দিকপাল

ইসরাইলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, ইরান চুক্তিতে অনড় যুক্তরাষ্ট্র


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | ০৯:১৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরাইলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, ইরান চুক্তিতে অনড় যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক জটিলতা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যালোচনার সুযোগ চেয়েছিল ইসরাইল। তবে তাদের সেই অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই চুক্তির বিষয়বস্তু জানার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এর ফলে চুক্তির মূল শর্তাবলি ইসরাইলের কাছে এখনো অজানা রয়ে গেছে।


এই ঘটনা ইসরাইলি নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান যে, তিনি চুক্তির বিস্তারিত তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত নন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অজানা চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনের মধ্যে তীব্র হতাশা কাজ করছে। বিশেষ করে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের শর্তগুলো নিয়ে ইসরাইল চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। আইটোয়েন্টিফোর নিউজের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো এই পরিস্থিতিকে ইসরাইলের জন্য একটি বিব্রতকর অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে নেতানিয়াহু কিছুটা কৌশলী মন্তব্য করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই চুক্তিটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং এটি তারই নেওয়া পদক্ষেপ। তিনি একই সাথে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইসরাইলের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জায়গাটি তারা কোনোভাবেই আপস করবে না।


এর আগেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা মানতে তারা বাধ্য নন। অর্থাৎ, চুক্তির শর্তাবলি ইসরাইলের নিরাপত্তা ভাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তারা স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতা প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সাথে ইসরাইলের এই শীতল সম্পর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই চুক্তি ঘিরে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং তেলআবিবের মধ্যকার ত্রিভুজ টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


ইসরাইলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, ইরান চুক্তিতে অনড় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক জটিলতা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যালোচনার সুযোগ চেয়েছিল ইসরাইল। তবে তাদের সেই অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই চুক্তির বিষয়বস্তু জানার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এর ফলে চুক্তির মূল শর্তাবলি ইসরাইলের কাছে এখনো অজানা রয়ে গেছে।


এই ঘটনা ইসরাইলি নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান যে, তিনি চুক্তির বিস্তারিত তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত নন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অজানা চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনের মধ্যে তীব্র হতাশা কাজ করছে। বিশেষ করে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের শর্তগুলো নিয়ে ইসরাইল চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। আইটোয়েন্টিফোর নিউজের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো এই পরিস্থিতিকে ইসরাইলের জন্য একটি বিব্রতকর অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে নেতানিয়াহু কিছুটা কৌশলী মন্তব্য করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই চুক্তিটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং এটি তারই নেওয়া পদক্ষেপ। তিনি একই সাথে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইসরাইলের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জায়গাটি তারা কোনোভাবেই আপস করবে না।


এর আগেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা মানতে তারা বাধ্য নন। অর্থাৎ, চুক্তির শর্তাবলি ইসরাইলের নিরাপত্তা ভাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তারা স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতা প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সাথে ইসরাইলের এই শীতল সম্পর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই চুক্তি ঘিরে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং তেলআবিবের মধ্যকার ত্রিভুজ টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল