দিকপাল

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নেই আগামী বাজেটের মূল ফোকাস: অর্থমন্ত্রী


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ | ০৩:০৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নেই আগামী বাজেটের মূল ফোকাস: অর্থমন্ত্রী

আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন ও লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় সার্থকভাবে ফিরিয়ে আনা। সম্প্রতি রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই মন্তব্য করেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে প্রত্যাশা ও বাস্তবতা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের এক বিশাল রূপরেখা তুলে ধরেন। অর্থ মন্ত্রী অত্যন্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার ও বঞ্চিত হয়েছে মূলত নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। আর সেই কারণেই বর্তমান সরকার তাদের নতুন বাজেটে দেশের দরিদ্র, খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং অবহেলিত গৃহিণীদের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের জন্য অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা ছিল এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিগত দুটি সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর, বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান প্রশাসন দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় এবার থেকে সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে। এই আধুনিক ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি বা মধ্যস্বত্বভোগী দালালের হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকবে না। এর পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

দেশের চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে গিয়ে নিজের পকেট থেকে অনেক অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য এক বড় আর্থিক বোঝা। এই চরম ভোগান্তি কমাতে সরকার এবার সর্বজনীন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বিভিন্ন অলাভজনক উন্নয়ন সংস্থাকেও সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া দেশের ঐতিহ্যবাহী কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বাজেটে একটি বিশেষ সৃজনশীল অর্থনীতি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, আধুনিক ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং এবং উৎপাদিত পণ্য সঠিক মূল্যে বাজারজাতকরণে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি কেবল বড় বড় শিল্প-কারখানা থেকে আসে না। গ্রামীণ সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পসহ নানা ধরনের সৃজনশীল খাতও দেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, যাতে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষ সমানভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার পায় এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে। বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও হয়রানিমূলক নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা গাফিলতি হলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুব দ্রুত ও সহজে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে দেশের শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজারের বর্তমান মন্দা দশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্গঠন করার কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই দেশের অত্যন্ত পেশাদার, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নতুন কমিশন গঠন করা হবে। এর ফলে দেশি ও বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীদের মনে আবার নতুন করে আস্থা ফিরে আসবে এবং ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সহজে তাদের ব্যবসার তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

তিনি গভীর আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের নেওয়া এই সকল বহুমুখী সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নেই আগামী বাজেটের মূল ফোকাস: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন ও লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় সার্থকভাবে ফিরিয়ে আনা। সম্প্রতি রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই মন্তব্য করেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে প্রত্যাশা ও বাস্তবতা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের এক বিশাল রূপরেখা তুলে ধরেন। অর্থ মন্ত্রী অত্যন্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার ও বঞ্চিত হয়েছে মূলত নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। আর সেই কারণেই বর্তমান সরকার তাদের নতুন বাজেটে দেশের দরিদ্র, খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং অবহেলিত গৃহিণীদের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের জন্য অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা ছিল এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিগত দুটি সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর, বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান প্রশাসন দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় এবার থেকে সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে। এই আধুনিক ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি বা মধ্যস্বত্বভোগী দালালের হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকবে না। এর পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

দেশের চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে গিয়ে নিজের পকেট থেকে অনেক অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য এক বড় আর্থিক বোঝা। এই চরম ভোগান্তি কমাতে সরকার এবার সর্বজনীন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বিভিন্ন অলাভজনক উন্নয়ন সংস্থাকেও সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া দেশের ঐতিহ্যবাহী কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বাজেটে একটি বিশেষ সৃজনশীল অর্থনীতি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, আধুনিক ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং এবং উৎপাদিত পণ্য সঠিক মূল্যে বাজারজাতকরণে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি কেবল বড় বড় শিল্প-কারখানা থেকে আসে না। গ্রামীণ সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পসহ নানা ধরনের সৃজনশীল খাতও দেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, যাতে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষ সমানভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার পায় এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে। বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও হয়রানিমূলক নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা গাফিলতি হলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুব দ্রুত ও সহজে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে দেশের শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজারের বর্তমান মন্দা দশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্গঠন করার কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই দেশের অত্যন্ত পেশাদার, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নতুন কমিশন গঠন করা হবে। এর ফলে দেশি ও বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীদের মনে আবার নতুন করে আস্থা ফিরে আসবে এবং ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সহজে তাদের ব্যবসার তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

তিনি গভীর আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের নেওয়া এই সকল বহুমুখী সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল