দিকপাল

যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় সংকটের আশঙ্কা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | ০২:৩৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় সংকটের আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যের শিল্পকলা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ডস্মিথসে আবারও শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। প্রায় তিন কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গৃহীত নতুন এক পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা এই কঠিন পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কর্মীর চাকরি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। গত পাঁচ বছরে এটি কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত তৃতীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রমকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।


সর্বশেষ এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় গত এপ্রিল মাসে, যখন ‘ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন’-এর গোল্ডস্মিথস শাখা খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাঁটাইয়ের মতো ধ্বংসাত্মক পথ থেকে সরিয়ে বিকল্প কোনো সমাধানের দিকে ধাবিত করা। তবে কর্তৃপক্ষ আলোচনার পথ না খুঁজে উল্টো কঠোর অবস্থান নেয়। বর্জন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীদের শতভাগ বেতন কাটার ঘোষণা দেয় প্রশাসন এবং তাদের কোনো আংশিক কাজও গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়ে দেয়। এমন অনমনীয় ও দমনমূলক আচরণের প্রতিবাদেই গত ৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিতে বাধ্য হয় ইউনিয়ন।


গোল্ডস্মিথসের বর্তমান অস্থিরতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তের ইতিহাস। পাঁচ বছর আগে অতিমারির পরবর্তী সময়ে ‘রিকভারি প্রোগ্রাম’ নামে যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা সাশ্রয়ের চেয়ে ক্ষতিই করেছে বেশি। সে সময় ইতিহাস, ইংরেজি ও ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোকে লক্ষ্য করে অর্ধশতাধিক পদ বিলুপ্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়নগুলোর আন্দোলনের মুখে তা কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ ও ব্যয়বহুল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত আবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে পরামর্শক, আইনি ফি ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়টি কয়েক কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে, যা সাশ্রয়ের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।


দ্বিতীয় দফায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম’ নামক আরও একটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ১১টি বিভাগ লক্ষ্য করে শতাধিক পদ বিলুপ্তির ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব মেলেনি। উল্টো সিনিয়র ম্যানেজারদের উচ্চ বেতন বহাল রেখে নিচের সারির কর্মীদের ওপর কঠোরতা প্রদর্শন করায় ক্ষোভের আগুন আরও জ্বলে উঠেছে। এখন ‘ফিউচার গোল্ডস্মিথস’ নামক তৃতীয় যে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার উপক্রম করেছে।


এই সংকটের মূলে রয়েছে যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক ব্যর্থ এক অর্থায়ন মডেল। ১৯৯৮ সাল থেকে টিউশন ফি প্রবর্তন এবং পরবর্তীতে তা দফায় দফায় বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে শিক্ষার্থীদের ফির ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা এখন সেবা খাতের বদলে একটি বাজারে পরিণত হয়েছে। নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে রমরমা বাণিজ্য করলেও বাকিরা তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। নটিংহাম, সাসেক্স, এসেক্স ও শেফিল্ড হালামের মতো একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে একই ধরনের ছাঁটাই ও ধর্মঘটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওএফএস-এর হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক বছরে যুক্তরাজ্যের দুই ডজনের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় দেউলিয়া বা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


উচ্চশিক্ষার এই বাণিজ্যিকীকরণ কেবল গোল্ডস্মিথসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের মানকেই ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে এই খাতের কর্মীদের প্রকৃত বেতন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ এখন উচ্চশিক্ষার এই নাজুক পরিস্থিতি থেকে সরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধের প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলোতে নিবদ্ধ। গোল্ডস্মিথসের কর্মীরা তাদের এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের মাধ্যমে কেবল নিজেদের চাকরি রক্ষা করছেন না, বরং শিক্ষার আদর্শ ও ডিগ্রি প্রোগ্রামের গুণগত মান রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।

সূত্র: আল-জাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় সংকটের আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যের শিল্পকলা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ডস্মিথসে আবারও শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। প্রায় তিন কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গৃহীত নতুন এক পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা এই কঠিন পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কর্মীর চাকরি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। গত পাঁচ বছরে এটি কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত তৃতীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রমকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।


সর্বশেষ এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় গত এপ্রিল মাসে, যখন ‘ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন’-এর গোল্ডস্মিথস শাখা খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাঁটাইয়ের মতো ধ্বংসাত্মক পথ থেকে সরিয়ে বিকল্প কোনো সমাধানের দিকে ধাবিত করা। তবে কর্তৃপক্ষ আলোচনার পথ না খুঁজে উল্টো কঠোর অবস্থান নেয়। বর্জন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীদের শতভাগ বেতন কাটার ঘোষণা দেয় প্রশাসন এবং তাদের কোনো আংশিক কাজও গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়ে দেয়। এমন অনমনীয় ও দমনমূলক আচরণের প্রতিবাদেই গত ৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিতে বাধ্য হয় ইউনিয়ন।


গোল্ডস্মিথসের বর্তমান অস্থিরতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তের ইতিহাস। পাঁচ বছর আগে অতিমারির পরবর্তী সময়ে ‘রিকভারি প্রোগ্রাম’ নামে যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা সাশ্রয়ের চেয়ে ক্ষতিই করেছে বেশি। সে সময় ইতিহাস, ইংরেজি ও ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোকে লক্ষ্য করে অর্ধশতাধিক পদ বিলুপ্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়নগুলোর আন্দোলনের মুখে তা কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ ও ব্যয়বহুল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত আবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে পরামর্শক, আইনি ফি ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়টি কয়েক কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে, যা সাশ্রয়ের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।


দ্বিতীয় দফায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম’ নামক আরও একটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ১১টি বিভাগ লক্ষ্য করে শতাধিক পদ বিলুপ্তির ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব মেলেনি। উল্টো সিনিয়র ম্যানেজারদের উচ্চ বেতন বহাল রেখে নিচের সারির কর্মীদের ওপর কঠোরতা প্রদর্শন করায় ক্ষোভের আগুন আরও জ্বলে উঠেছে। এখন ‘ফিউচার গোল্ডস্মিথস’ নামক তৃতীয় যে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার উপক্রম করেছে।


এই সংকটের মূলে রয়েছে যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক ব্যর্থ এক অর্থায়ন মডেল। ১৯৯৮ সাল থেকে টিউশন ফি প্রবর্তন এবং পরবর্তীতে তা দফায় দফায় বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে শিক্ষার্থীদের ফির ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা এখন সেবা খাতের বদলে একটি বাজারে পরিণত হয়েছে। নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে রমরমা বাণিজ্য করলেও বাকিরা তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। নটিংহাম, সাসেক্স, এসেক্স ও শেফিল্ড হালামের মতো একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে একই ধরনের ছাঁটাই ও ধর্মঘটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওএফএস-এর হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক বছরে যুক্তরাজ্যের দুই ডজনের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় দেউলিয়া বা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


উচ্চশিক্ষার এই বাণিজ্যিকীকরণ কেবল গোল্ডস্মিথসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের মানকেই ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে এই খাতের কর্মীদের প্রকৃত বেতন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ এখন উচ্চশিক্ষার এই নাজুক পরিস্থিতি থেকে সরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধের প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলোতে নিবদ্ধ। গোল্ডস্মিথসের কর্মীরা তাদের এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের মাধ্যমে কেবল নিজেদের চাকরি রক্ষা করছেন না, বরং শিক্ষার আদর্শ ও ডিগ্রি প্রোগ্রামের গুণগত মান রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।

সূত্র: আল-জাজিরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল