দিকপাল

মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার ডলার, জিডিপি পৌঁছাল ৫০০ বিলিয়নে


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | ০৫:১২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার ডলার, জিডিপি পৌঁছাল ৫০০ বিলিয়নে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক আকার প্রথমবারের মতো অর্ধ ট্রিলিয়ন বা ৫০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক সাময়িক প্রতিবেদনে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। সরকারি এই তথ্য অনুযায়ী, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বর্তমান বাজারমূল্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারের হিসাবে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলারের সমান। এর আগের অর্থবছরে অর্থনীতির এই আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে জিডিপির এই আকার বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।

অর্থনীতির এই প্রসারের পাশাপাশি দেশের মানুষের গড় জীবনযাত্রার মানেও পরিবর্তন এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু গড় আয়ও প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমানে দেশের একজন নাগরিকের বার্ষিক গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মানুষের এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৪ bin ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। সেই তুলনায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা বেড়েছে। আরও পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ গত দুই বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের গড় আয় বেড়েছে প্রায় ৬৪ হাজার টাকা, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির একটি অন্যতম নির্দেশক।

এদিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্থবিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে। বিগত অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ও সেবার ওপর ভিত্তি করে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বরাবরের মতোই দেশের সেবা খাত অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে এবং এই খাতে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্প খাতে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

গত অর্থবছরের তুলনায় দেশের কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হলেও শিল্প খাতে উৎপাদনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে টেনে তুলতে সাহায্য করেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শিল্পের এই ঘুরে দাঁড়ানো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তি ও উৎপাদনশীলতার প্রমাণ দেয়। সব মিলিয়ে বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটিয়ে উঠে এই ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি বার্তা বহন করে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার ডলার, জিডিপি পৌঁছাল ৫০০ বিলিয়নে

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক আকার প্রথমবারের মতো অর্ধ ট্রিলিয়ন বা ৫০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক সাময়িক প্রতিবেদনে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। সরকারি এই তথ্য অনুযায়ী, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বর্তমান বাজারমূল্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারের হিসাবে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলারের সমান। এর আগের অর্থবছরে অর্থনীতির এই আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে জিডিপির এই আকার বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।

অর্থনীতির এই প্রসারের পাশাপাশি দেশের মানুষের গড় জীবনযাত্রার মানেও পরিবর্তন এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু গড় আয়ও প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমানে দেশের একজন নাগরিকের বার্ষিক গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মানুষের এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৪ bin ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। সেই তুলনায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা বেড়েছে। আরও পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ গত দুই বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের গড় আয় বেড়েছে প্রায় ৬৪ হাজার টাকা, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির একটি অন্যতম নির্দেশক।

এদিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্থবিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে। বিগত অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ও সেবার ওপর ভিত্তি করে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বরাবরের মতোই দেশের সেবা খাত অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে এবং এই খাতে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্প খাতে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

গত অর্থবছরের তুলনায় দেশের কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হলেও শিল্প খাতে উৎপাদনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে টেনে তুলতে সাহায্য করেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শিল্পের এই ঘুরে দাঁড়ানো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তি ও উৎপাদনশীলতার প্রমাণ দেয়। সব মিলিয়ে বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটিয়ে উঠে এই ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি বার্তা বহন করে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল