দেশের সাধারণ ও নিম্ন আয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর একটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হবে চার লাখ টাকা। এর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০৩০-৩১ অর্থবছরে এই সীমা আরও বাড়িয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময় দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছিল। তবে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানাবিধ অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে সেই সীমা পূর্বের সাড়ে তিন লাখ টাকাই বহাল রাখা হয়। অবশ্য পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার আগামী বাজেটে সেই সিদ্ধান্তই বহাল রাখতে যাচ্ছে।
তবে করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও আগামী অর্থবছরে করের হারে বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে যারা এই সীমার ঠিক কিছুটা ওপরে অবস্থান করবেন, তাদের করের বোঝা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট থেকে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশের করের ধাপটি সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হতে পারে। এর পরিবর্তে যাদের বার্ষিক আয় পৌনে চার লাখ টাকার বেশি হবে, তাদের করমুক্ত আয়সীমার পরবর্তী প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট সমস্ত আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বর্তমান নিয়মে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। সেই হিসেবে কোনো করদাতার বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা হলে তাকে সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হয়। কিন্তু আগামী বাজেটে যদি সর্বনিম্ন ৫ শতাংশের এই হারটি তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানে ১০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়, তবে ওই সাড়ে চার লাখ টাকা আয়কারী ব্যক্তির করযোগ্য ৭৫ হাজার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে সাড়ে সাত হাজার টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী বা টিআইএনধারী নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ৪৬ লাখ করদাতা তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল ঘোষণা করতে পারে সরকার। নতুন এই পে স্কেল ঘোষণার পর বাজারে মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক আশঙ্কা থাকে। আর সে কারণেই মূলত কম আয়ের সাধারণ করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি ও আর্থিক নিরাপত্তা দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর এই অগ্রিম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘জুলাইযোদ্ধা’ করদাতাদের জন্য একটি বিশেষ করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বর্তমান সরকার আগামী অর্থবছরেও দেশের এই বীর সন্তানদের জন্য এই বিশেষ সুবিধাটি বহাল রাখার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও উৎসাহিত ও গতিশীল করতে যেকোনো সাধারণ নাগরিকের ‘কৃষি খাত থেকে অর্জিত আয়’ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার যে নিয়ম ছিল, সেটিও আগামীতে বহাল রাখা হতে পারে।
একইভাবে চলতি অর্থবছরের মতো আগামী করবর্ষেও চাকরিজীবী কর্মচারীদের বিভিন্ন জটিল ও ব্যয়বহুল রোগ যেমন—কিডনি, লিভার, ক্যান্সার, হার্টের চিকিৎসার পাশাপাশি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার এবং কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রাপ্ত সমস্ত অর্থকে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের যেকোনো ধরনের আয় এবং জিরো কুপন ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট থেকে অর্জিত মুনাফাকে আগামী অর্থবছরেও করের আওতামুক্ত রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ এই বিষয়ে বলেন যে, দেশে ২০২২ সাল থেকেই মূল্যস্ফীতি অত্যন্ত উচ্চ হারে বাড়ছে এবং বর্তমানেও এই পরিস্থিতি বেশ অস্বাভাবিক। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আশায় বসে না থেকে করমুক্ত আয়সীমা এখনই বাড়ানো উচিত। কারণ ভবিষ্যতে যখন মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে আসবে, তখন আর এই সীমা বাড়ানোর খুব একটা প্রয়োজন হবে না। অন্যদিকে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, একবারে ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত করের ধাপগুলো এখনই নির্দিষ্ট করে দেওয়া বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তবে কয়েক বছর আগে থেকেই করের হার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হলে তা করদাতার ব্যবসা বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, যা বিশ্বজুড়েই প্রচলিত। তবে এই ধরনের পরিকল্পনা সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি বছর মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সাথে সাথে করের হারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
দেশের সাধারণ ও নিম্ন আয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর একটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হবে চার লাখ টাকা। এর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০৩০-৩১ অর্থবছরে এই সীমা আরও বাড়িয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময় দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছিল। তবে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানাবিধ অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে সেই সীমা পূর্বের সাড়ে তিন লাখ টাকাই বহাল রাখা হয়। অবশ্য পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার আগামী বাজেটে সেই সিদ্ধান্তই বহাল রাখতে যাচ্ছে।
তবে করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও আগামী অর্থবছরে করের হারে বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে যারা এই সীমার ঠিক কিছুটা ওপরে অবস্থান করবেন, তাদের করের বোঝা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট থেকে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশের করের ধাপটি সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হতে পারে। এর পরিবর্তে যাদের বার্ষিক আয় পৌনে চার লাখ টাকার বেশি হবে, তাদের করমুক্ত আয়সীমার পরবর্তী প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট সমস্ত আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বর্তমান নিয়মে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। সেই হিসেবে কোনো করদাতার বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা হলে তাকে সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হয়। কিন্তু আগামী বাজেটে যদি সর্বনিম্ন ৫ শতাংশের এই হারটি তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানে ১০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়, তবে ওই সাড়ে চার লাখ টাকা আয়কারী ব্যক্তির করযোগ্য ৭৫ হাজার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে সাড়ে সাত হাজার টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী বা টিআইএনধারী নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ৪৬ লাখ করদাতা তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল ঘোষণা করতে পারে সরকার। নতুন এই পে স্কেল ঘোষণার পর বাজারে মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক আশঙ্কা থাকে। আর সে কারণেই মূলত কম আয়ের সাধারণ করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি ও আর্থিক নিরাপত্তা দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর এই অগ্রিম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘জুলাইযোদ্ধা’ করদাতাদের জন্য একটি বিশেষ করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বর্তমান সরকার আগামী অর্থবছরেও দেশের এই বীর সন্তানদের জন্য এই বিশেষ সুবিধাটি বহাল রাখার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও উৎসাহিত ও গতিশীল করতে যেকোনো সাধারণ নাগরিকের ‘কৃষি খাত থেকে অর্জিত আয়’ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার যে নিয়ম ছিল, সেটিও আগামীতে বহাল রাখা হতে পারে।
একইভাবে চলতি অর্থবছরের মতো আগামী করবর্ষেও চাকরিজীবী কর্মচারীদের বিভিন্ন জটিল ও ব্যয়বহুল রোগ যেমন—কিডনি, লিভার, ক্যান্সার, হার্টের চিকিৎসার পাশাপাশি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার এবং কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রাপ্ত সমস্ত অর্থকে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের যেকোনো ধরনের আয় এবং জিরো কুপন ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট থেকে অর্জিত মুনাফাকে আগামী অর্থবছরেও করের আওতামুক্ত রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ এই বিষয়ে বলেন যে, দেশে ২০২২ সাল থেকেই মূল্যস্ফীতি অত্যন্ত উচ্চ হারে বাড়ছে এবং বর্তমানেও এই পরিস্থিতি বেশ অস্বাভাবিক। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আশায় বসে না থেকে করমুক্ত আয়সীমা এখনই বাড়ানো উচিত। কারণ ভবিষ্যতে যখন মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে আসবে, তখন আর এই সীমা বাড়ানোর খুব একটা প্রয়োজন হবে না। অন্যদিকে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, একবারে ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত করের ধাপগুলো এখনই নির্দিষ্ট করে দেওয়া বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তবে কয়েক বছর আগে থেকেই করের হার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হলে তা করদাতার ব্যবসা বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, যা বিশ্বজুড়েই প্রচলিত। তবে এই ধরনের পরিকল্পনা সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি বছর মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সাথে সাথে করের হারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন