দেশে বিদ্যুতের নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে এবং এর সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে। সাবান, প্লাস্টিকজাত পণ্য, ভোজ্যতেল, চিনি, ডালসহ বিদ্যুৎনির্ভর উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ড. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি যায় এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য। সরকারের ভর্তুকির চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, গণশুনানির পর দ্রুত বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণার পেছনে আসন্ন জাতীয় বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমিয়ে বাজেটের ওপর চাপ হ্রাস করার লক্ষ্যেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
তবে ভর্তুকিকে তিনি সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে দেখেন না। তাঁর মতে, এটি এক ধরনের সামাজিক বিনিয়োগ। কারণ জাতীয় গ্রিডের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয় আবাসিক খাতে, ফলে সাধারণ জনগণই এর প্রধান সুবিধাভোগী। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে সেই সুবিধার পরিমাণ কমে যাবে এবং পরিবারের ব্যয় বাড়বে। বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ড. তামিম তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ১১ শতাংশ উৎপাদিত হয় তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে, যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২৭ থেকে ২৮ টাকা। এর ফলে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটাতে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক কমিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবহার সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি। ড. তামিমের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
দেশে বিদ্যুতের নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে এবং এর সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে। সাবান, প্লাস্টিকজাত পণ্য, ভোজ্যতেল, চিনি, ডালসহ বিদ্যুৎনির্ভর উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ড. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি যায় এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য। সরকারের ভর্তুকির চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, গণশুনানির পর দ্রুত বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণার পেছনে আসন্ন জাতীয় বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমিয়ে বাজেটের ওপর চাপ হ্রাস করার লক্ষ্যেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
তবে ভর্তুকিকে তিনি সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে দেখেন না। তাঁর মতে, এটি এক ধরনের সামাজিক বিনিয়োগ। কারণ জাতীয় গ্রিডের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয় আবাসিক খাতে, ফলে সাধারণ জনগণই এর প্রধান সুবিধাভোগী। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে সেই সুবিধার পরিমাণ কমে যাবে এবং পরিবারের ব্যয় বাড়বে। বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ড. তামিম তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ১১ শতাংশ উৎপাদিত হয় তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে, যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২৭ থেকে ২৮ টাকা। এর ফলে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটাতে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক কমিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবহার সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি। ড. তামিমের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন