দিকপাল

ইরান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার নিরপেক্ষতার প্রশংসা ট্রাম্পের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ | ১১:৩২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার নিরপেক্ষতার প্রশংসা ট্রাম্পের

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে সদ্য সমাপ্ত জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে এক অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাথে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বেইজিং ও মস্কোর হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখায় তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরব সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বশক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারত। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, জিনপিং এই পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন এবং তার এই গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে ওয়াশিংটন অত্যন্ত সম্মানের সাথে দেখে। একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পুতিনের নিরপেক্ষতাও এই জটিল কূটনৈতিক সমঝোতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। মূলত, দুই পরাশক্তির এই অবস্থানই মার্কিন উদ্যোগকে সফল করতে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

এই ঘটনাপ্রবাহকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সাথে এই সমঝোতা কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং বৈশ্বিক প্রভাব বলয়ে ভারসাম্য রক্ষারও একটি নতুন নজির। ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি বিশ্বশক্তির সাথে আলোচনার মাধ্যমে জটিল সংঘাত নিরসনে বিশ্বাসী। রাশিয়া ও চীনের এই অবস্থানের ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অতীতে চীন ও রাশিয়াকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের পক্ষে ভেটো দিতে বা সমর্থন জোগাতে দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিক এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বেইজিং ও মস্কোর দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


ইরান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার নিরপেক্ষতার প্রশংসা ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে সদ্য সমাপ্ত জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে এক অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাথে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বেইজিং ও মস্কোর হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখায় তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরব সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বশক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারত। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, জিনপিং এই পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন এবং তার এই গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে ওয়াশিংটন অত্যন্ত সম্মানের সাথে দেখে। একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পুতিনের নিরপেক্ষতাও এই জটিল কূটনৈতিক সমঝোতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। মূলত, দুই পরাশক্তির এই অবস্থানই মার্কিন উদ্যোগকে সফল করতে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

এই ঘটনাপ্রবাহকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সাথে এই সমঝোতা কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং বৈশ্বিক প্রভাব বলয়ে ভারসাম্য রক্ষারও একটি নতুন নজির। ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি বিশ্বশক্তির সাথে আলোচনার মাধ্যমে জটিল সংঘাত নিরসনে বিশ্বাসী। রাশিয়া ও চীনের এই অবস্থানের ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অতীতে চীন ও রাশিয়াকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের পক্ষে ভেটো দিতে বা সমর্থন জোগাতে দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিক এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বেইজিং ও মস্কোর দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল