দিকপাল

অর্থঋণ আদালত আইন সংস্কারের ঘোষণা দিলেন গভর্নর


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | ০১:৪০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থঋণ আদালত আইন সংস্কারের ঘোষণা দিলেন গভর্নর

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তি ও আদায়ের লক্ষ্যে অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের এক বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এর পাশাপাশি যেসব ঋণ কোনোভাবেই আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন প্রণয়নের কাজও পুরোদমে চলছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে গভর্নর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা দূর করতে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে, গভর্নরের বক্তব্যে সেই আভাসই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎকারে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী এবং দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন উপস্থিত ছিলেন। দেশের শীর্ষ সাংবাদিকদের এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে গভর্নর দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত মজবুত করা এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া নানামুখী সংস্কারমূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

গভর্নর আরও জানান যে, দেশের দুর্বল ও সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ বা সংমিশ্রণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কিছু বড় ধরনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের সার্বিক উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সমন্বয় পুরোপুরি সম্পন্ন হলে এই পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ কার্যক্রমের গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি বিদেশে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের এক বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সম্পদ আইনগতভাবে জব্দ করা হয়েছে, যা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের একটি শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে।

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে গভর্নর আরও জানান, দেশের কয়েকটি বড় ও প্রভাবশালী ব্যাংক, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়েছে। একই সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে সাধারণ আমানতকারীদের আমানতের স্বার্থ শতভাগ সুরক্ষিত থাকে এবং ব্যাংকের ভেতর কোনো অনিয়ম না ঘটতে পারে। এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সম্মানিত সদস্যরা দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, খেলাপি ঋণের নেতিবাচক প্রভাব এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ তুলে ধরেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


অর্থঋণ আদালত আইন সংস্কারের ঘোষণা দিলেন গভর্নর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তি ও আদায়ের লক্ষ্যে অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের এক বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এর পাশাপাশি যেসব ঋণ কোনোভাবেই আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন প্রণয়নের কাজও পুরোদমে চলছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে গভর্নর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা দূর করতে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে, গভর্নরের বক্তব্যে সেই আভাসই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎকারে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী এবং দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন উপস্থিত ছিলেন। দেশের শীর্ষ সাংবাদিকদের এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে গভর্নর দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত মজবুত করা এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া নানামুখী সংস্কারমূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

গভর্নর আরও জানান যে, দেশের দুর্বল ও সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ বা সংমিশ্রণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কিছু বড় ধরনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের সার্বিক উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সমন্বয় পুরোপুরি সম্পন্ন হলে এই পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ কার্যক্রমের গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি বিদেশে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের এক বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সম্পদ আইনগতভাবে জব্দ করা হয়েছে, যা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের একটি শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে।

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে গভর্নর আরও জানান, দেশের কয়েকটি বড় ও প্রভাবশালী ব্যাংক, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়েছে। একই সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে সাধারণ আমানতকারীদের আমানতের স্বার্থ শতভাগ সুরক্ষিত থাকে এবং ব্যাংকের ভেতর কোনো অনিয়ম না ঘটতে পারে। এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সম্মানিত সদস্যরা দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, খেলাপি ঋণের নেতিবাচক প্রভাব এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ তুলে ধরেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল