রাজধানীর বুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে দাবি করে এবার নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা শব্দদূষণ রোধেও একই প্রযুক্তি ব্যবহারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। শুক্রবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এক বিশেষ সচেতনতামূলক গণসমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। মেগাসিটি ঢাকার ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণ রুখতে আধুনিক প্রযুক্তির এই সংযোজন নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করছে নগর কর্তৃপক্ষ।
গুলশানের এই সমাবেশে ডিএনসিসি প্রশাসক ঢাকাকে বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নগর সংস্থা হিসেবে আমরা আমাদের আইনি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি। তবে এই বিশাল কাজ একা কোনো সংস্থার পক্ষে পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, সেই সমস্ত সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকেও এই মহতি উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বাস্তবসম্মত মন্তব্য করে আরও বলেন, আমরা এটি বলছি না যে এক রাতের মধ্যে বা একদিনেই শহরের পুরো শব্দদূষণ অলৌকিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলা সম্ভব হবে। তবে আমরা এই পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সাথে নিয়েই মাঠপর্যায়ে আইন এবং প্রযুক্তির কঠোর বাস্তবায়ন করতে চাই। সবার সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রয়াসেই ঢাকাকে একটি শান্ত ও সুস্থ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
শব্দদূষণ রোধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শফিকুল ইসলাম খান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, আজকের পর থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর চারপাশের নির্দিষ্ট এলাকা সম্পূর্ণরূপে শব্দদূষণমুক্ত বা হর্নমুক্ত এলাকা হিসেবে কার্যকর থাকবে। বিমানবন্দরের সংলগ্ন সড়কগুলোতে কোনো চালক বিনা কারণে হর্ন বা উচ্চমাত্রার হর্ন বাজালে কিংবা পরিবেশ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের শিথিলতা এখানে বরদাশত করা হবে না।
পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার শব্দদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর সংস্কৃতি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অবসাদের মতো জটিল রোগ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মতো যদি শব্দদূষণ চিহ্নিতকরণ এবং তা নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও ক্যামেরা ব্যবহার করা যায়, তবে হর্ন বাজানো চালকদের সহজেই শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা যাবে। উত্তর সিটি করপোরেশনের এই সময়োপযোগী ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা ঢাকার পরিবেশের গুণগত পরিবর্তনে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
রাজধানীর বুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে দাবি করে এবার নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা শব্দদূষণ রোধেও একই প্রযুক্তি ব্যবহারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। শুক্রবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এক বিশেষ সচেতনতামূলক গণসমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। মেগাসিটি ঢাকার ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণ রুখতে আধুনিক প্রযুক্তির এই সংযোজন নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করছে নগর কর্তৃপক্ষ।
গুলশানের এই সমাবেশে ডিএনসিসি প্রশাসক ঢাকাকে বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নগর সংস্থা হিসেবে আমরা আমাদের আইনি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি। তবে এই বিশাল কাজ একা কোনো সংস্থার পক্ষে পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, সেই সমস্ত সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকেও এই মহতি উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বাস্তবসম্মত মন্তব্য করে আরও বলেন, আমরা এটি বলছি না যে এক রাতের মধ্যে বা একদিনেই শহরের পুরো শব্দদূষণ অলৌকিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলা সম্ভব হবে। তবে আমরা এই পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সাথে নিয়েই মাঠপর্যায়ে আইন এবং প্রযুক্তির কঠোর বাস্তবায়ন করতে চাই। সবার সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রয়াসেই ঢাকাকে একটি শান্ত ও সুস্থ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
শব্দদূষণ রোধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শফিকুল ইসলাম খান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, আজকের পর থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর চারপাশের নির্দিষ্ট এলাকা সম্পূর্ণরূপে শব্দদূষণমুক্ত বা হর্নমুক্ত এলাকা হিসেবে কার্যকর থাকবে। বিমানবন্দরের সংলগ্ন সড়কগুলোতে কোনো চালক বিনা কারণে হর্ন বা উচ্চমাত্রার হর্ন বাজালে কিংবা পরিবেশ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের শিথিলতা এখানে বরদাশত করা হবে না।
পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার শব্দদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর সংস্কৃতি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অবসাদের মতো জটিল রোগ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মতো যদি শব্দদূষণ চিহ্নিতকরণ এবং তা নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও ক্যামেরা ব্যবহার করা যায়, তবে হর্ন বাজানো চালকদের সহজেই শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা যাবে। উত্তর সিটি করপোরেশনের এই সময়োপযোগী ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা ঢাকার পরিবেশের গুণগত পরিবর্তনে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন