দিকপাল

ইরানের জব্দ তহবিল ফেরত দেওয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের জব্দ তহবিল ফেরত দেওয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, জব্দকৃত এই অর্থ আটকে রাখার বিষয়টি মার্কিন ডলারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, যদি এই অর্থ ফেরত না দেওয়া হয়, তবে বিশ্বজুড়ে ডলারে বিনিয়োগের আগ্রহ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের বিশাল অংকের এই অর্থ কোনোভাবেই মার্কিন সরকারের প্রাপ্য নয়, বরং তা একান্তই ইরানের। তিনি জানান, একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে এই তহবিল জব্দ করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তা ফিরিয়ে দেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি যে কোনো সাধারণ দান বা অনুদান নয়, বরং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে তা স্পষ্ট করেছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান যদি যথাযথ আচরণ করে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলে, তবেই কেবল এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।


এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করার বিষয়েও ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে, আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির অঙ্গীকারও রয়েছে। তবে এই তহবিল ছাড়ের বিষয়টি ইরানের ভবিষ্যৎ আচরণের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান গত কয়েক বছরে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিকভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি কেবল শর্তসাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। তিনি বারবার এটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এবং সঠিকভাবে পথ চলে, তবেই কেবল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার মতো পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হবে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে একটি নতুন সন্ধিক্ষণ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


ইরানের জব্দ তহবিল ফেরত দেওয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, জব্দকৃত এই অর্থ আটকে রাখার বিষয়টি মার্কিন ডলারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, যদি এই অর্থ ফেরত না দেওয়া হয়, তবে বিশ্বজুড়ে ডলারে বিনিয়োগের আগ্রহ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের বিশাল অংকের এই অর্থ কোনোভাবেই মার্কিন সরকারের প্রাপ্য নয়, বরং তা একান্তই ইরানের। তিনি জানান, একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে এই তহবিল জব্দ করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তা ফিরিয়ে দেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি যে কোনো সাধারণ দান বা অনুদান নয়, বরং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে তা স্পষ্ট করেছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান যদি যথাযথ আচরণ করে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলে, তবেই কেবল এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।


এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করার বিষয়েও ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে, আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির অঙ্গীকারও রয়েছে। তবে এই তহবিল ছাড়ের বিষয়টি ইরানের ভবিষ্যৎ আচরণের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান গত কয়েক বছরে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিকভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি কেবল শর্তসাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। তিনি বারবার এটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এবং সঠিকভাবে পথ চলে, তবেই কেবল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার মতো পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হবে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে একটি নতুন সন্ধিক্ষণ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল