দিকপাল

অর্থনীতিতে বড় ঘাটতি, ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | ০৩:১১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনীতিতে বড় ঘাটতি, ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

দেশের বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘাটতি মেটাতে এবারও সরকারকে দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে। আগামী নতুন অর্থবছরের জন্য যে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হতে যাচ্ছে, সেখানে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য যে অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী সরকার দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত বিভিন্ন খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক উৎস থেকে আরও এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি আসন্ন নতুন অর্থবছরে পূর্বের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ বাবদ সরকারকে আরও প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের চরম ঋণনির্ভর বাজেট যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর এক ধরনের বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার মোট বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নিট এক লাখ can চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে বাস্তবতা হলো, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে শুরু করে মে মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসেই সরকার ইতিমধ্যে নিট এক লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে, যা পুরো বছরের জন্য নির্ধারিত মূল লক্ষ্যমাত্রাকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের একদম শুরুতে সরকারের ব্যাংকঋণের মোট স্থিতি যেখানে ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, তা মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৬০ হাজার ৪Nz৩ কোটি টাকায়। এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক—উভয় উৎস থেকেই সরকারের টাকা ধার করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দেশ পরিচালনার প্রধান আয়ের উৎস জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা কর খাত হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার ঘর পার হয়ে গেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব ঘাটতির এক নজিরবিহীন রেকর্ড। দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘস্থায়ী মন্থর গতি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় কর আহরণ প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। ফলে বাজেটের বিশাল খরচ ও ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে নিরুপায় হয়ে ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণ উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হচ্ছে।

তবে সরকারের এই অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ নেওয়ার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের আশঙ্কা, সরকার যদি এভাবে প্রতি মাসে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেয়, তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বাজারে টাকার জোগান কম থাকায় ঋণের সুদের হারও প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকবে, যা ব্যবসার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনও এই আশঙ্কার সত্যতা নিশ্চিত করছে; বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে মাত্র ৪.৭ শতাংশে এসে ঠেকেছে, যা দেশের শিল্প খাতে এক চরম বিনিয়োগ মন্দার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই সময়ে কর আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ৩১ Scre চারশত ৬১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও, বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে আদায় সম্ভব হয়েছে মাত্র তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা; যেখানে প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ১০.৬০ শতাংশ। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এক বিরাট ও নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন দেশের আর্থিক বিশ্লেষকরা।

এই সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এত বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও সতর্ক করেন যে, বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের এই অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা বেসরকারি খাতের বিকাশের জন্য একটি অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ রাষ্ট্র নিজেই যদি ব্যাংক ব্যবস্থার সিংহভাগ টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে নেয়, তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে। এর ফলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে না এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে উল্টো শ্রমবাজার আরও সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


অর্থনীতিতে বড় ঘাটতি, ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘাটতি মেটাতে এবারও সরকারকে দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে। আগামী নতুন অর্থবছরের জন্য যে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হতে যাচ্ছে, সেখানে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য যে অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী সরকার দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত বিভিন্ন খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক উৎস থেকে আরও এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি আসন্ন নতুন অর্থবছরে পূর্বের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ বাবদ সরকারকে আরও প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের চরম ঋণনির্ভর বাজেট যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর এক ধরনের বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার মোট বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নিট এক লাখ can চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে বাস্তবতা হলো, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে শুরু করে মে মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসেই সরকার ইতিমধ্যে নিট এক লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে, যা পুরো বছরের জন্য নির্ধারিত মূল লক্ষ্যমাত্রাকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের একদম শুরুতে সরকারের ব্যাংকঋণের মোট স্থিতি যেখানে ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, তা মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৬০ হাজার ৪Nz৩ কোটি টাকায়। এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক—উভয় উৎস থেকেই সরকারের টাকা ধার করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দেশ পরিচালনার প্রধান আয়ের উৎস জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা কর খাত হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার ঘর পার হয়ে গেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব ঘাটতির এক নজিরবিহীন রেকর্ড। দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘস্থায়ী মন্থর গতি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় কর আহরণ প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। ফলে বাজেটের বিশাল খরচ ও ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে নিরুপায় হয়ে ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণ উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হচ্ছে।

তবে সরকারের এই অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ নেওয়ার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের আশঙ্কা, সরকার যদি এভাবে প্রতি মাসে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেয়, তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বাজারে টাকার জোগান কম থাকায় ঋণের সুদের হারও প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকবে, যা ব্যবসার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনও এই আশঙ্কার সত্যতা নিশ্চিত করছে; বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে মাত্র ৪.৭ শতাংশে এসে ঠেকেছে, যা দেশের শিল্প খাতে এক চরম বিনিয়োগ মন্দার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই সময়ে কর আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ৩১ Scre চারশত ৬১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও, বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে আদায় সম্ভব হয়েছে মাত্র তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা; যেখানে প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ১০.৬০ শতাংশ। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এক বিরাট ও নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন দেশের আর্থিক বিশ্লেষকরা।

এই সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এত বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও সতর্ক করেন যে, বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের এই অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা বেসরকারি খাতের বিকাশের জন্য একটি অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ রাষ্ট্র নিজেই যদি ব্যাংক ব্যবস্থার সিংহভাগ টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে নেয়, তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে। এর ফলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে না এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে উল্টো শ্রমবাজার আরও সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল