দিকপাল

বিশ্বকাপের খেলায় আসছে চার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ | ০১:২১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের খেলায় আসছে চার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

আসন্ন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের চিরচেনা চিরন্তন নিয়মে এক বিশাল এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড যৌথভাবে খেলার গতিকে আরও বেগবান করতে, অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ক্ষেপণ রুখতে, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সম্পূর্ণ নতুন চারটি নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের সুবিধার্থে এই নতুন নিয়মগুলো বাস্তবসম্মত উদাহরণসহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

ম্যাচের শেষ দিকে বা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার সময় সাধারণত দেখা যায় এগিয়ে থাকা দলগুলো নানা কৌশলে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করে। বিশ্ব ফুটবলের নতুন এই নিয়মের কারণে এখন থেকে সেই চিরচেনা সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে যুক্ত হওয়া আইন অনুযায়ী, কোনো দলের গোলরক্ষক এখন থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আট সেকেন্ডের বেশি সময় বল ধরে রাখতে পারবেন না। একইভাবে মাঠের বাইরে থেকে বল ভেতরে ছোড়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি করলে বলের মালিকানা সরাসরি প্রতিপক্ষ দলের কাছে চলে যাবে। এছাড়া মাঠ থেকে কোনো খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে নতুন খেলোয়াড় নামানোর ক্ষেত্রে যদি ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সেই বদলি খেলোয়াড় মাঠে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে মাঠের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক; ধরা যাক কোনো ম্যাচে ব্রাজিল এক-শূন্য গোলে এগিয়ে রয়েছে। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এসে দলের গোলরক্ষক অ্যালিসন ইচ্ছাকৃতভাবে বল নিজের হাতে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখলেন। নতুন আইন অনুযায়ী রেফারি তখন ব্রাজিলকে গোল কিক মারার সুযোগ না দিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে সরাসরি পেনাল্টি বক্সের কোণ থেকে কর্নার কিক নেওয়ার সুযোগ দেবেন। আবার কোনো খেলোয়াড় যদি মাঠ ছাড়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে হাঁটেন অথবা বদলি খেলোয়াড় সময়মতো মাঠে ঢুকতে না পারেন, তবে সেই দলটিকে সাময়িকভাবে একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে মাঠের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এর ফলে পুরো ম্যাচের গতি যেমন সচল থাকবে, তেমনই কৃত্রিমভাবে সময় নষ্ট করার প্রবণতা পুরোপুরি কমে আসবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিং বা ভিডিও রেফারি প্রযুক্তিকে এবার আরও বেশি শক্তিশালী ও বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহার করছে ফিফা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো খেলোয়াড়কে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেওয়ার মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্তও ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করে নেওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, মাঠের লাইনের বাইরে বল চলে যাওয়ার পর সেটি কর্নার কিক হবে নাকি গোল কিক হবে, সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোতেও এখন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির সরাসরি সহায়তা নেওয়া সম্ভব হবে। ধরা যাক, আর্জেন্টিনার কোনো এক খেলোয়াড় ম্যাচের মাঝে রেফারি কর্তৃক দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন, যার অর্থ তাকে মাঠ ছাড়তে হবে। পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী মাঠের মূল রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হতো এবং সেখানে ভুলের অবকাশ থেকে যেত। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিডিও প্রযুক্তির কক্ষ থেকে নিখুঁতভাবে দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে ফাউলটি আসলেই কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল কি না। আবার বল কার পায়ে লেগে মাঠের বাইরে গেছে, তা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কও প্রযুক্তির সাহায্যে নিখুঁতভাবে সমাধান করা হবে। ফলস্বরূপ, মাঠের রেফারির ওপর থেকে মানসিক চাপ যেমন কমবে, তেমনই ভুল সিদ্ধান্তের হার কমে ম্যাচগুলো আরও বেশি নিরপেক্ষ হয়ে উঠবে।

আগামী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। সেখানকার চরম ও তীব্র গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের শারীরিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ফিফা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলকভাবে একটি করে তিন মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে বিশ্রামের বিরতি দেওয়া হবে। আবহাওয়া খুব বেশি গরম না থাকলেও এই নিয়মটি প্রতিটি ম্যাচেই সমানভাবে কার্যকর থাকবে। যেমন মেক্সিকোর তীব্র গরমের মধ্যে দুপুরের দিকে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা খুব দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাই ম্যাচের ৩০ মিনিট পার হওয়ার পর রেফারি সাময়িকভাবে খেলা থামিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের পানি পানের এবং ক্লান্তি দূর করার সুযোগ করে দেবেন। এই মানবিক নিয়মের কারণে মাঠের ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বজায় থাকবে, হিটস্ট্রোক বা শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফুটবলের চিরচেনা গতি ধরে রাখা সহজ হবে।

ফুটবল মাঠে প্রায়শই একটি চেনা দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে বা রেফারির সাথে কথা বলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। এই কৌশলের আড়ালে অনেকেই প্রতিপক্ষকে গোপনে আপত্তিকর বা বর্ণবাদী মন্তব্য করেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। এবার এই অপসংস্কৃতি দূর করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে মুখ ঢেকে কোনো ধরনের বর্ণবাদী বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে খেলোয়াড়কে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হবে। কোনো খেলোয়াড় যদি হাত দিয়ে মুখ লুকিয়ে প্রতিপক্ষের কোনো ফুটবলারকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করেন এবং পরবর্তীতে যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে রেফারি কোনো প্রকার সহানুভূতি না দেখিয়ে তাকে সরাসরি মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেবেন। এক্ষেত্রে খেলোয়াড় বা দলের কোনো ধরনের আপত্তি বা ওজর খাটবে না। এর ফলে মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের পারস্পরিক আচরণে যেমন সতর্কতা আসবে, তেমনই ফুটবল থেকে বর্ণবাদ ও অপমানজনক আচরণের মতো কালো দাগ দূর হয়ে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার মতে, আধুনিক ফুটবলকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, নিখুঁত এবং দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে। বিশেষ করে খেলা চলাকালীন সময় নষ্ট করা এবং মাঠের রেফারিদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে যে সমালোচনা হতো, তা দূর করতেই কঠোর নিয়মের সাথে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, ২০২৬ সালের এই মহোৎসব শুধু দলগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ বা তারকাদের লড়াইয়ের মঞ্চই নয়, বরং ফুটবলের নতুন নিয়মের এক যুগান্তকারী পরীক্ষাগার হিসেবেও ক্রীড়া ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বিশ্বকাপের খেলায় আসছে চার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

আসন্ন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের চিরচেনা চিরন্তন নিয়মে এক বিশাল এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড যৌথভাবে খেলার গতিকে আরও বেগবান করতে, অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ক্ষেপণ রুখতে, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সম্পূর্ণ নতুন চারটি নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের সুবিধার্থে এই নতুন নিয়মগুলো বাস্তবসম্মত উদাহরণসহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

ম্যাচের শেষ দিকে বা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার সময় সাধারণত দেখা যায় এগিয়ে থাকা দলগুলো নানা কৌশলে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করে। বিশ্ব ফুটবলের নতুন এই নিয়মের কারণে এখন থেকে সেই চিরচেনা সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে যুক্ত হওয়া আইন অনুযায়ী, কোনো দলের গোলরক্ষক এখন থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আট সেকেন্ডের বেশি সময় বল ধরে রাখতে পারবেন না। একইভাবে মাঠের বাইরে থেকে বল ভেতরে ছোড়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি করলে বলের মালিকানা সরাসরি প্রতিপক্ষ দলের কাছে চলে যাবে। এছাড়া মাঠ থেকে কোনো খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে নতুন খেলোয়াড় নামানোর ক্ষেত্রে যদি ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সেই বদলি খেলোয়াড় মাঠে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে মাঠের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক; ধরা যাক কোনো ম্যাচে ব্রাজিল এক-শূন্য গোলে এগিয়ে রয়েছে। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এসে দলের গোলরক্ষক অ্যালিসন ইচ্ছাকৃতভাবে বল নিজের হাতে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখলেন। নতুন আইন অনুযায়ী রেফারি তখন ব্রাজিলকে গোল কিক মারার সুযোগ না দিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে সরাসরি পেনাল্টি বক্সের কোণ থেকে কর্নার কিক নেওয়ার সুযোগ দেবেন। আবার কোনো খেলোয়াড় যদি মাঠ ছাড়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে হাঁটেন অথবা বদলি খেলোয়াড় সময়মতো মাঠে ঢুকতে না পারেন, তবে সেই দলটিকে সাময়িকভাবে একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে মাঠের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এর ফলে পুরো ম্যাচের গতি যেমন সচল থাকবে, তেমনই কৃত্রিমভাবে সময় নষ্ট করার প্রবণতা পুরোপুরি কমে আসবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিং বা ভিডিও রেফারি প্রযুক্তিকে এবার আরও বেশি শক্তিশালী ও বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহার করছে ফিফা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো খেলোয়াড়কে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেওয়ার মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্তও ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করে নেওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, মাঠের লাইনের বাইরে বল চলে যাওয়ার পর সেটি কর্নার কিক হবে নাকি গোল কিক হবে, সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোতেও এখন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির সরাসরি সহায়তা নেওয়া সম্ভব হবে। ধরা যাক, আর্জেন্টিনার কোনো এক খেলোয়াড় ম্যাচের মাঝে রেফারি কর্তৃক দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন, যার অর্থ তাকে মাঠ ছাড়তে হবে। পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী মাঠের মূল রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হতো এবং সেখানে ভুলের অবকাশ থেকে যেত। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিডিও প্রযুক্তির কক্ষ থেকে নিখুঁতভাবে দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে ফাউলটি আসলেই কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল কি না। আবার বল কার পায়ে লেগে মাঠের বাইরে গেছে, তা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কও প্রযুক্তির সাহায্যে নিখুঁতভাবে সমাধান করা হবে। ফলস্বরূপ, মাঠের রেফারির ওপর থেকে মানসিক চাপ যেমন কমবে, তেমনই ভুল সিদ্ধান্তের হার কমে ম্যাচগুলো আরও বেশি নিরপেক্ষ হয়ে উঠবে।

আগামী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। সেখানকার চরম ও তীব্র গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের শারীরিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ফিফা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলকভাবে একটি করে তিন মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে বিশ্রামের বিরতি দেওয়া হবে। আবহাওয়া খুব বেশি গরম না থাকলেও এই নিয়মটি প্রতিটি ম্যাচেই সমানভাবে কার্যকর থাকবে। যেমন মেক্সিকোর তীব্র গরমের মধ্যে দুপুরের দিকে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা খুব দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাই ম্যাচের ৩০ মিনিট পার হওয়ার পর রেফারি সাময়িকভাবে খেলা থামিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের পানি পানের এবং ক্লান্তি দূর করার সুযোগ করে দেবেন। এই মানবিক নিয়মের কারণে মাঠের ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বজায় থাকবে, হিটস্ট্রোক বা শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফুটবলের চিরচেনা গতি ধরে রাখা সহজ হবে।

ফুটবল মাঠে প্রায়শই একটি চেনা দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে বা রেফারির সাথে কথা বলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। এই কৌশলের আড়ালে অনেকেই প্রতিপক্ষকে গোপনে আপত্তিকর বা বর্ণবাদী মন্তব্য করেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। এবার এই অপসংস্কৃতি দূর করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে মুখ ঢেকে কোনো ধরনের বর্ণবাদী বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে খেলোয়াড়কে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হবে। কোনো খেলোয়াড় যদি হাত দিয়ে মুখ লুকিয়ে প্রতিপক্ষের কোনো ফুটবলারকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করেন এবং পরবর্তীতে যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে রেফারি কোনো প্রকার সহানুভূতি না দেখিয়ে তাকে সরাসরি মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেবেন। এক্ষেত্রে খেলোয়াড় বা দলের কোনো ধরনের আপত্তি বা ওজর খাটবে না। এর ফলে মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের পারস্পরিক আচরণে যেমন সতর্কতা আসবে, তেমনই ফুটবল থেকে বর্ণবাদ ও অপমানজনক আচরণের মতো কালো দাগ দূর হয়ে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার মতে, আধুনিক ফুটবলকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, নিখুঁত এবং দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে। বিশেষ করে খেলা চলাকালীন সময় নষ্ট করা এবং মাঠের রেফারিদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে যে সমালোচনা হতো, তা দূর করতেই কঠোর নিয়মের সাথে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, ২০২৬ সালের এই মহোৎসব শুধু দলগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ বা তারকাদের লড়াইয়ের মঞ্চই নয়, বরং ফুটবলের নতুন নিয়মের এক যুগান্তকারী পরীক্ষাগার হিসেবেও ক্রীড়া ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল