দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে l-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় এই ঘোষণা দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিশাল পরিবর্তনটি একেবারে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি এই খাতে বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে বাজেটে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রায় যে প্রভাব পড়েছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই ভারসাম্য বজায় রাখতেই নতুন এই বেতন কাঠামো প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরিজীবীদের মূল বেতন সব পর্যায়ে প্রায় দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারী বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য সব ভাতা মিলিয়ে মোট ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা বেতন পাবেন বলে হিসাব করা হয়েছে। নতুন এই স্কেল অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন ৬৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেডের বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে প্রতিটি গ্রেডেই। পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৭ হাজার ২০০ এবং নবম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ১০০ টাকা করা হয়েছে। মাঝামাঝি পর্যায়ের গ্রেডগুলোতেও বড় ধরনের সমন্বয় এসেছে। যেমন, দশম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা, একাদশ গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার, দ্বাদশ গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০, ত্রয়োদশ গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার এবং চতুর্দশ গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া একদম নিচের দিকে থাকা পঞ্চদশ গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, ষোড়শ গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, সপ্তদশ গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, অষ্টাদশ গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা, ঊনবিংশ গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বশেষ বিংশ গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করাই এই নতুন বেতন কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে l-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় এই ঘোষণা দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিশাল পরিবর্তনটি একেবারে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি এই খাতে বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে বাজেটে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রায় যে প্রভাব পড়েছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই ভারসাম্য বজায় রাখতেই নতুন এই বেতন কাঠামো প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরিজীবীদের মূল বেতন সব পর্যায়ে প্রায় দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারী বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য সব ভাতা মিলিয়ে মোট ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা বেতন পাবেন বলে হিসাব করা হয়েছে। নতুন এই স্কেল অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন ৬৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেডের বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে প্রতিটি গ্রেডেই। পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৭ হাজার ২০০ এবং নবম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ১০০ টাকা করা হয়েছে। মাঝামাঝি পর্যায়ের গ্রেডগুলোতেও বড় ধরনের সমন্বয় এসেছে। যেমন, দশম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা, একাদশ গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার, দ্বাদশ গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০, ত্রয়োদশ গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার এবং চতুর্দশ গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া একদম নিচের দিকে থাকা পঞ্চদশ গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, ষোড়শ গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, সপ্তদশ গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, অষ্টাদশ গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা, ঊনবিংশ গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বশেষ বিংশ গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করাই এই নতুন বেতন কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য।

আপনার মতামত লিখুন