দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই রূপরেখার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চারটি মূল স্তম্ভ ও একটি নতুন উপাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার প্রস্তাবিত এই সংস্কার পরিকল্পনায় শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের গুণগত মানোন্নয়ন, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন কাঠামোর অধীনে আনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় শিক্ষাখাতের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সে সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা যারা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষতা অর্জন করবে। শিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭টিরও বেশি বৈচিত্র্যময় শিক্ষা ধারা প্রচলিত রয়েছে। এই ধারাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে মাদ্রাসা, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে সমঅধিকার পায়।
শিক্ষকদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি হলেন শিক্ষকরা; তাদের মানোন্নয়ন ছাড়া কোনো সংস্কারই সফল হওয়া সম্ভব নয়। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দেশীয় চাহিদার সমন্বয় ঘটলে দেশের শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই ভিশন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষাখাত বিশ্বদরবারে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে সরকার যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের অভাব মেটানো এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই রূপরেখার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চারটি মূল স্তম্ভ ও একটি নতুন উপাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার প্রস্তাবিত এই সংস্কার পরিকল্পনায় শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের গুণগত মানোন্নয়ন, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন কাঠামোর অধীনে আনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় শিক্ষাখাতের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সে সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা যারা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষতা অর্জন করবে। শিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭টিরও বেশি বৈচিত্র্যময় শিক্ষা ধারা প্রচলিত রয়েছে। এই ধারাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে মাদ্রাসা, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে সমঅধিকার পায়।
শিক্ষকদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি হলেন শিক্ষকরা; তাদের মানোন্নয়ন ছাড়া কোনো সংস্কারই সফল হওয়া সম্ভব নয়। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দেশীয় চাহিদার সমন্বয় ঘটলে দেশের শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই ভিশন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষাখাত বিশ্বদরবারে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে সরকার যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের অভাব মেটানো এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন