দিকপাল

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন খলিলুর রহমান


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | ০৬:৩১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন খলিলুর রহমান

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গতিশীল ও বহুমুখী করতে মস্কোতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বর্তমান ক্ষেত্রগুলোর চুলচেরা পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হবে। একই সাথে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ইস্যুগুলোও দুই নেতার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরটি দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। কারণ, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সেই ঐতিহাসিক ঢাকা সফরের পর এটিই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর খলিলুর রহমানের এটাই প্রথম মস্কো সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দীর্ঘদিনের এবং এর ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কালবেলায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ও অনন্য ভূমিকা বাংলাদেশের মানুষ সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে একদম প্রথম সারির দেশ হিসেবে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠনে তাদের বাড়িয়ে দেওয়া হাত ছিল অনন্য। বিশেষ করে স্বাধীনতার ঠিক পর পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ও তার সংলগ্ন বিশাল জলসীমাকে নিরাপদ ও সচল করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর চালানো মাইন অপসারণ এবং ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের দুঃসাহসিক অভিযান দুই দেশের চিরন্তন বন্ধুত্বকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

রুশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ এবং নানামুখী আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়া প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর, এবার দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ আইনসভা তথা পার্লামেন্টের মধ্যেও প্রাতিষ্ঠানিক ও সংসদীয় যোগাযোগ শুরুর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশ বরাবরই একে অপরের প্রতি অত্যন্ত গঠনমূলক ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রেখে আসছে।

তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটোম’-এর শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজের বর্তমান বাস্তব অগ্রগতি এবং এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি এই বিশেষ আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি রুশ ফেডারেশনের উচ্চকক্ষ তথা ‘ফেডারেল কাউন্সিল’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। এর আগে, দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে তিন দিনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরে গত রবিবার মস্কোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী এবং বিশেষ পরামর্শক হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন খলিলুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গতিশীল ও বহুমুখী করতে মস্কোতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বর্তমান ক্ষেত্রগুলোর চুলচেরা পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হবে। একই সাথে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ইস্যুগুলোও দুই নেতার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরটি দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। কারণ, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সেই ঐতিহাসিক ঢাকা সফরের পর এটিই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর খলিলুর রহমানের এটাই প্রথম মস্কো সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দীর্ঘদিনের এবং এর ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কালবেলায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ও অনন্য ভূমিকা বাংলাদেশের মানুষ সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে একদম প্রথম সারির দেশ হিসেবে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠনে তাদের বাড়িয়ে দেওয়া হাত ছিল অনন্য। বিশেষ করে স্বাধীনতার ঠিক পর পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ও তার সংলগ্ন বিশাল জলসীমাকে নিরাপদ ও সচল করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর চালানো মাইন অপসারণ এবং ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের দুঃসাহসিক অভিযান দুই দেশের চিরন্তন বন্ধুত্বকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

রুশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ এবং নানামুখী আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়া প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর, এবার দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ আইনসভা তথা পার্লামেন্টের মধ্যেও প্রাতিষ্ঠানিক ও সংসদীয় যোগাযোগ শুরুর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশ বরাবরই একে অপরের প্রতি অত্যন্ত গঠনমূলক ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রেখে আসছে।

তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটোম’-এর শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজের বর্তমান বাস্তব অগ্রগতি এবং এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি এই বিশেষ আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি রুশ ফেডারেশনের উচ্চকক্ষ তথা ‘ফেডারেল কাউন্সিল’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। এর আগে, দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে তিন দিনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরে গত রবিবার মস্কোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী এবং বিশেষ পরামর্শক হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল