দিকপাল

ইরানের ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় মাস্কের গ্রক এআই ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ | ১১:১৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় মাস্কের গ্রক এআই ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি গ্রক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি কর্তৃক আদালতে জমা দেওয়া এক লিখিত সাক্ষ্য থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের অতি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে গত কয়েক দিনে ব্যাপক হামলা পরিচালনা করেছে। এটিই প্রথমবার কোনো মার্কিন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সরাসরি স্বীকার করা হলো যে, ইরানের সাথে যুদ্ধে মাস্কের তৈরি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

মার্কিন সরকারের সাথে মাস্কের প্রতিষ্ঠানের এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে মূলত মিসিসিপির একটি আদালতে চলমান পরিবেশ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার গ্রক গভ মডেল ব্যবহার করছে, যা মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর বাণিজ্যিক সংস্করণের ভিত্তিতে তৈরি। এটি পেন্টাগনের ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে সামরিক বাহিনী এখন অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতিসহ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মিশনে অভূতপূর্ব সাফল্য পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরি নামক বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় এই স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র চার দিনে দুই হাজারেরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। যদিও এই হামলার সঠিক সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি, তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাগুলোর সাথে এই প্রযুক্তির প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ফাউন্ডেশন অব মার্টিয়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্সের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে, এই প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে এক্সএআই-এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও। পরিবেশবাদী সংস্থা এনএএসিপি গত এপ্রিল মাসে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ, টেনেসির মেমফিসে অবস্থিত একটি বিশাল সুপারকম্পিউটার ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে মিসিসিপির সাউথহ্যাভেনে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাতাশটি মিথেন গ্যাস টারবাইন চালানো হচ্ছে। এই টারবাইন থেকে নির্গত বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড ওই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। মামলাটিতে পরিবেশগত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এই মামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পেন্টাগন কর্মকর্তা ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাউথহ্যাভেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বা ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে তা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ডেটা সেন্টারগুলোকে কেবল বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে, বরং এগুলো এখন সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। একই সুর শোনা গেছে মার্কিন বিচার বিভাগের কণ্ঠেও। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো বেসরকারি সংস্থা বা পরিবেশগত আইনি অজুহাতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে মামলাটি খারিজ করার জন্য জোর আবেদন জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


ইরানের ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় মাস্কের গ্রক এআই ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি গ্রক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি কর্তৃক আদালতে জমা দেওয়া এক লিখিত সাক্ষ্য থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের অতি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে গত কয়েক দিনে ব্যাপক হামলা পরিচালনা করেছে। এটিই প্রথমবার কোনো মার্কিন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সরাসরি স্বীকার করা হলো যে, ইরানের সাথে যুদ্ধে মাস্কের তৈরি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

মার্কিন সরকারের সাথে মাস্কের প্রতিষ্ঠানের এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে মূলত মিসিসিপির একটি আদালতে চলমান পরিবেশ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার গ্রক গভ মডেল ব্যবহার করছে, যা মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর বাণিজ্যিক সংস্করণের ভিত্তিতে তৈরি। এটি পেন্টাগনের ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে সামরিক বাহিনী এখন অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতিসহ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মিশনে অভূতপূর্ব সাফল্য পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরি নামক বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় এই স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র চার দিনে দুই হাজারেরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। যদিও এই হামলার সঠিক সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি, তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাগুলোর সাথে এই প্রযুক্তির প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ফাউন্ডেশন অব মার্টিয়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্সের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে, এই প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে এক্সএআই-এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও। পরিবেশবাদী সংস্থা এনএএসিপি গত এপ্রিল মাসে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ, টেনেসির মেমফিসে অবস্থিত একটি বিশাল সুপারকম্পিউটার ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে মিসিসিপির সাউথহ্যাভেনে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাতাশটি মিথেন গ্যাস টারবাইন চালানো হচ্ছে। এই টারবাইন থেকে নির্গত বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড ওই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। মামলাটিতে পরিবেশগত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এই মামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পেন্টাগন কর্মকর্তা ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাউথহ্যাভেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বা ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে তা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ডেটা সেন্টারগুলোকে কেবল বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে, বরং এগুলো এখন সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। একই সুর শোনা গেছে মার্কিন বিচার বিভাগের কণ্ঠেও। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো বেসরকারি সংস্থা বা পরিবেশগত আইনি অজুহাতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে মামলাটি খারিজ করার জন্য জোর আবেদন জানানো হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল