাহমুদ টিটুমির। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের সুবিধার্থে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছর মেয়াদি ট্যাক্স কাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৭ ১৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) যৌথভাবে আয়োজিত এক বাজেটোত্তর সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, দেশের সার্বিক রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক খাতে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টাস্কফোর্সের জন্য নির্দিষ্ট মাসিক কর্মপরিকল্পনা এবং মাইলফলক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন: “আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে করের হার বাড়ানো হবে না; বরং দেশীয় সম্পদের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনুগ্রহ করে সংবাদে ‘হার’ (Rate) এবং ‘পরিমাণ’ (Volume)—এই দুটি বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপন করবেন।”

ড. টিটুমির সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, কেবল রাজস্ব আহরণ বাড়ালেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না; এর পাশাপাশি উন্নয়ন ও মূলধনী ব্যয়ও বাড়াতে হবে। বর্তমানে পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর ধরে চলা দীর্ঘসূত্রতার তীব্র সমালোচনা করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে এবং বারবার ব্যয় ও সময় সংশোধন করা হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন, মনিটরিং এবং মূল্যায়ন—প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে।

বিগত সরকারের আমলের ডেটা বা তথ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজস্বের যে পরিসংখ্যান দেখানো হতো, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব তথ্যে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। করদাতাদের কর প্রদানে উৎসাহিত করতে আগামী বাজেট থেকে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান ড. রাসেদ আল মাহমুদ টিটুমির। তিনি বলেন, করদাতারা যদি বুঝতে পারেন যে তাঁদের কষ্টার্জিত করের টাকা রাষ্ট্র কীভাবে ব্যয় করছে, তবে তাঁদের কর দেওয়ার আগ্রহ বাড়বে। এই লক্ষ্যে আগামী বাজেট থেকে করের রসিদে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের কত শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে।

কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে তিনি ‘সংযোগ’ ও ‘বিযোগ’—এই দ্বিমুখী নীতির কথা উল্লেখ করেন: কর কর্মকর্তা এবং করদাতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বা মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কমাতে হবে, যাতে দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ হয়।  করের টাকা দেশের কোন কোন জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় হচ্ছে, তা করদাতাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে জানাতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


করের হার না বাড়িয়ে ৫ বছরের ট্যাক্স কাঠামোর ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে করের হার না বাড়িয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাসেদ আল মাহমুদ টিটুমির। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের সুবিধার্থে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছর মেয়াদি ট্যাক্স কাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৭ ১৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) যৌথভাবে আয়োজিত এক বাজেটোত্তর সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, দেশের সার্বিক রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক খাতে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টাস্কফোর্সের জন্য নির্দিষ্ট মাসিক কর্মপরিকল্পনা এবং মাইলফলক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন: “আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে করের হার বাড়ানো হবে না; বরং দেশীয় সম্পদের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনুগ্রহ করে সংবাদে ‘হার’ (Rate) এবং ‘পরিমাণ’ (Volume)—এই দুটি বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপন করবেন।”

ড. টিটুমির সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, কেবল রাজস্ব আহরণ বাড়ালেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না; এর পাশাপাশি উন্নয়ন ও মূলধনী ব্যয়ও বাড়াতে হবে। বর্তমানে পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর ধরে চলা দীর্ঘসূত্রতার তীব্র সমালোচনা করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে এবং বারবার ব্যয় ও সময় সংশোধন করা হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন, মনিটরিং এবং মূল্যায়ন—প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে।

বিগত সরকারের আমলের ডেটা বা তথ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজস্বের যে পরিসংখ্যান দেখানো হতো, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব তথ্যে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। করদাতাদের কর প্রদানে উৎসাহিত করতে আগামী বাজেট থেকে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান ড. রাসেদ আল মাহমুদ টিটুমির। তিনি বলেন, করদাতারা যদি বুঝতে পারেন যে তাঁদের কষ্টার্জিত করের টাকা রাষ্ট্র কীভাবে ব্যয় করছে, তবে তাঁদের কর দেওয়ার আগ্রহ বাড়বে। এই লক্ষ্যে আগামী বাজেট থেকে করের রসিদে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের কত শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে।

কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে তিনি ‘সংযোগ’ ও ‘বিযোগ’—এই দ্বিমুখী নীতির কথা উল্লেখ করেন: কর কর্মকর্তা এবং করদাতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বা মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কমাতে হবে, যাতে দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ হয়।  করের টাকা দেশের কোন কোন জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় হচ্ছে, তা করদাতাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে জানাতে হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল