দিকপাল

বহুল আলোচিত রামিসা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ | ১০:০২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বহুল আলোচিত রামিসা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই সংবেদনশীল মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এমন একটি বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আদালত এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা পুরো দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এর আগে গত সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আলোচিত এই মামলাটির অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সম্পন্ন হয়। শুনানির বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গঠন করে মামলার মূল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজ মঙ্গলবার অর্থাৎ জুনের দুই তারিখ দিন ধার্য করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করে শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে মামলাটি সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়ে পরবর্তী আইনি ধাপের জন্য দিন ঠিক করে দেন।

আদালতের নথিপত্র এবং মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত চব্বিশে মে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত অভিযোগপত্র বা চার্জশিটটি আমলে নিয়েছিলেন বিজ্ঞ বিচারক। এরপর পহেলা জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তের পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, চিকিৎসকদের দেওয়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ল্যাব থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ফরেনসিক আলামতকে ভিত্তি করেই এই মামলার অভিযোগপত্রটি নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, অকালে ঝরে যাওয়া শিশু রামিসা আক্তার রাজধানীর মিরপুর এলাকার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী ছিল। গত উনিশে মে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে প্রতিদিনের মতোই খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও সে ঘরে ফিরে না আসায় তার মা অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে চারদিকে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ভবনেরই প্রতিবেশী একটি ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার সামনে শিশু রামিসার একটি পায়ের স্যান্ডেল অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে তীব্র সন্দেহ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে প্রতিবেশীর সেই বন্ধ দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়ে এবং অনবরত ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়াশব্দ না পেয়ে নিরূপায় হয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ভেতরে ঢোকার পর তারা যে দৃশ্য দেখেন, তা সহ্য করার মতো ছিল না। ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে শিশু রামিসার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয় বলে মামলার নথিতে অত্যন্ত নির্মমভাবে উল্লেখ রয়েছে।

এমন রোমকূপ খাড়া করা নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পল্লবী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘর থেকে স্বপ্না আক্তার নামের এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তা এবং নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ঘটনার মূল হোতা ও প্রধান পলাতক আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই নির্মম ও পৈশাচিক শিশু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে পুরো পল্লবী এলাকায় এখনো তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকুতি বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বহুল আলোচিত রামিসা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই সংবেদনশীল মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এমন একটি বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আদালত এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা পুরো দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এর আগে গত সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আলোচিত এই মামলাটির অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সম্পন্ন হয়। শুনানির বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গঠন করে মামলার মূল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজ মঙ্গলবার অর্থাৎ জুনের দুই তারিখ দিন ধার্য করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করে শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে মামলাটি সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়ে পরবর্তী আইনি ধাপের জন্য দিন ঠিক করে দেন।

আদালতের নথিপত্র এবং মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত চব্বিশে মে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত অভিযোগপত্র বা চার্জশিটটি আমলে নিয়েছিলেন বিজ্ঞ বিচারক। এরপর পহেলা জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তের পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, চিকিৎসকদের দেওয়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ল্যাব থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ফরেনসিক আলামতকে ভিত্তি করেই এই মামলার অভিযোগপত্রটি নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, অকালে ঝরে যাওয়া শিশু রামিসা আক্তার রাজধানীর মিরপুর এলাকার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী ছিল। গত উনিশে মে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে প্রতিদিনের মতোই খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও সে ঘরে ফিরে না আসায় তার মা অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে চারদিকে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ভবনেরই প্রতিবেশী একটি ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার সামনে শিশু রামিসার একটি পায়ের স্যান্ডেল অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে তীব্র সন্দেহ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে প্রতিবেশীর সেই বন্ধ দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়ে এবং অনবরত ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়াশব্দ না পেয়ে নিরূপায় হয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ভেতরে ঢোকার পর তারা যে দৃশ্য দেখেন, তা সহ্য করার মতো ছিল না। ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে শিশু রামিসার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয় বলে মামলার নথিতে অত্যন্ত নির্মমভাবে উল্লেখ রয়েছে।

এমন রোমকূপ খাড়া করা নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পল্লবী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘর থেকে স্বপ্না আক্তার নামের এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তা এবং নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ঘটনার মূল হোতা ও প্রধান পলাতক আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই নির্মম ও পৈশাচিক শিশু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে পুরো পল্লবী এলাকায় এখনো তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকুতি বিরাজ করছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল