দিকপাল

যে দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছিল মার্কিন বি-৫২, প্রাণ হারান ৮ জন


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | ১০:২৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যে দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছিল মার্কিন বি-৫২, প্রাণ হারান ৮ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের দুইজন কর্মী রয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো মার্কিন সামরিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির কর্নেল জেমস হেইস এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান যে, তারা আটজন মহান দেশপ্রেমিককে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্য, সরকারি বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন।


১৯৫০-এর দশক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। সামরিক মহলে এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে বিমানটির কৌশলগত ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল এগারোটা ২০ মিনিটের দিকে বিমানটি একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে আকাশে উড্ডয়নের চেষ্টা করছিল। উড্ডয়নের পরপরই কোনো এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বহু দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘাঁটির কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পর্যালোচনার পর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কারও বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।


লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে মোহাভি মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে এই ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সব ধরনের আগত বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার সুবিধার্থে দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিস্তারিত পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তবে বিমানটি যে রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে উড়ছিল, সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।


দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত এক মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় ওড়ার সক্ষমতা সম্পন্ন এই বিমানটি একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ প্রচলিত বোমা ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। আকাশে থাকাকালীন জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকায় এর আঘাত হানার পরিসর কার্যত অসীম।通常 একটি বোমারু বিমানে পাঁচ সদস্যের ক্রু দল কাজ করেন, যার মধ্যে কমান্ডার, পাইলট, নেভিগেটর এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ থাকেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়োগান্তক ঘটনাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


যে দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছিল মার্কিন বি-৫২, প্রাণ হারান ৮ জন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের দুইজন কর্মী রয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো মার্কিন সামরিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির কর্নেল জেমস হেইস এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান যে, তারা আটজন মহান দেশপ্রেমিককে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্য, সরকারি বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন।


১৯৫০-এর দশক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। সামরিক মহলে এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে বিমানটির কৌশলগত ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল এগারোটা ২০ মিনিটের দিকে বিমানটি একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে আকাশে উড্ডয়নের চেষ্টা করছিল। উড্ডয়নের পরপরই কোনো এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বহু দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘাঁটির কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পর্যালোচনার পর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কারও বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।


লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে মোহাভি মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে এই ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সব ধরনের আগত বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার সুবিধার্থে দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিস্তারিত পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তবে বিমানটি যে রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে উড়ছিল, সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।


দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত এক মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় ওড়ার সক্ষমতা সম্পন্ন এই বিমানটি একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ প্রচলিত বোমা ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। আকাশে থাকাকালীন জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকায় এর আঘাত হানার পরিসর কার্যত অসীম।通常 একটি বোমারু বিমানে পাঁচ সদস্যের ক্রু দল কাজ করেন, যার মধ্যে কমান্ডার, পাইলট, নেভিগেটর এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ থাকেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়োগান্তক ঘটনাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল