যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর প্রযুক্তিগত আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই সফর স্থগিতের মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা চুক্তির প্রথম ধারাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনার লজিস্টিকস চূড়ান্ত না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভ্যান্স গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি বলব, ৬০ দিনের মেয়াদ আজ থেকেই শুরু হয়েছে।
ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর পেছানোর প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আসন্ন প্রযুক্তিগত আলোচনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধিদল সুযোগ পেলেই রওনা দেওয়ার প্রস্তুত রয়েছে।” ভ্যান্স নিজেও জানিয়েছিলেন, তার “পরিকল্পনা সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার”, কিন্তু তিনি “ঠিক কখন” জানেন না। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে চুক্তির ১ নম্বর ধারায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই চুক্তিতে আবদ্ধ নয়। ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর তিন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা চুক্তি লঙ্ঘন এবং প্রয়োজনে ইরান ‘প্রতিরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন রেখে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘জেদি আলোচনা’ চলছে।
ভ্যান্সের অর্থনৈতিক দাবির পেছালেও ভ্যান্স চুক্তির অর্থনৈতিক সুফলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাতারাতি ১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ। তেলের দাম প্রাক-যুদ্ধ পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলারের নিচে নেমেছে।
ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেওয়ার বিষয়টি ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করেন, “ইরানিরা যেকোনো সুবিধা পেতে সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে হবে এবং তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।”
কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো আহরন ব্রেগম্যান বলেন, “নেতানিয়াহু চুক্তি ভেস্তে দিতে লেবাননকে ব্যবহার করবেন।” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘অতিরিক্ত দাবি’ করে, তাহলে তারা তা মেনে নেবে না।
আগামী ৬০ দিনের আলোচনা ও জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই চুক্তির কার্যকারিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর প্রযুক্তিগত আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই সফর স্থগিতের মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা চুক্তির প্রথম ধারাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনার লজিস্টিকস চূড়ান্ত না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভ্যান্স গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি বলব, ৬০ দিনের মেয়াদ আজ থেকেই শুরু হয়েছে।
ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর পেছানোর প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আসন্ন প্রযুক্তিগত আলোচনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধিদল সুযোগ পেলেই রওনা দেওয়ার প্রস্তুত রয়েছে।” ভ্যান্স নিজেও জানিয়েছিলেন, তার “পরিকল্পনা সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার”, কিন্তু তিনি “ঠিক কখন” জানেন না। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে চুক্তির ১ নম্বর ধারায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই চুক্তিতে আবদ্ধ নয়। ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর তিন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা চুক্তি লঙ্ঘন এবং প্রয়োজনে ইরান ‘প্রতিরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন রেখে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘জেদি আলোচনা’ চলছে।
ভ্যান্সের অর্থনৈতিক দাবির পেছালেও ভ্যান্স চুক্তির অর্থনৈতিক সুফলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাতারাতি ১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ। তেলের দাম প্রাক-যুদ্ধ পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলারের নিচে নেমেছে।
ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেওয়ার বিষয়টি ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করেন, “ইরানিরা যেকোনো সুবিধা পেতে সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে হবে এবং তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।”
কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো আহরন ব্রেগম্যান বলেন, “নেতানিয়াহু চুক্তি ভেস্তে দিতে লেবাননকে ব্যবহার করবেন।” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘অতিরিক্ত দাবি’ করে, তাহলে তারা তা মেনে নেবে না।
আগামী ৬০ দিনের আলোচনা ও জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই চুক্তির কার্যকারিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন