ঈদের টানা কয়েক দিনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার গ্রহণের ফলে অনেকেই হজমের অস্বস্তি পেট ফাঁপা কিংবা ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যায় ভুগছেন। উৎসবের আমেজ শেষে শরীরকে পুনরায় কর্মক্ষম ও সুস্থ করে তুলতে বিশেষ কিছু সতর্কতা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ।
পুষ্টিবিদের মতে ঈদের পর হঠাৎ করে কঠোর ডায়েট বা উপবাস করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমেই দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা সম্ভব। শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে নিচে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
ভারসাম্যপূর্ণ প্লেট: প্রতি বেলার খাবারে ৫০ শতাংশ সবজি ও শাক ২৫ শতাংশ প্রোটিন যেমন মাছ বা ডাল এবং বাকি ২৫ শতাংশ শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার: হজমশক্তি সচল রাখতে খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ৩-৪টি ফল এবং প্রতিবেলা পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখা জরুরি। শসা গাজর পেঁপে ও আপেল বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক করতে সহায়ক।
মিষ্টি ও প্রসেসড খাবার পরিহার: উৎসব পরবর্তী বাড়তি মিষ্টি কেক বা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এ ধরনের খাবার ক্যালরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
শরীরে লবণের আধিক্য কমাতে পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। তবে হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে খাবার খাওয়ার ২০-৩০ মিনিট পর পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কোমল পানীয়ের পরিবর্তে লেবুপানি বা ডাবের পানি বেছে নেওয়া ভালো।
রাতের খাবার: বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন এবং ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে আহার সেরে নিন।
শারীরিক পরিশ্রম: ভারী ব্যায়ামের বদলে প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা বা লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাওয়ার পরপর ১০-১৫ মিনিট হাঁটলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ঘুমের রুটিন: ছুটির আলস্য ঝেড়ে ফেলে পুনরায় ৬-৭ ঘণ্টার নিয়মিত ঘুমের রুটিনে ফিরে আসা শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য অপরিহার্য।
ওজন কিছুটা বেড়ে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন যে ঈদের পরে যে ওজন বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায় তার একটি বড় অংশই হলো শরীরে জমে থাকা পানি। তাই ক্র্যাশ ডায়েট না করে ধৈর্য ও নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমেই শরীরকে পুনরায় স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
ঈদের টানা কয়েক দিনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার গ্রহণের ফলে অনেকেই হজমের অস্বস্তি পেট ফাঁপা কিংবা ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যায় ভুগছেন। উৎসবের আমেজ শেষে শরীরকে পুনরায় কর্মক্ষম ও সুস্থ করে তুলতে বিশেষ কিছু সতর্কতা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ।
পুষ্টিবিদের মতে ঈদের পর হঠাৎ করে কঠোর ডায়েট বা উপবাস করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমেই দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা সম্ভব। শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে নিচে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
ভারসাম্যপূর্ণ প্লেট: প্রতি বেলার খাবারে ৫০ শতাংশ সবজি ও শাক ২৫ শতাংশ প্রোটিন যেমন মাছ বা ডাল এবং বাকি ২৫ শতাংশ শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার: হজমশক্তি সচল রাখতে খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ৩-৪টি ফল এবং প্রতিবেলা পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখা জরুরি। শসা গাজর পেঁপে ও আপেল বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক করতে সহায়ক।
মিষ্টি ও প্রসেসড খাবার পরিহার: উৎসব পরবর্তী বাড়তি মিষ্টি কেক বা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এ ধরনের খাবার ক্যালরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
শরীরে লবণের আধিক্য কমাতে পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। তবে হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে খাবার খাওয়ার ২০-৩০ মিনিট পর পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কোমল পানীয়ের পরিবর্তে লেবুপানি বা ডাবের পানি বেছে নেওয়া ভালো।
রাতের খাবার: বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন এবং ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে আহার সেরে নিন।
শারীরিক পরিশ্রম: ভারী ব্যায়ামের বদলে প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা বা লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাওয়ার পরপর ১০-১৫ মিনিট হাঁটলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ঘুমের রুটিন: ছুটির আলস্য ঝেড়ে ফেলে পুনরায় ৬-৭ ঘণ্টার নিয়মিত ঘুমের রুটিনে ফিরে আসা শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য অপরিহার্য।
ওজন কিছুটা বেড়ে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন যে ঈদের পরে যে ওজন বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায় তার একটি বড় অংশই হলো শরীরে জমে থাকা পানি। তাই ক্র্যাশ ডায়েট না করে ধৈর্য ও নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমেই শরীরকে পুনরায় স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন