দিকপাল

এক ভোটের ব্যবধানে টিকে গেল ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | ১০:০৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এক ভোটের ব্যবধানে টিকে গেল ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক কর্তৃত্ব খর্ব করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে অল্পের জন্য পাস হতে পারেনি। মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতে ৪৮-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। মূলত কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের ওপর সামরিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করাই ছিল এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন, এটি ছিল তাদের সেই প্রচেষ্টার নবম কিস্তি।


এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন হোয়াইট হাউস ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি প্রাথমিক সমঝোতার খবর শোনা যাচ্ছে। তবে অনেক আইনপ্রণেতার অভিযোগ, এই সমঝোতার বিস্তারিত রূপরেখা বা কৌশলগত পরিকল্পনা এখনো কংগ্রেসকে জানানো হয়নি। ফলে সরকারের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্কিন রাজনীতির মেরুকরণ এবারও প্রকট। তবে ব্যতিক্রমী ঘটনারও অভাব ছিল না। রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সিনেটর, যেমন বিল ক্যাসিডি, সুসান কলিন্স, লিসা মারকোভস্কি এবং র‍্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্য থেকেও জন ফেটারম্যানের মতো কেউ কেউ প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য পাঁচজন সিনেটর ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন, যাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা উভয়ই রয়েছেন।


জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি খারিজ হওয়ার ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্বাহী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক আরো ঘনীভূত হলো। এর আগে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে টিম কেইনের নেতৃত্বে আরেকটি যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব সিনেটে উত্থাপন করা হয়েছিল, যা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে। আইনপ্রণেতাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির নামে প্রশাসন যা বলছে, তার স্বচ্ছতা নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও, অভ্যন্তরীণ এই মতভেদ প্রমাণ করে যে ইরানের বিষয়ে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধ সমাপ্তির পক্ষে একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে সমর্থন পেয়েছে, তারপরও উচ্চকক্ষে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


এক ভোটের ব্যবধানে টিকে গেল ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক কর্তৃত্ব খর্ব করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে অল্পের জন্য পাস হতে পারেনি। মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতে ৪৮-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। মূলত কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের ওপর সামরিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করাই ছিল এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন, এটি ছিল তাদের সেই প্রচেষ্টার নবম কিস্তি।


এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন হোয়াইট হাউস ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি প্রাথমিক সমঝোতার খবর শোনা যাচ্ছে। তবে অনেক আইনপ্রণেতার অভিযোগ, এই সমঝোতার বিস্তারিত রূপরেখা বা কৌশলগত পরিকল্পনা এখনো কংগ্রেসকে জানানো হয়নি। ফলে সরকারের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্কিন রাজনীতির মেরুকরণ এবারও প্রকট। তবে ব্যতিক্রমী ঘটনারও অভাব ছিল না। রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সিনেটর, যেমন বিল ক্যাসিডি, সুসান কলিন্স, লিসা মারকোভস্কি এবং র‍্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্য থেকেও জন ফেটারম্যানের মতো কেউ কেউ প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য পাঁচজন সিনেটর ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন, যাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা উভয়ই রয়েছেন।


জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি খারিজ হওয়ার ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্বাহী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক আরো ঘনীভূত হলো। এর আগে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে টিম কেইনের নেতৃত্বে আরেকটি যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব সিনেটে উত্থাপন করা হয়েছিল, যা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে। আইনপ্রণেতাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির নামে প্রশাসন যা বলছে, তার স্বচ্ছতা নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও, অভ্যন্তরীণ এই মতভেদ প্রমাণ করে যে ইরানের বিষয়ে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধ সমাপ্তির পক্ষে একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে সমর্থন পেয়েছে, তারপরও উচ্চকক্ষে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল