বিশ্ব ফুটবলের মহোৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল থেকে নাটকীয়ভাবে বাদ পড়েছেন দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও তারকা স্ট্রাইকার সর্দার আজমুন। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘরোয়া ফুটবল লিগের জনপ্রিয় ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে মাঠ কাঁপানো এই তারকা ফুটবলারকে চূড়ান্ত দল থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো খামখেয়ালিপনা বা মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক বিতর্ক কাজ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জোরালো দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যখন ইরানের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরম তুঙ্গে ছিল, ঠিক তেমনই এক সংবেদনশীল সময়ে অর্থাৎ গত মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী শাসক মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে নিজের একটি বিশেষ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন সর্দার আজমুন। দুই দেশের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক শীতলতার মাঝে একজন ইরানি নাগরিক ও তারকা খেলোয়াড়ের এমন আচরণকে তেহরানের বর্তমান সরকার কোনোভাবেই ইতিবাচক বা ভালোভাবে নেয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এই তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষের জের ধরেই ত্রিশ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডকে প্রথমে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল থেকেই সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। আর এবার যখন মূল আসরের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হলো, তখনও দলের প্রধান কোচ আমির গালেনোই সরকারের অলিখিত মনোভাবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আজমুনকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন।
ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে একাই ৫৭টি গোল করা সর্দার আজমুন দীর্ঘদিন ধরে দেশটির আক্রমণভাগের সবচেয়ে প্রধান ও নির্ভরযোগ্য ভরসা ছিলেন। তবে রাজনৈতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের কারণে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মিশনে এই অভিজ্ঞ গোলদাতাকে ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুন কৌশলে এগোতে হচ্ছে দলটিকে। আগামী ১১ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। এর আগে মাঠের বাইরের নানামুখী আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বকাপে ইরানের সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে এক বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ইরান দল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মেক্সিকোতে নিজেদের প্রধান বেস ক্যাম্প বা আবাসন ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
মেক্সিকোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এর আগে এক বিতর্কিত দাবি করে জানিয়েছিলেন যে, ভূরাজনৈতিক বৈরিতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিজেদের মাটিতে স্বাগতিক দেশ হিসেবে সরাসরি গ্রহণ করতে এক প্রকার অনীহা ও অনীহাপ্রকাশ করেছিল। ঠিক এই জটিল কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই মেক্সিকোকে মূল কেন্দ্র বানিয়ে এখন তাদের দেশের মাটিতেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে ইরান দল। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নেবে তারা, যার সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ২১ জুন ইউরোপের পরাশক্তি বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে এবং ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে উত্তর আফ্রিকার দেশ মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান।
দল থেকে সর্দার আজমুন বাদ পড়ার মতো বড় ধাক্কা খেলেও ইরানের এই চূড়ান্ত স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি রাখেনি ম্যানেজমেন্ট। দলে আক্রমণভাগের হাল ধরতে এখনও বহাল আছেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি এবং ব্রাইটনের প্রাক্তন উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবাখশ। ৩৩ বছর বয়সী তারেমি বর্তমানে গ্রিসের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন, আর অন্যদিকে জাহানবাখশ খেলছেন বেলজিয়ামের শীর্ষ ঘরোয়া ক্লাব ডেন্ডারের জার্সি গায়ে।
চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ইরানের চূড়ান্ত ফুটবল দলটি নিচে তুলে ধরা হলো:
গোল সামলানোর মূল দায়িত্বে থাকছেন আলিরেজা বেইরানভান্দ, সৈয়দ হোসেইন হোসেইনি এবং পায়াম নিয়াজমান্দ। রক্ষণভাগ বা ডিফেন্স লাইনে থাকছেন দানিয়াল এইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হার্দানি, হোসেইন কানায়ানি, শোজা খালিলজাদেহ, মিলাদ মোহাম্মাদি, আলি নেমাতি এবং রামিন রেজায়িয়ান। মাঝমাঠ বা মিডফিল্ডের আক্রমণ ও রক্ষণ সচল রাখতে ডাক পেয়েছেন রুজবেহ চেশমি, সাইদ এজাতোলাহি, মেহদি ঘায়েদি, সামান ঘোদ্দোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবি, আমির মোহাম্মদ রাজ্জাঘিনিয়া, মেহদি তোরাবি এবং আরিয়া ইউসেফি। আর প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাতে ফরোয়ার্ড বা আক্রমণভাগে সর্দার আজমুনের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন আলি আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ, মেহদি তারেমি এবং শাহরিয়ার মোঘানলু।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের মহোৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল থেকে নাটকীয়ভাবে বাদ পড়েছেন দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও তারকা স্ট্রাইকার সর্দার আজমুন। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘরোয়া ফুটবল লিগের জনপ্রিয় ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে মাঠ কাঁপানো এই তারকা ফুটবলারকে চূড়ান্ত দল থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো খামখেয়ালিপনা বা মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক বিতর্ক কাজ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জোরালো দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যখন ইরানের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরম তুঙ্গে ছিল, ঠিক তেমনই এক সংবেদনশীল সময়ে অর্থাৎ গত মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী শাসক মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে নিজের একটি বিশেষ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন সর্দার আজমুন। দুই দেশের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক শীতলতার মাঝে একজন ইরানি নাগরিক ও তারকা খেলোয়াড়ের এমন আচরণকে তেহরানের বর্তমান সরকার কোনোভাবেই ইতিবাচক বা ভালোভাবে নেয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এই তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষের জের ধরেই ত্রিশ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডকে প্রথমে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল থেকেই সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। আর এবার যখন মূল আসরের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হলো, তখনও দলের প্রধান কোচ আমির গালেনোই সরকারের অলিখিত মনোভাবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আজমুনকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন।
ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে একাই ৫৭টি গোল করা সর্দার আজমুন দীর্ঘদিন ধরে দেশটির আক্রমণভাগের সবচেয়ে প্রধান ও নির্ভরযোগ্য ভরসা ছিলেন। তবে রাজনৈতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের কারণে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মিশনে এই অভিজ্ঞ গোলদাতাকে ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুন কৌশলে এগোতে হচ্ছে দলটিকে। আগামী ১১ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। এর আগে মাঠের বাইরের নানামুখী আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বকাপে ইরানের সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে এক বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ইরান দল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মেক্সিকোতে নিজেদের প্রধান বেস ক্যাম্প বা আবাসন ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
মেক্সিকোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এর আগে এক বিতর্কিত দাবি করে জানিয়েছিলেন যে, ভূরাজনৈতিক বৈরিতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিজেদের মাটিতে স্বাগতিক দেশ হিসেবে সরাসরি গ্রহণ করতে এক প্রকার অনীহা ও অনীহাপ্রকাশ করেছিল। ঠিক এই জটিল কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই মেক্সিকোকে মূল কেন্দ্র বানিয়ে এখন তাদের দেশের মাটিতেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে ইরান দল। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নেবে তারা, যার সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ২১ জুন ইউরোপের পরাশক্তি বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে এবং ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে উত্তর আফ্রিকার দেশ মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান।
দল থেকে সর্দার আজমুন বাদ পড়ার মতো বড় ধাক্কা খেলেও ইরানের এই চূড়ান্ত স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি রাখেনি ম্যানেজমেন্ট। দলে আক্রমণভাগের হাল ধরতে এখনও বহাল আছেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি এবং ব্রাইটনের প্রাক্তন উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবাখশ। ৩৩ বছর বয়সী তারেমি বর্তমানে গ্রিসের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন, আর অন্যদিকে জাহানবাখশ খেলছেন বেলজিয়ামের শীর্ষ ঘরোয়া ক্লাব ডেন্ডারের জার্সি গায়ে।
চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ইরানের চূড়ান্ত ফুটবল দলটি নিচে তুলে ধরা হলো:
গোল সামলানোর মূল দায়িত্বে থাকছেন আলিরেজা বেইরানভান্দ, সৈয়দ হোসেইন হোসেইনি এবং পায়াম নিয়াজমান্দ। রক্ষণভাগ বা ডিফেন্স লাইনে থাকছেন দানিয়াল এইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হার্দানি, হোসেইন কানায়ানি, শোজা খালিলজাদেহ, মিলাদ মোহাম্মাদি, আলি নেমাতি এবং রামিন রেজায়িয়ান। মাঝমাঠ বা মিডফিল্ডের আক্রমণ ও রক্ষণ সচল রাখতে ডাক পেয়েছেন রুজবেহ চেশমি, সাইদ এজাতোলাহি, মেহদি ঘায়েদি, সামান ঘোদ্দোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবি, আমির মোহাম্মদ রাজ্জাঘিনিয়া, মেহদি তোরাবি এবং আরিয়া ইউসেফি। আর প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাতে ফরোয়ার্ড বা আক্রমণভাগে সর্দার আজমুনের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন আলি আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ, মেহদি তারেমি এবং শাহরিয়ার মোঘানলু।

আপনার মতামত লিখুন