দিকপাল

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন তদন্ত কমিটি গঠন


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ | ০১:০৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন তদন্ত কমিটি গঠন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে লাগা অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও উৎস উদঘাটনের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যে কার্গো হাউজটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, সেখানে সেটির প্রকৃত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মালামাল ও পণ্য মজুত করে রাখা ছিল। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল রাখার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছিল কি না, তা এই কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।

গত শুক্রবার রাতে অগ্নিকাণ্ড কবলিত বিমানবন্দর এলাকা সশরীরে পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর প্রতিমন্ত্রীর ধারণা, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিমানবন্দরে কেন বারবার এই ধরনের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটছে এবং কেন সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতেও একই ধরনের কারণ উঠে এসেছিল, যা স্পষ্টতই কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য অব্যবস্থাপনা অথবা চরম গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করে।

প্রতিমন্ত্রী আরও পরিষ্কার করে জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যদি কারও ন্যূনতম অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন দেশের এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন বিপজ্জনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

অন্য দিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগার খবর পাওয়ার মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যে ফায়ার ফাইটাররা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে কার্গো কমপ্লেক্সের ভেতরের ধোঁয়া এবং মালামাল সরিয়ে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয় নম্বর গেটের ঠিক পাশে অবস্থিত কার্গো কমপ্লেক্সের কুরিয়ার অপারেশন জোনে এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসায় বড় ধরনের কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হওয়া থেকে বিমানবন্দর রক্ষা পেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে লাগা অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও উৎস উদঘাটনের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যে কার্গো হাউজটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, সেখানে সেটির প্রকৃত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মালামাল ও পণ্য মজুত করে রাখা ছিল। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল রাখার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছিল কি না, তা এই কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।

গত শুক্রবার রাতে অগ্নিকাণ্ড কবলিত বিমানবন্দর এলাকা সশরীরে পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর প্রতিমন্ত্রীর ধারণা, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিমানবন্দরে কেন বারবার এই ধরনের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটছে এবং কেন সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতেও একই ধরনের কারণ উঠে এসেছিল, যা স্পষ্টতই কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য অব্যবস্থাপনা অথবা চরম গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করে।

প্রতিমন্ত্রী আরও পরিষ্কার করে জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যদি কারও ন্যূনতম অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন দেশের এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন বিপজ্জনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

অন্য দিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগার খবর পাওয়ার মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যে ফায়ার ফাইটাররা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে কার্গো কমপ্লেক্সের ভেতরের ধোঁয়া এবং মালামাল সরিয়ে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয় নম্বর গেটের ঠিক পাশে অবস্থিত কার্গো কমপ্লেক্সের কুরিয়ার অপারেশন জোনে এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসায় বড় ধরনের কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হওয়া থেকে বিমানবন্দর রক্ষা পেয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল